নেপথ্যে বিশাল তেলসম্পদ
ভেনেজুয়েলাকে ৫১তম অঙ্গরাজ্য করার পরিকল্পনা ট্রাম্পের
ভেনেজুয়েলাকে যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম অঙ্গরাজ্য করার বিষয়টি ‘গুরুত্বসহকারে বিবেচনা’ করছেন বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার (১১ মে) ফক্স নিউজের উপস্থাপক জন রবার্টসের সঙ্গে এক ফোনালাপে তিনি এই চাঞ্চল্যকর ইচ্ছার কথা জানান। ফক্স নিউজের সংবাদদাতা বিল মেলুজিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মতে, ভেনেজুয়েলায় প্রায় ৪০ ট্রিলিয়ন ডলার সমমূল্যের বিশাল তেলসম্পদ রয়েছে এবং দেশটির সাধারণ মানুষ তাঁকে ‘ভালোবাসে’। তিনি বিশ্বাস করেন, ভেনেজুয়েলার এই সম্পদের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারলে বৈশ্বিক তেলের বাজারে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব বহুগুণ বেড়ে যাবে এবং চীনের মতো প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোর প্রভাব কমে আসবে। ট্রাম্পের এই মন্তব্য বিশ্বজুড়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এর আগে তিনি গ্রিনল্যান্ড ও কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব দিয়েও আলোচনায় এসেছিলেন। অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষক বিষয়টিকে ট্রাম্পের ‘রাজনৈতিক রসিকতা’ হিসেবে দেখলেও তাঁর সমর্থকরা মনে করছেন, এটি ভেনেজুয়েলার তেল উত্তোলনে যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি হস্তক্ষেপের একটি প্রাথমিক ধাপ হতে পারে।
উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে এক বিশেষ সামরিক অভিযানের মাধ্যমে ভেনেজুয়েলার তৎকালীন প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে গ্রেপ্তার করে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে আসা হয়। বর্তমানে ডেলসি রদ্রিগেজ দেশটির অন্তর্বর্তীকালীন নেতৃত্বের দায়িত্ব পালন করছেন। ট্রাম্প প্রশাসনের উদ্যোগে দীর্ঘ সাত বছর পর গত এপ্রিলের শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলার মধ্যে সরাসরি বিমান চলাচল পুনরায় শুরু হয়েছে। তবে মানবাধিকার পরিস্থিতির বিষয়ে এখনো গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছে বিভিন্ন সংগঠন। ফোরো প্যানালের তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে এখনো অন্তত ৪৫৪ জন রাজনৈতিক বন্দি রয়েছেন। ট্রাম্পের এই নতুন ‘অঙ্গরাজ্য’ করার প্রস্তাব দক্ষিণ আমেরিকার ভূ-রাজনীতিতে কী প্রভাব ফেলে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: