সড়ক ও সেতুর অভাবে ভোগান্তি চরমে
দোয়ারাবাজারে বাঘড়া যেন অবহেলিত এক জনপদ
সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার সদর ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের বাঘড়া গ্রামটি যেন আধুনিক বাংলাদেশের বুকে এক অবহেলিত জনপদ। স্বাধীনতার দীর্ঘ সময় পার হলেও উন্নয়নের ছোঁয়া না পৌঁছানোয় যোগাযোগ ব্যবস্থার অভাবে হাজার হাজার মানুষ এখানে প্রতিনিয়ত চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, একটি কার্যকর রাস্তার অভাবে এলাকাটি মূল ভূখণ্ড থেকে প্রায় বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছে। বর্ষা মৌসুমে কাঁচা রাস্তাটি কর্দমাক্ত হয়ে কাদার সাগরে পরিণত হয়, আর শুষ্ক মৌসুমেও তা চলাচলের অযোগ্য থাকে। ফলে কোনো যানবাহন গ্রামে প্রবেশ করতে পারে না, যা স্থবির করে দিয়েছে জনজীবন। গ্রামবাসী নিজেদের অর্থায়নে ঝুঁকিপূর্ণ কাঠের সেতু তৈরি করে কোনোমতে যাতায়াত করলেও তা অত্যন্ত বিপজ্জনক।
গ্রামের বাসিন্দা রশিক মিয়া তাঁর মর্মান্তিক অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে বলেন, "রাস্তার অভাবে সময়মতো হাসপাতালে নিতে না পারায় আমার বাবাকে হারাতে হয়েছে। এই কষ্ট ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।"
তোতা মিয়া নামের অপর এক বাসিন্দা জানান, অসুস্থ রোগী, বৃদ্ধ বা গর্ভবতী নারীদের হাসপাতালে নেওয়ার জন্য কাঁধে তুলে কাদার পথ পাড়ি দিতে হয়। অনেক সময় পথেই রোগীর অবস্থা আশঙ্কাজনক হয়ে পড়ে।
স্থানীয় মাওলানা কালাম মিয়ার মতে, যাতায়াতের অভাবে এই অঞ্চলের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড পুরোপুরি ব্যাহত হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বর্ষায় যাতায়াতের পথগুলো আরও ভয়ংকর হয়ে ওঠে। একটি জনবসতিপূর্ণ এলাকায় নিরাপদ রাস্তা বা কালভার্ট না থাকায় এটি এখন মানবিক সংকটে রূপ নিয়েছে। গ্রামবাসীর দাবি একটি টেকসই পাকা রাস্তা এবং নিরাপদ ব্রিজ নির্মাণ করা হলে বদলে যাবে এলাকার চিত্র, উন্মোচিত হবে নতুন সম্ভাবনার দ্বার।
এ বিষয়ে দোয়ারাবাজার উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) অরুপ রতন সিংহ জানান, "বাঘড়া এলাকার যোগাযোগ সমস্যাটিকে আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। সংশ্লিষ্ট বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে সেখানে টেকসই সমাধানের জন্য প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।"
জনস্বার্থে দ্রুততম সময়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: