জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের চরম অবহেলা
শাল্লায় ফায়ার সার্ভিস রোডে এক বছর ধরে কাদা-পানির রাজত্ব
সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলার ফায়ার সার্ভিস রোডে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের চরম গাফিলতি ও অবহেলায় গত এক বছর ধরে জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। উপজেলার বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের প্রধান পাইপটি ফেটে গিয়ে সড়কে স্থায়ী জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে, যার ফলে জনগুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি এখন কাদা আর পচা পানির দখলে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার ফায়ার সার্ভিস রোডের বিশাল অংশজুড়ে পানি জমে থাকায় শাল্লা ও বাহাড়া ইউনিয়নের হাজার হাজার মানুষ প্রতিদিন নাজেহাল হচ্ছেন; বিশেষ করে স্কুল-কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের ইউনিফর্ম নষ্ট হওয়া থেকে শুরু করে পিচ্ছিল রাস্তায় আছাড় খেয়ে আহত হওয়ার ঘটনা নিত্যদিনের চিত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা রফিক মিয়া ও মোহাম্মদ আজিজ মিয়া তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সামান্য একটি পাইপ মেরামত করতে এক বছর সময় লাগা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অফিসের অযোগ্যতা ও গাফিলতিরই প্রমাণ দেয়, যার খেসারত দিতে হচ্ছে সাধারণ জনগণকে।
সড়কটির এই জরাজীর্ণ অবস্থার কারণে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পড়েছে ফায়ার সার্ভিসের জরুরি কার্যক্রম, কারণ অগ্নিকাণ্ড বা যেকোনো দুর্ঘটনায় ভারী যানবাহন নিয়ে দ্রুত যাতায়াত করা এখন প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। এছাড়া দীর্ঘদিনের জমে থাকা দুর্গন্ধযুক্ত পানি থেকে মশার উপদ্রব বৃদ্ধি পাওয়ায় এলাকায় পানিবাহিত রোগ ও ডেঙ্গুর আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী রাশেদুল ইসলাম ইতিপূর্বে দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দিলেও বাস্তবে তার কোনো প্রতিফলন দেখা যায়নি; এমনকি এক সপ্তাহ পার হয়ে গেলেও মাঠ পর্যায়ে কোনো মেরামতি কাজ শুরু হয়নি।
এ বিষয়ে শাল্লা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পিয়াস চন্দ্র দাস জানিয়েছেন যে, সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং জনস্বার্থে বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে।
ভুক্তভোগী এলাকাবাসীর দাবি, শুধুমাত্র মৌখিক আশ্বাসে আর কাজ হবে না, অবিলম্বে পাইপ মেরামত করে সড়কটি চলাচলের উপযোগী করতে হবে এবং দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: