প্রথম সিলেটের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের পর যাদুকাটায় নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন

তাহিরপুরে সাংবাদিকতার আড়ালে চাঁদাবাজি

প্রথম সিলেটের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের পর যাদুকাটায় নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন

সজল আহমেদ

০৯/০৭/২০২৬ ১৮:৪৮:৪৯

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার যাদুকাটা নদী থেকে অবৈধ বালু উত্তোলন এবং চাঁদাবাজির সিন্ডিকেটে স্থানীয় সংবাদকর্মী হাবিব সারোয়ার আজাদের নাম বারবার উঠে আসায় এলাকায় তীব্র আলোচনা-সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে। নদী থেকে চাঁদা উত্তোলনের সাথে জড়িত থাকার তালিকায় একাধিকবার গণমাধ্যমে তাঁর নাম আসায় স্থানীয় সংবাদকর্মীদের মধ্যেও এক ধরনের বিব্রতকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

যাদুকাটা নদীতে অবৈধ কর্মকাণ্ডের বিষয়ে প্রাপ্ত তথ্যের আলোকে ‘প্রথম সিলেট ডট কম’-এ ধারাবাহিক অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের পর নড়েচড়ে বসেছে স্থানীয় প্রশাসন ও সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসন। এই ঘটনার পর যাদুকাটা নদী থেকে অবৈধ বালু উত্তোলনকারী ও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুল।

https://www.youtube.com/@prothomsylhet-y3d/shorts


তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, এত কিছুর পরও এলাকায় এই চক্রের তৎপরতা থামেনি। সরাসরি এলাকায় না এলেও সহযোগীদের মাধ্যমে কার্যক্রম সচল রাখা হয়েছে। স্থানীয় এক বাল্কহেডের মালিক জানান, “আজাদ সাহেব এখন এলাকায় আসেন না, তবে তাঁর লোকজনই নদী এলাকায় সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করছে।”


অনুসন্ধানে জানা যায়, তাহিরপুরে আজাদের পক্ষে বালুমহাল থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে আলিম উদ্দিন ও কিরণ রায় নামে দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এ বিষয়ে আলিম উদ্দিনের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি প্রথমে টালবাহানা করলেও পরে বিনয়ের সুরে বলেন, “আমি গরিব মানুষ, আমার নাম দিয়ে আমার কোনো ক্ষতি করবেন না।” তবে ভিডিওতে টাকা তোলার দৃশ্যের ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আগের বিষয় আমি বলতে পারব না। কে ভিডিও করেছে জানি না। এখন আমি আর নদীতে যাই না।” এদিকে অপর অভিযুক্ত কিরণ রায় বলেন, “টাকা তোলার বিষয়টি আলিমই ভালো বলতে পারবে।” তবে টাকা বণ্টনের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি মুঠোফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।


অন্যদিকে, যাদুকাটা নদীতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কাজে ড্রেজার মেশিন ব্যবহারের তথ্য পাওয়া গেছে। এমনকি যাদুকাটার ওপর নির্মাণাধীন ‘শাহ আরফিন ও অদ্বৈত মৈত্রী সেতু’র পিলার ও গার্ডার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পেছনেও এই অবৈধ ড্রেজার চলাচলকে দায়ী করছেন স্থানীয়রা। স্থানীয় বাসিন্দা আবুল হোসেনসহ অনেকের অভিযোগ, একদিকে ড্রেজারের তাণ্ডব, অন্যদিকে নদী থেকে অবৈধ চাঁদা আদায়—যাদুকাটা নদীতে এখন নিত্যদিনের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।


উল্লেখ্য, যাদুকাটা নদীর বালুমহালকে সরকার ইজারার সুবিধার্থে দুটি অংশে বিভক্ত করেছে—‘যাদুকাটা-১’ (মেসার্স তাহিয়া স্টোন) এবং ‘যাদুকাটা-২’ (মেসার্স জিনান এন্টারপ্রাইজ)। ইজারার শর্ত অনুযায়ী, নদীতে সনাতন পদ্ধতিতে বালু উত্তোলন করতে হবে এবং নির্ধারিত রয়্যালটি আদায় করতে হবে। তবে অভিযোগ রয়েছে, বাড়তি মুনাফার লোভে শর্ত অমান্য করে শত শত অবৈধ ড্রেজার ও সেভ মেশিন দিয়ে নদীর পাড় কেটে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে, যা নদীর পরিবেশ ও স্থানীয় অবকাঠামোকে চরম হুমকির মুখে ফেলছে।


এ বিষয়ে অভিযুক্ত সাংবাদিক হাবিব সারোয়ার আজাদের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলে তাঁর কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। (সমাপ্ত)

তাহির আহমদ/ মীর্জা ইকবাল

মন্তব্য করুন: