ইসরায়েল-লেবানন ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি কার্যকর
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে অবশেষে বৃহস্পতিবার থেকে ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় এই চুক্তি সম্পন্ন হয় এবং তিনি জানান, স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে প্রথমবারের মতো ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন হোয়াইট হাউসে বৈঠকে বসতে পারেন।
বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, গ্রিনিচ মান সময় ২১টা থেকে এই বিরতি শুরু হয়েছে। ট্রাম্প তাঁর ‘ট্রুথ সোশ্যাল’ প্ল্যাটফর্মে এই চুক্তিকে ঐতিহাসিক হিসেবে উল্লেখ করে জানিয়েছেন, হিজবুল্লাহকেও এই বিরতির আওতাভুক্ত করা হয়েছে এবং লেবানন এই গোষ্ঠীটির নিরস্ত্রীকরণ ও নির্মূলে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়েছে।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের ইরানে হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে এই সংঘাতের সূচনা হয়, যাতে লেবাননে দুই হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং প্রায় ১০ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এই যুদ্ধবিরতিকে ‘ঐতিহাসিক শান্তিচুক্তির’ সুযোগ হিসেবে দেখলেও দক্ষিণ লেবাননের সীমান্তে ১০ কিলোমিটার ‘নিরাপত্তা অঞ্চল’ বজায় রাখার ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, হিজবুল্লাহর নিরস্ত্রীকরণই হবে স্থায়ী শান্তির পূর্বশর্ত। অন্যদিকে, লেবাননের সাধারণ মানুষ এই যুদ্ধবিরতিকে স্বাগত জানালেও কেউ কেউ ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর সদিচ্ছা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।
হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইসরায়েল হামলা বন্ধ রাখলে তারাও সতর্কতার সঙ্গে এই বিরতি মেনে চলবে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মতে, ইরানের সঙ্গে বৃহত্তর যুদ্ধ অবসানের আলোচনার অংশ হিসেবেই এই কৌশলগত বিরতি কার্যকর হলো। হোয়াইট হাউস আশা করছে, আগামী চার-পাঁচ দিনের মধ্যে দুই দেশের শীর্ষ নেতাদের সফরের মধ্য দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী শান্তির পথ প্রশস্ত হবে।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: