সরকারের উদাসীনতা এবং অকার্যকর নীতি
চামড়া সংগ্রহ না করার ঘোষণা সিলেট বিভাগের কওমি মাদ্রাসাগুলোর
আসন্ন ঈদুল আজহায় কোরবানির পশুর চামড়া সংগ্রহ না করার চূড়ান্ত ঘোষণা দিয়েছে সিলেট বিভাগের কওমি মাদ্রাসাগুলো। সোমবার (১১ মে) সিলেট মহানগরের সোবহানীঘাট এলাকার এদারা ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই সিদ্ধান্তের কথা জানায় সিলেট বিভাগীয় কওমি মাদ্রাসা সংরক্ষণ পরিষদ। নেতাদের অভিযোগ, সরকারের উদাসীনতা এবং অকার্যকর নীতির ফলে দেশের চামড়া শিল্প এখন ধ্বংসের মুখে, যা মাদ্রাসাগুলোর জন্য লাভের বদলে ‘বোঝা’ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন পরিষদের সদস্য সচিব মাওলানা মুশতাক আহমদ খান। তিনি বলেন, “২০১৩ সালের পর থেকে চামড়ার বাজারে ধারাবাহিক দরপতন শুরু হয়েছে। বর্তমানে চামড়া সংগ্রহ, লবণজাতকরণ ও পরিবহনে যে পরিমাণ ব্যয় হয়, বিক্রির মাধ্যমে সেই টাকাও উঠে আসছে না। এতে মাদ্রাসাগুলো প্রতি বছর বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, কওমি মাদ্রাসাগুলো দীর্ঘকাল ধরে কোরবানির চামড়ার অর্থের ওপর ভিত্তি করে তাদের এতিম ও দরিদ্র শিক্ষার্থীদের খরচ চালিয়ে আসলেও বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে এটি আর টেকসই নয়।
পরিষদ নেতাদের দাবি, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার চামড়া সংরক্ষণের জন্য লবণ সরবরাহ করলেও সিন্ডিকেট ভাঙতে না পারায় ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত হয়নি। মাওলানা মুশতাক আরও জানান, দেশের মোট চামড়ার প্রায় ৭১ শতাংশ কওমি মাদ্রাসার মাধ্যমেই সংগৃহীত হয়। তাই এই খাত রক্ষায় সরকারকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। ভবিষ্যতে পরিস্থিতির উন্নতি হলে এবং চামড়ার ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা হলে এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা হতে পারে বলেও জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন পরিষদের আহ্বায়ক মাওলানা আব্দুল বছীর সুনামগঞ্জী, যুগ্ম সচিব মাওলানা আহমদ কবীর আমকুনী, মাওলানা ইউসুফ আহমদ খাদিমানী, মাওলানা এনামুল হক বহরগ্রামীসহ সিলেটের শীর্ষস্থানীয় কওমি মাদ্রাসার দায়িত্বশীল ব্যক্তিবর্গ।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: