‘অবসর পেলেই সেখানে ছুটে যেতে ইচ্ছা করে’
নাম বদলেছে, কিন্তু দেশ তো বদলে যায়নি। ‘তুর্কি’ বা ‘তুরস্ক’ যা-ই বলি, সেই দেশটি প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের হাতছানি এড়ানো যায় না। এক চিলতে অবসর পেলেই সেখানে ছুটে যেতে ইচ্ছা করে। তাইতো আরও একবার ঘুরে এলাম এশিয়া-ইউরোপের মধ্যস্থলের এই দেশটিতে। ইস্তাম্বুলের সমুদ্রঘেঁষা পাহাড়ের কোলে বসে কাটিয়ে এলাম কিছু মুহূর্ত, যা কখনও ভুলে যাওয়ার নয়।
অটোমান সাম্রাজ্যের বহু স্থাপনা এখনও স্বমহিমায় দাঁড়িয়ে আছে এই দেশটিতে। তোপকাপি প্রাসাদ, রুমেলি হিসারি দুর্গ, ডলমাবাহচে প্রাসাদ, পিয়েরি লোটি হিল, গ্রান্ড বাজার, নৌ ভ্রমণের জন্য আকর্ষণীয় বসফরাস ক্রুজ, হাগিয়া সোফিয়া, সুলতানাহমেট স্কয়ার থেকে শুরু করে আরও কত কী যে আছে দেখার, তা এককথায় বলে শেষ করা যাবে না। সে কারণে সফরের প্রথম দিন থেকে অন্যরকম এক রোমাঞ্চের স্বাদ পেয়েছি।
২০২৩ সালে যখন ইস্তাম্বুল যাই, তখন যেমন মুগ্ধতা ছিল চোখেমুখে, এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। চেনা পথ আরও একবার মাড়িয়েছি, তবু সবকিছুই যেন নতুন বলে মনে হয়েছে। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরা নিজ দেশটাকে যেমন ভালোবাসি, তেমনি তুরস্কের প্রতি আছে এক ধরনের ভালো লাগা। যে পা রাখলেই গুনগুনিয়ে উঠি প্রিয় সেই গানটি– ঐ দূর পাহাড়ের ধারে...।
মডেল ও অভিনেত্রী বলে শুটিংয়ের জন্য বেশকিছু দেশ ভ্রমণের সুযোগ হয়েছে। কিন্তু সেটুকু আমার পরিব্রাজক মনের তৃষ্ণা মেটায়নি। যেজন্য যখনই সুযোগ পেয়েছি, উদ্যোগী হয়েছি পৃথিবীর কোনো না কোনো প্রান্তে ছুটে যাওয়ার। উড়াল মন তাই বেশি কিছু না ভেবেই বেরিয়ে পড়েছে এক মহাদেশ থেকে আরেক মহাদেশে পাড়ি দেওয়ার জন্য। এভাবেই ছুটে গেছি উত্তর আমেরিকার যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা অঞ্চলের সবচেয়ে বড় দেশ অস্ট্রেলিয়া, জাপান থেকে শুরু আর মরুদেশ সংযুক্ত আরব আমিরাতের বহু শহরে। পাশের দেশ কলকাতায় গেছি বহুবার। প্রতিটি সফরই ছিল দারুণ। মুম্বাই ঘুরে মনে হয়েছে, স্পষ্ট হয়েছে, বাঙালি আর মারাঠিতে পার্থক্য কতটা। ভারত সফরও তাই অঞ্চলভেদে প্রতিবার নতুন বলে মনে হয়েছে।
কানাডায় গেছি একাধিকবার। ‘ফোবানা’য় অংশ নিতে গত বছরও গিয়েছিলাম। শীতপ্রধান এই দেশে তুষার দৌড়ে বেড়ানো যেমন আনন্দের, তেমনি আকর্ষণীয় নায়াগ্রা ফলসের বিশাল জলরাশির আছড়ে পড়া দেখার। বরফ পড়া দেখার আরেকটি অন্যরকম অভিজ্ঞতা ছিল জাপান সফরে গিয়ে। মাউন্ট ফুজির সামনে দাঁড়িয়ে মনে হয়েছিল, প্রকৃতির কাছে আমরা কতই না সাধারণ।
জাপানের মতো অস্ট্রেলিয়ার সিডনি, মেলবোর্নও আমাকে বারবার হাতছানি দিয়ে ডাকে। পৃথিবীর সবচেয়ে বড় শহর লন্ডন ভ্রমণে গিয়েও দারুণ সব অভিজ্ঞতা হয়েছে, যা স্বল্প পরিসরে তুলে ধরা কঠিন। সেই সফরের গল্প না হয়, অন্য একদিন বলব। স্মৃতির ঝাঁপি খুলে শোনাব অন্যান্য সফরের গল্প।
আর আর
মন্তব্য করুন: