সিলেটের ছিনতাই প্রবণতা: নাগরিক নিরাপত্তা ও গণমাধ্যম-প্রতিবাদের দ্বন্দ্ব
Led Bottom Ad

সিলেটের ছিনতাই প্রবণতা: নাগরিক নিরাপত্তা ও গণমাধ্যম-প্রতিবাদের দ্বন্দ্ব

আশিস রহমান,নিজস্ব প্রতিবেদক

০৫/০৪/২০২৬ ১৪:৪০:৫১

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

সিলেট মহানগরী বর্তমানে এক অস্থির পরিস্থিতির মুখোমুখি। একের পর এক ছিনতাই ও চুরি-লুটের ঘটনা নগরবাসীর মধ্যে ভয় ও উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। মোটরসাইকেল ও সিএনজি অটোরিকশা ব্যবহার করে সশস্ত্র চক্র নগরীর বিভিন্ন এলাকায় সাধারণ মানুষ, পথচারী ও যাত্রীর কাছ থেকে টাকা, মোবাইল এবং মূল্যবান সামগ্রী ছিনিয়ে নিচ্ছে। পুলিশে গোয়েন্দা নজরদারি ও থানা পুলিশের উপস্থিতি থাকলেও এই অপরাধগুলো প্রতিরোধ করতে পারছে না।


সম্প্রতি ঘটে যাওয়া দুটি ঘটনা এই উদ্বেগকে আরও তীব্র করেছে। জালালাবাদ ও আম্বরখানা এলাকায় দুই সাংবাদিক – রায়হান উদ্দিন এবং ওহি আলম রেজা – সিএনজি ছিনতাইকারীর শিকার হন। একজন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন, আর অন্যজন আইনী পদক্ষেপ নিচ্ছেন। সাধারণ নাগরিকদের মতো সাংবাদিকরাও নিরাপদ নয়, যা প্রমাণ করে সিলেটের সড়কগুলোতে অপরাধীরা ক্রমশ বেপরোয়া হয়ে উঠছে।


তবে পুলিশ দাবি করছে, কিছু ঘটনা সংবাদমাধ্যমে অপপ্রচারিত হচ্ছে; ব্যক্তিগত বিরোধ বা মারামারিকে ছিনতাই হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। পুলিশ কমিশনার গণমাধ্যমকে সতর্ক করেছেন, যাচাইবিহীন সংবাদ প্রচারকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এই সতর্কবার্তা নাগরিকদের জন্য নিরাপত্তা নিশ্চিতে উপকারী হলেও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও তথ্যের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে।


নাগরিক নিরাপত্তা এবং তথ্যের সত্যতা—উভয়ই এই পরিস্থিতিতে অপরিহার্য। যদি সত্যিই ছিনতাই ঘটে, তা জনসাধারণের কাছে যথাযথভাবে তুলে ধরা উচিত। অন্যদিকে, ভুল বা অর্ধসত্য তথ্য পরিবেশন করলে এটি শুধু জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করে না, বরং পুলিশ ও মিডিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতাকেও ক্ষুণ্ণ করে।


সিলেটের পরিস্থিতি স্পষ্ট করে দেখাচ্ছে যে, অপরাধ প্রতিরোধে পুলিশকে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে এবং গণমাধ্যমকে দায়িত্বশীল ও যাচাই-বাছাই করা সংবাদ পরিবেশন করতে হবে। উভয়পক্ষের সমন্বিত প্রয়াস ছাড়া নাগরিকরা নিরাপদে চলাফেরা করতে পারবে না এবং শহরের সাধারণ মানুষ সত্য তথ্য থেকে বঞ্চিত হবে। সুতরাং, এই মুহূর্তে সঠিক তথ্য, সচেতনতা এবং দায়িত্বশীল আচরণই একমাত্র পথ যা সিলেটের নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে।


গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী শনিবার (৪ এপ্রিল) ভোরে টুকেরবাজারের তেমুখী এলাকায় সাংবাদিক রায়হান উদ্দিন আহত হন। তিনি অভিযোগ করেছেন, সিএনজি অটোরিকশায় থাকা তিনজন ছিনতাইকারী তাকে মারধর করে নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়েছে। রক্তাক্ত জখম অবস্থায় তিনি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। পুলিশ তার দাবি নিয়ে ভিন্ন অবস্থান নিয়েছে; তাদের দাবি, এটি কোনো ছিনতাই নয়, বরং সিএনজি ভাড়া নিয়ে কথা কাটাকাটির জেরে মারধর হয়েছে। পুলিশ ফেসবুকে সতর্কবার্তা দিয়েছেন, মিডিয়ায় যাচাইবিহীন সংবাদ প্রচার না করতে।


পুলিশি দাবীর বিপরীতে রায়হান উদ্দিন পুনরায় নিশ্চিত করেছেন যে, তিনি ছিনতাইয়ের শিকার হয়েছেন। তিনি বলেন, “সিএনজি চালকরা পুলিশকে মিথ্যা তথ্য দিয়েছে। আমার মাথা ও নাকে আঘাত, রক্তমাখা জখম—এগুলো কেউ আড়াল করতে পারবে না। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করলে সত্য উদ্ঘাটিত হবে।”


পুলিশের একই সতর্কবার্তায় তালতলা ও তেমুখীর পূর্বের ঘটনার কথাও উল্লেখ করা হয়। সেখানে ব্যক্তিগত বিরোধের জেরে মারামারির ঘটনাকে মিডিয়ায় ‘ছিনতাই’ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। তবে নগরের অন্যান্য এলাকা যেমন আম্বরখানা, হাউজিং এস্টেট ও সাগরদিঘির পারেও ছিনতাই ও হামলার ঘটনা ঘটেছে, সিসিটিভি ফুটেজ ভাইরাল হলেও অভিযুক্তদের অধিকাংশকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।


এ সব ঘটনা স্পষ্ট করে দেখাচ্ছে যে, সিলেটে অপরাধ দমন, তথ্য প্রচার এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সমন্বয়হীনতা ও দায়িত্বহীনতা প্রকট। সাংবাদিকরা, পথচারী এবং সাধারণ নাগরিকরা এখন নিরাপদ নন। পুলিশকে কার্যকর ও স্বচ্ছ পদক্ষেপ নিতে হবে এবং গণমাধ্যমকে দায়িত্বশীল, যাচাই-বাছাই করা সংবাদ পরিবেশন করতে হবে। নাগরিক নিরাপত্তা ও সত্য তথ্য নিশ্চিত করার জন্য উভয়পক্ষের সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া সিলেটের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে।

ডি আর ডি

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad
Led Bottom Ad