জামালগঞ্জে এক মাস ধরে ইউএনও নেই: প্রশাসনিক স্থবিরতায় চরম ভোগান্তি
সুনামগঞ্জের হাওরবেষ্টিত জামালগঞ্জ উপজেলায় দীর্ঘ এক মাস ধরে স্থায়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) না থাকায় প্রশাসনিক কাজে চরম অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। সরকারি সেবা, উন্নয়ন কর্মকাণ্ড, ত্রাণ বিতরণ ও হাওরের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তা কার্যক্রমসহ দাপ্তরিক সব ক্ষেত্রেই স্থবিরতা নেমে এসেছে। অভিভাবকহীন এই উপজেলায় প্রশাসনিক চেইন অব কমান্ড ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা।
জানা গেছে, গত ৯ এপ্রিল সাবেক ইউএনও মুশফিকীন নূর বদলি হয়ে চলে যাওয়ার পর থেকে পদটি শূন্য রয়েছে। এরপর বিপুল সিকদার ও মো. বরকত উল্লাহ নামে দুজনকে পৃথক প্রজ্ঞাপনে পদায়ন করা হলেও রহস্যজনক কারণে তাঁরা কেউ কর্মস্থলে যোগদান করেননি। বর্তমানে বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার ইউএনও আব্দুল মতিন খানকে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হলেও দুই উপজেলার কাজের চাপে তিনি জামালগঞ্জে নিয়মিত সময় দিতে পারছেন না। ফলে জন্মনিবন্ধন, ভূমির নামজারি, টিসিবি ও ভিজিএফ কার্যক্রমের ফাইল দিনের পর দিন আটকে থাকছে। বিশেষ করে অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে হাওরের বোরো ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে জোরালো কোনো তদারকি বা তালিকা প্রণয়ন না হওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে কৃষকদের মাঝে।
সাচনা বাজার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাসুক মিয়া ও ভীমখালি ইউপি চেয়ারম্যান আখতারুজ্জামান তালুকদার জানান, জামালগঞ্জের মতো একটি দুর্যোগপ্রবণ হাওর এলাকায় সার্বক্ষণিক প্রশাসনিক তৎপরতা অত্যন্ত জরুরি। কিন্তু পূর্ণাঙ্গ ইউএনও না থাকায় অনেক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া যাচ্ছে না, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে সাধারণ মানুষের ওপর। এ বিষয়ে অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা ইউএনও আব্দুল মতিন খান জানান, দুই জায়গায় দায়িত্ব পালন করতে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। তবে আশা করা যাচ্ছে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে জামালগঞ্জে নতুন একজন স্থায়ী ইউএনও যোগদান করবেন।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: