ফি ৭০০ টাকা, সেবা ২ মিনিটের
মৌলভীবাজারে চিকিৎসকদের চেম্বারে চরম ভোগান্তি ও প্রাইভেসি লঙ্ঘনের অভিযোগ
মৌলভীবাজারে বেসরকারি চেম্বারগুলোতে রোগীদের কাছ থেকে চড়া ভিজিট নেওয়া হলেও কাঙ্ক্ষিত সেবা ও ন্যূনতম ব্যক্তিগত গোপনীয়তা (প্রাইভেসি) না পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি জেলা শহরের ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের গাইনোকোলজি কনসালট্যান্ট ডা. ইসমাত জাহানের প্রাইভেট চেম্বারে চিকিৎসা নিতে গিয়ে এক রোগীর চরম হেনস্তা ও ভোগান্তির শিকার হওয়ার ঘটনা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এ নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী রোগীদের অভিযোগ— চড়া ফি দিয়ে সেবা নিতে এসেও তাদের পশুর মতো গাদাগাদি করে চেম্বারে ঢুকতে হচ্ছে। চিকিৎসকরা মাত্র দুই মিনিটে নামমাত্র রোগী দেখেই গাদা গাদা টেস্ট ধরিয়ে দিচ্ছেন।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করে এক নারী ভুক্তভোগী জানান, তিনি ৭০০ টাকা ভিজিট দিয়ে ওই নারী চিকিৎসকের ব্যক্তিগত চেম্বারে সেবা নিতে যান। কিন্তু ভেতরে ঢোকার পর দেখেন সেখানে গোপনীয়তা বজায় রাখার কোনো বালাই নেই।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, "এত টাকা দিয়ে টিকিট কাটার পরও আমাদের মতো রোগীদের একসাথে কয়েকজনকে পশুর মতো এক চেম্বারে ঢুকানো হয়। সেখানে একজন রোগীর শারীরিক সমস্যার কথা অন্য সবার সামনে বলতে বাধ্য হতে হয়, যা অত্যন্ত লজ্জাজনক ও মানবাধিকার লঙ্ঘন। এত টাকা দিয়েও আমাদের কোনো প্রাইভেসি নেই।"
ক্ষুব্ধ রোগীরা জানান, দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষার পর চিকিৎসকের মুখোমুখি হওয়ার সুযোগ মেলে মাত্র ২ মিনিটের জন্য। ভুক্তভোগীদের দাবি, চিকিৎসকরা রোগীদের শারীরিক ও মানসিক সমস্যাগুলো মনোযোগ দিয়ে শোনার চেয়ে প্রেসক্রিপশনে পরীক্ষা-নিরীক্ষার (মেডিকেল টেস্ট) লম্বা তালিকা ধরিয়ে দিতেই বেশি ব্যস্ত থাকেন। এটি কোনো সুচিকিৎসা নয়, বরং প্রকাশ্য "ব্যবসায়িক সিন্ডিকেট" ছাড়া আর কিছুই নয়।
এই ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর মৌলভীবাজারের সচেতন মহলে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকরা যখন বাইরে এসে ব্যক্তিগত চেম্বার খোলেন, তখন তাদের ন্যূনতম পেশাদার নৈতিকতা বজায় রাখা উচিত। চিকিৎসাকে মহৎ পেশা না বানিয়ে যারা নিছক ব্যবসায় পরিণত করেছেন, তাদের বর্জন করার আহ্বান জানিয়েছেন অনেক ভুক্তভোগী। একই সাথে শহরের অন্যান্য মানবিক ও দক্ষ চিকিৎসকদের প্রতি আস্থা রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন তারা।
সাধারণ মানুষের দাবি, মৌলভীবাজারের বেসরকারি ক্লিনিক ও চিকিৎসকদের এই স্বেচ্ছাচারিতা এবং রোগীদের অবমূল্যায়ন ঠেকাতে স্থানীয় প্রশাসন এবং স্বাস্থ্য বিভাগের দ্রুত কঠোর নজরদারি ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা প্রয়োজন। রোগীদের অধিকার ও প্রাইভেসি রক্ষা করে সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে অনতিবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া এখন সময়ের দাবি।
মীর্জা ইকবাল
মন্তব্য করুন: