সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলে ধানের দামে ধস: কাঁচা ধান বিক্রি হচ্ছে অর্ধেক দামে
Led Bottom Ad

সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলে ধানের দামে ধস: কাঁচা ধান বিক্রি হচ্ছে অর্ধেক দামে

নিজস্ব প্রতিনিধি,সুনামগঞ্জ

২২/০৪/২০২৬ ২২:৩৩:০০

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

সরকার ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে প্রতি মণ ধানের দাম ১ হাজার ৪৪০ টাকা নির্ধারণ করলেও সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলের কৃষকরা তার অর্ধেক দামও পাচ্ছেন না। মধ্যনগরসহ জেলার বিভিন্ন হাওরে বর্তমানে কাঁচা ধান বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৬৫০ থেকে ৭০০ টাকা মণ দরে, যা উৎপাদন খরচের চেয়েও অনেক কম। ফলে বাম্পার ফলন হলেও ধানের ন্যায্যমূল্য না পেয়ে চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন হাজার হাজার কৃষক।

স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে অতিবৃষ্টির কারণে সুনামগঞ্জের অনেক হাওরের প্রায় ৩০ শতাংশ জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। জলাবদ্ধতার কারণে অনেক জমিতে আধুনিক হারভেস্টার মেশিন ব্যবহার করা যাচ্ছে না। এর ওপর জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি এবং তীব্র শ্রমিক সংকটের কারণে ধান কাটা ও মাড়াইয়ের খরচ আকাশচুম্বী হয়ে পড়েছে। অনেক ক্ষেত্রে ধান কাটা ও পরিবহনের খরচ ধানের বিক্রয়মূল্যের সমান হয়ে দাঁড়িয়েছে। মধ্যনগর ধান বাজারে রোদ না থাকায় ধান শুকাতে না পেরে এবং ক্রেতা সংকটে কৃষকরা নামমাত্র দামে ধান বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। আড়ৎ কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক বরুণ সরকার জানান, বাজারে ক্রেতা কম এবং রোদ না থাকায় মানসম্মত ধান পাওয়া যাচ্ছে না, ফলে ভালো মানের ধানও সর্বোচ্চ ১ হাজার টাকার বেশি দামে কেনা সম্ভব হচ্ছে না।

বোয়ালা ও টগার হাওরের কৃষকরা অভিযোগ করেছেন, সরকারি ধান ক্রয় কার্যক্রম মাঠ পর্যায়ে কার্যকর না হওয়ায় মধ্যস্বত্বভোগী ও সিন্ডিকেটের কবলে পড়েছেন তাঁরা। গুদামে ধান দিতে গেলে নানা হয়রানির শিকার হতে হয় বলেও দাবি তাঁদের। এ বিষয়ে একটিভিস্ট ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক মো. নিজাম উদ্দিন বলেন, বাজার সিন্ডিকেট ভাঙতে ইউনিয়ন পর্যায়ে পর্যাপ্ত সরকারি ক্রয়কেন্দ্র স্থাপন এবং সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ধান সংগ্রহ নিশ্চিত করা জরুরি।

এদিকে, গত ২১ এপ্রিল জাতীয় সংসদে সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুল কৃষকদের এই দুর্দশার চিত্র তুলে ধরে ধানের দাম ১ হাজার ৫০০ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করেছেন। যদিও ধর্মপাশা ও মধ্যনগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আসয়াদ বিন খলিল রাহাত দাবি করেছেন, প্রকৃত কৃষকদের তালিকা প্রস্তুত করে সরকারিভাবে ধান সংগ্রহ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তবে মাঠ পর্যায়ের বাস্তবতা বলছে, দ্রুত ও ব্যাপক পরিসরে সরকারি ক্রয় শুরু না হলে প্রান্তিক কৃষকদের ঋণের বোঝা আরও ভারী হবে।


এ রহমান

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad
Led Bottom Ad