দোয়ারাবাজারে পলাতক শিক্ষককে স্কুলে ফেরানোর চেষ্টায় শিক্ষার্থীদের বাঁধা
Led Bottom Ad

শিক্ষার্থীদের সাথে অনৈতিক আচরণের অভিযোগ

দোয়ারাবাজারে পলাতক শিক্ষককে স্কুলে ফেরানোর চেষ্টায় শিক্ষার্থীদের বাঁধা

মোঃ মাসুদ রানা সোহাগ, নিজস্ব প্রতিনিধি, দোয়ারাবাজার

০৮/০৪/২০২৬ ১৭:২৫:০৯

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলায় শিক্ষার্থীর সাথে অনৈতিক আচরণের অভিযোগে অভিযুক্ত এক শিক্ষককে কর্মস্থলে ফেরানোর চেষ্টা রুখে দিয়েছে শিক্ষার্থীরা। বুধবার (৮ এপ্রিল) সকালে দোয়ারাবাজার সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ে এই ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অনৈতিক আচরণের অভিযোগে ছাত্র-ছাত্রী ও এলাকাবাসীর আন্দোলনের মুখে দোয়ারাবাজার সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ে জীববিজ্ঞান শিক্ষক মো. সাখাওয়াত উল্লাহ মারুফ ২০২৩ সালের জুন মাসে কর্মস্থল থেকে পালিয়ে যান। এর প্রায় তিনবছর পর আজ (৮ এপ্রিল) তিনি বিদ্যালয়ে প্রবেশ করলে সাধারণ শিক্ষার্থীরা তাকে ঘিরে ধরে বিক্ষোভ শুরু করে। এ সময় শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে তাকে অবরোধ করে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভা করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানায়। পরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে দোয়ারাবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অরুপ রতন সিং ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের শান্ত করেন এবং অবরুদ্ধ শিক্ষক সাখাওয়াত উল্লাহ মারুফকে উদ্ধার করে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে যান।

শিক্ষার্থীরা জানান, ওই শিক্ষকের আচরণ দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্কিত ছিল। শিক্ষার্থীদের সাথে যৌন হয়রানি ও অনৈতিক কর্মকান্ডে তিনি জড়িত ছিলেন কিন্তু সামাজিক মর্যাদার ভয়ে কেউ মুখ খোলার সাহস পায়নি। ২০২৩ সালে এক শিক্ষার্থীর সাথে অনৈতিক আচরণের ঘটনা জানাজানি হয়ে গেলে এরপর থেকেই শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা আন্দোলনে নামে। সম্প্রতি তাকে একটি মহল আবারো কর্মস্থলে ফেরানোর পাঁয়তারা করছে।

তবে অভিযুক্ত শিক্ষক মো. সাখাওয়াত উল্লাহ মারুফ নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বলেন, “আমার বিরুদ্ধে ভিকটিম এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ করেনি। আমি ষড়যন্ত্রের শিকার। আমার জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে ২০২৩ সালে স্থানীয় আওয়ামী সেচ্চাসেবক লীগের এক নেতা ও আমার প্রতিষ্ঠানের তিনজন শিক্ষক রাজনৈতিক দাপট দেখিয়ে আমাকে প্রতিষ্ঠান থেকে সরাতে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলে এবং ভুল বুঝিয়ে আমার বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদেরকে উত্তেজিত করে। ওই সময় প্রশাসনের প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদনেও অভিযোগের পক্ষে আমার কোনো সংশ্লিষ্টতা খোঁজে পায়নি তদন্ত কমিটি। এরপরও আমি প্রায় তিন বছর ধরে কর্মস্থলে যেতে পারিনি। আজকে কর্মস্থলে গেলে আমাকে অবরুদ্ধ করা হয়। আমি এখন নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছি। আমি হাইকোর্টে রুল করেছি। আশাকরি আমি ন্যায় বিচার পাব।”

ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক অজয় কুমার দাস জানান, শিক্ষক মো. সাখাওয়াত উল্লাহ মারুফ প্রায় তিন বছর ধরে বিদ্যালয়ে আসেননি। আজকে তিনি বিদ্যালয়ে আসলে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করে। পরে ইউএনও ও পুলিশ প্রশাসন এসে পরিস্থিতি শান্ত করে।

দোয়ারাবাজার থানার ওসি তরিকুল ইসলাম তালুকদার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন অভিযুক্ত শিক্ষককে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে এবং এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে।

দোয়ারাবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অরুপ রতন সিং জানান, অভিযুক্ত শিক্ষক মো. সাখাওয়াত উল্লাহ মারুফের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ তদন্তাধীন থাকাবস্থায় তিনি কাউকে না জানিয়ে আজ সকালে কর্মস্থলে এসে উপস্থিত হন। এসময় শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ শুরু করলে আমরা ঘটনাস্থলে এসে ওই শিক্ষককে উদ্ধার করে পুলিশ হেফাজতে নিই। তদন্ত কার্যক্রম শেষ না হওয়া পর্যন্ত ও মাউশি থেকে পরবর্তী নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত তাকে কর্মস্থলে আসতে নিষেধ করেছি।

এ রহমান

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad
Led Bottom Ad