অর্ধশতক পেরিয়েও সেতু পায় নি জামালগঞ্জ, বাড়ছে দীর্ঘশ্বাস
স্বাধীনতার ৫৪ বছর পেরিয়েছে। বদলেছে দেশের অনেক কিছু। কিন্তু সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলার মানুষের জীবনে যেন সময় থমকে আছে সুরমা নদীর তীরে। এখনো একটি সেতুর অভাবে প্রতিদিন নদী পারাপারই তাঁদের নিয়তি।
উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নের কয়েক লাখ মানুষের কাছে সুরমা নদী শুধু একটি জলধারা নয়, এটি যেন প্রতিদিনের অনিশ্চয়তা আর ঝুঁকির আরেক নাম। নদীর ওপারেই হাসপাতাল, অফিস-আদালত, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান—জীবনের প্রয়োজনীয় সবকিছু। অথচ সেখানে পৌঁছাতে ভরসা শুধু খেয়া নৌকা।
স্থানীয়দের ভাষায়, “একটা সেতু আমাদের কাছে স্বপ্নের মতো।”
প্রতিদিন সকাল হলেই নদীর ঘাটে ভিড় বাড়ে। কেউ হাসপাতালে যাবে, কেউ স্কুলে, কেউ কাজে। কিন্তু নৌকা না এলে অপেক্ষাই একমাত্র উপায়। কখনো ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। কখনো জরুরি রোগীকে নিয়ে অসহায় হয়ে বসে থাকতে হয় নদীর পারে।
রাত নামলে এই দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়। অনেক সময় অসুস্থ রোগীকে নিয়ে নৌকা না পেয়ে বিপাকে পড়েন স্বজনরা। সময়মতো চিকিৎসা না পাওয়ার আশঙ্কা তাঁদের তাড়িয়ে বেড়ায়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে সেতুর প্রতিশ্রুতি মিলেছে, কিন্তু বাস্তবে কোনো কাজ শুরু হয়নি। নির্বাচন এলেই আশার আলো জ্বলে ওঠে, আবার তা নিভেও যায় দ্রুত।
একজন বাসিন্দার কথায়, “আমরা শুধু কথা শুনেছি, কাজ দেখিনি। একটা সেতু মানে আমাদের জন্য নিরাপদ জীবন।”
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভৌগোলিক বাস্তবতা ও জনসংখ্যার চাপ বিবেচনায় এখানে সেতু নির্মাণ এখন সময়ের দাবি। একটি সেতু হলে বদলে যেতে পারে পুরো এলাকার অর্থনীতি ও জীবনযাত্রা।
তবু প্রশ্ন রয়ে যায়—আর কতদিন অপেক্ষা করতে হবে জামালগঞ্জবাসীকে?
ডি আর ডি
মন্তব্য করুন: