হারিয়ে যাচ্ছে শত শত শিশুর ভবিষ্যৎ
সুনামগঞ্জে বরাদ্দ সংকটে এক যুগ ধরে বন্ধ ২৯ বিদ্যালয়
সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলায় এক সময় যে বিদ্যালয়গুলো শিক্ষক-শিক্ষার্থীর কলকাকলিতে মুখর থাকত, সেখানে আজ শুধুই নিস্তব্ধতা। নেদারল্যান্ডস সরকারের অর্থায়নে প্রত্যন্ত এলাকায় গড়ে ওঠা ২৯টি প্রাথমিক বিদ্যালয় দীর্ঘ এক যুগ ধরে বন্ধ হয়ে পড়ে আছে। অর্থ বরাদ্দ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ২০১৪ সাল থেকে তালা ঝুলেছে এসব প্রতিষ্ঠানে, ফলে শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত হচ্ছে কয়েক হাজার দরিদ্র পরিবারের শিশু।
জানা গেছে, হাওরপারের ও অবহেলিত জনপদের শিশুদের মাঝে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে ২০০৪ সালে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘এফআইভিডিবি’-এর মাধ্যমে নেদারল্যান্ডস সরকারের সহায়তায় এই বিদ্যালয়গুলো প্রতিষ্ঠা করা হয়। একেকটি বিদ্যালয় নির্মাণে তৎকালীন সময়ে ১১ থেকে ১৪ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছিল। স্থানীয় ধনাঢ্য ব্যক্তিদের দান করা জায়গায় নির্মিত এই বিদ্যালয়গুলোতে প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠদান করা হতো। শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে বই-খাতাসহ শিক্ষা উপকরণ দেওয়ায় বিদ্যালয়গুলো দ্রুতই জনপ্রিয় হয়ে ওঠে এবং দূরবর্তী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যাওয়ার কষ্ট লাঘব হয়।
তবে ২০১৪ সালে নেদারল্যান্ডস সরকারের অর্থায়ন বন্ধ হয়ে গেলে আকস্মিকভাবে বন্ধ হয়ে যায় পাঠদান। এতে উপজেলার ২৯টি বিদ্যালয়ের মধ্যে ২৬টিই পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। কর্মসংস্থান হারান কয়েকশ শিক্ষক এবং মাঝপথে পড়াশোনা থেমে যায় বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থীর। বর্তমানে রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে বিদ্যালয় ভবনগুলো জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে। অনেক জায়গায় মূল্যবান আসবাবপত্র ও দরজা-জানালা লুট হয়ে যাওয়ারও অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও সচেতন মহলের দাবি, সরকারি উদ্যোগে পুনরায় বিদেশি অর্থায়ন নিশ্চিত করা গেলে বা সরকারি ব্যবস্থাপনায় এসব স্কুল চালু করলে এলাকার দরিদ্র পরিবারের শিশুদের শিক্ষার পথ আবার সুগম হবে। বাগগাঁও গ্রামের বাসিন্দা ও ইউপি সদস্য কামাল হোসেন জানান, স্কুলগুলো যখন চালু ছিল, গ্রামের গরিব শিশুদের পড়াশোনা অনেক সহজ ছিল। এখন অনেক শিশু দূরের স্কুলে যেতে না পেরে ঝরে পড়ছে। জালালপুর গ্রামের জহির আহমেদ আক্ষেপ করে বলেন, স্কুল বন্ধ হওয়ার পর অনেক শিশু পড়াশোনা ছেড়ে শ্রমিকে পরিণত হয়েছে।
সুনামগঞ্জ এফআইভিডিবির আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক সালাহ উদ্দীন জানান, জেলার ছয়টি উপজেলায় মোট ১০৩টি স্কুলের মধ্যে সিংহভাগই বরাদ্দ না থাকায় বন্ধ রয়েছে। শান্তিগঞ্জ উপজেলায় মাত্র তিনটি স্কুল সংস্থার নিজস্ব তহবিলে চালু রাখা সম্ভব হয়েছে। বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আব্দুল মতিন খান এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে জানান, তিনি বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখবেন এবং স্কুলগুলো পুনরায় সচল করার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলবেন।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: