দিপংকর মারডুক এর কবিতা ‘অপরাহ্ন আসে আমার বোকা দেবদারুগাছের সন্নিকটে’

গুচ্ছ কবিতা

দিপংকর মারডুক এর কবিতা ‘অপরাহ্ন আসে আমার বোকা দেবদারুগাছের সন্নিকটে’

প্রথম ডেস্ক

১৮/০৭/২০২৬ ০১:০৭:০৮

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

অভিকর্ষ টান দেখে আমি ভাবলাম

কেন ন্যায়, দরকার এবং

অন্ধকার অতিক্রম করব বলে

এই মেঘনাদিনকে ভালোবাসলাম?

যদিও সে নীল অপরাজিতা

কিংবা পেরেক ঢুকে যাওয়া সহজ শীলকাঠ নয়;

ব্যবহার করে করে ঘন অরণ্যের

দিকে কিছুকাল আবহমণ্ডল করতে চেয়েছি।

ঘ্রাণ—লোহিত রক্তকণিকা যা যা

উপবিষ্ট জগৎ মদনে

ঋতুঘাসে সম্পর্কস্থাপন করে যাব অতি স্থুল।

ছোট ছরা শুকিয়ে হয় বালুময়

আলোর মেলামেশা আছে

এসব বোধ বন্ধ রাখি চর্তুদিকে

অথচ বিহ্বল দৃশ্যে পুরুষ মৌমাছির জন্য

উঁচু কারণ নিয়ে আসে তোমার পুনরাবৃত্তি—


আকার পিছনে ফেলে আসো তুমি

এদিকে অধিকাংশ ক্ষেত্র বাঁধে নিজের চন্দ্রশাঁখ

যত সতত ধুতরাবীজ—নোনা সমুদ্রের কণ্ঠ

তাম্রযুগে বাষ্পীভূত হয় আলাদা আলাদা

এই ওৎপাতা

শতচিহ্নের ফুসফুস তাড়িত সমস্ত মেঘের সীমানা

অতঃপর আমি ঘুরে চলি

ধ্যানযজ্ঞ করতে গিয়ে গত তিন রাত

চোখে আসে আয়নাবিজ্ঞান;

দ্যাখো—দেখাও

ঠোঁটে তোমার কার প্রিজমের দাগ?

মাটি, শিহরণ প্রলেপে ম্লান করে দিতে পারি

কিংবা রক্তমুহূর্তের সুরমা নদী

তাকিয়ে যদি শোনো তৃণরূপের ভঙ্গি

নগরের অবুঝ রোদ তত্ত্বীয় হবে বিষাদে


অন্ধকূপ থেকে পড়ে গেছি সে সময়

তুমি উদ্ভিদের নিশানায় সার্বভৌম নিয়ম

লিখে তপ্ত গ্রহে পাঠাও।

জানি, এসব কিছুই নয়!

নির্ভয়ের জীবাশ্ম জলযাত্রা এবং কি আকাশমুদ্রা!

বিকল জ্ঞান, পদ্মমণির শব্দ আমার আছে

অন্তঃসার; এই জীবন বিন্দুবিষয়

সমর্পণ করা দীর্ঘ লেলিহান থেকে

সংগ্রহ করেছি পোষমানা সর্বনাশের অযোনিপৃথিবী

যেখানে তুমি অন্তিম সুর তুলে দিয়েছো

পাহাড়জনিত  সমান্তরাল সরলরেখার ছিন্নত্বক হতে

মোমের ছাপে— ব্যগ্র উরুর বির্যে—

এখন অসংখ্য শিউলি পাতা ঝরছে নিকষিত

পুষ্টিগর্ভে— বেদনায় ফাঁপা কর্কশ স্তনে উন্মুক্ত—


মেঘাচ্ছন্ন ছোট টিলা আঁকড়ে ধরে চেয়েছি শুধু

চরাচর ভরা রুগন হরিণের উচ্ছ্বাস।

অগ্নিদগ্ধ রাত—লাইনটানা পুঞ্জির চিত্রনাট্য, জানি

দিয়েছো তুমি একাকী— প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষে,

যার সর্বত্র ভাঙা আতাগাছ

এবং উদঘাটিত ভোরের চিক্কন রক্তস্নান।

সামান্য বাগান হামাগুড়ি দেয়

যখন খালি থাকে আলোকবর্ষের ছায়া

ও জ্বলজ্বল করা দুর্দান্ত সবুজের বিছানা;

এই যে শঙ্খচূড়, ভাবচক্র— উপস্থাপন করে

হ্যাঁ, বহুবিধ ভরকেন্দ্র মাড়িয়ে তোমার নিকট এসেছি

তীক্ষ্ণ তার ফলা, বিভক্তি থেকে প্রতি অংশে

যা পিরামিডাকৃতির বাঁধভাঙা ব্রিজের সমতল


শোননি কথা, গ্লাসের টুকরো ভেঙে

ত্বকের দিনে গিয়েছি জোছনা হাতে রেখে এই

শুশ্রূষা মুক্ত বাগবাড়ি—

বিচ্ছিন্ন ছিল চোখের পলক, নগরক্ষেত্রের

পাশ কেটে যাওয়া শাদা ধূলির কণাসহ

ডোরাকাটা সমস্ত প্রাগৈতিহাসিক লামাবাজার;

তুমি আর্শীবাদ করো আজ প্রবলে

পুনরায় চূর্ণবিচূর্ণ যেন হতে পারি—, স্ফীত

কোনো ব্যক্তিগত মেরুদণ্ডের কাছে পৌঁছে;

আমার আছে মেঘরঙা এক মিথের যাত্রা

জং ধরে না, নেঙটি ইঁদুরে কাটে না; বরং

বটগাছের মতো হাজার পায়ে ফুটাতে পারি ময়ূরফুল।

প্রথম সিলেট সাহিত্য ডেস্ক

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad