আব্বাসী হুজুরকে জিহবা সংযত করার পরামর্শ ফাহিম আল চৌধুরীর
মুফতি এনায়েতুল্লাহ আব্বাসীর সাম্প্রতিক বিভিন্ন উগ্র বক্তব্য, কঠোর ভাষা এবং ঢালাওভাবে ফতোয়া দেওয়ার প্রবণতা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশিষ্ট সমাজসেবক এবং 'ফাহিম আল চৌধুরী ট্রাস্ট'-এর প্রতিষ্ঠাতা ফাহিম আল চৌধুরী। গতকাল ১৬ জুলাই নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক খোলা চিঠিতে তিনি মুফতি আব্বাসীকে উদ্দেশ্য করে ইসলামের প্রজ্ঞা, সংযম এবং নম্রতার বার্তা স্মরণ করিয়ে দেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার এই বক্তব্যটি ইতিমধ্যেই নেটিজেনদের মধ্যে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি করেছে।
ফাহিম আল চৌধুরী তার চিঠিতে সাম্প্রতিক বন্যা পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে বলেন, দেশ যখন সংকটে, তখন বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ানো দেশের অন্যতম শীর্ষ আলেম এবং আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের মানবিক উদ্যোগ নিয়ে মুফতি আব্বাসী যেভাবে প্রকাশ্যে সমালোচনা করেছেন, তা অত্যন্ত দুঃখজনক ও নিন্দনীয়। বক্তব্যের ভাষা ও উপস্থাপন দেখে এটিকে কোনোভাবেই গঠনমূলক সমালোচনা বলা যায় না, বরং এটি ছিল স্পষ্ট ব্যক্তিগত আক্রমণ, মানবিক কাজকে নিরুৎসাহিত করার অপচেষ্টা এবং ব্যক্তিগত ঈর্ষার বহিঃপ্রকাশ।
মুফতি আব্বাসীর প্রতি পূর্ণ সম্মান রেখেই ফাহিম আল চৌধুরী বলেন, "একজন আলেমের সবচেয়ে বড় অলংকার তাঁর জ্ঞান নয়, তাঁর আদব, সংযম এবং তাকওয়া। আর সেই কারণেই আমার বিনীত অনুরোধ, আপনার জিহ্বাকে আরও সংযত করুন।" তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, যেভাবে সুস্থ ও স্বাভাবিক আলোচনার বাইরে গিয়ে ঢালাওভাবে মানুষকে কাফের-মুরতাদ ফতোয়া দেওয়া হচ্ছে এবং আক্রমণাত্মক ভাষা ব্যবহার করা হচ্ছে, তাতে মনে হয় এনায়েত উল্লাহ আব্বাসীকে মানসিক চিকিৎসা করানো দরকার।
এই ধরণের কাদা-ছোড়াছুড়ির ফলে সবচেয়ে বড় ক্ষতি হচ্ছে তরুণ প্রজন্মের— এমন আশঙ্কার কথা জানিয়ে ফাহিম আল চৌধুরী বলেন, "আজ আমাদের তরুণ প্রজন্ম বিভ্রান্ত হচ্ছে। যারা ইসলামকে ভালোবেসে দ্বীনের পথে আসতে চায়, তারা অনুপ্রাণিত হওয়ার পরিবর্তে নিরুৎসাহিত ও বিভ্রান্ত হয়ে পড়ছে। তারা দ্বীনের সৌন্দর্য নয়, বরং আলেমদের পরস্পরের প্রতি বিদ্বেষ, বিভাজন ও দোষারোপই বেশি দেখছে। এভাবে মানুষকে দ্বীনের দিকে আহ্বান করা যায় না, বরং অনেককে দ্বীন থেকে মানসিকভাবে দূরে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে।"
ফাহিম আল চৌধুরী একটি হাদিস উল্লেখ করে বলেন: — "যে ব্যক্তি আল্লাহ ও আখিরাতে বিশ্বাস রাখে, সে যেন উত্তম কথা বলে অথবা নীরব থাকে।"
এনায়েতুল্লাহ আব্বাসীর প্রয়াত পিতা জৈনপুরের পীর সাহেব একজন সর্বজনস্বীকৃত এবং অত্যন্ত সম্মানিত আলেম ছিলেন উল্লেখ করে ফাহিম আল চৌধুরী বলেন, পিতার যোগ্য উত্তরাধিকারী হিসেবে আব্বাসীর মাঝেও সেই ধৈর্য, বিনয় এবং প্রশস্ত হৃদয়ের প্রতিফলন থাকা উচিত ছিল। কিন্তু বর্তমান সময়ে তাঁর আচরণ ও অহংকারে সেই প্রজ্ঞার চরম অভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে।
বক্তব্যের শেষ অংশে তিনি সহিহ বুখারি শরীফের হাদিস স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, একজন দাঈর শক্তি তাঁর কণ্ঠের উচ্চতায় নয়, বরং তাঁর চরিত্র, হিকমত ও ভাষার সৌন্দর্যে। ইসলামের ভুল ব্যাখ্যা কিংবা উগ্রতার পরিবর্তে সমাজে শান্তি ও সৌহার্দ্য বজায় রাখতে এবং আলেমদের মধ্যে ঐক্য ফেরাতে আলেম সমাজকে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।
মীর্জা ইকবাল
মন্তব্য করুন: