প্রকৃতির টানে, সম্পর্কের বন্ধনে বার্মিংহামে পূর্বনাটের ‘নাইওর চারামেলা’
Led Bottom Ad

প্রকৃতির টানে, সম্পর্কের বন্ধনে বার্মিংহামে পূর্বনাটের ‘নাইওর চারামেলা’

ইফতেখারুল হক পপলু , বার্মিংহাম থেকে

১১/০৫/২০২৬ ২৩:৩৭:৫৪

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

প্রবাসের ব্যস্ত নগরজীবনে একটু সবুজ, একটু মাটির গন্ধ আর মানুষের সঙ্গে মানুষের সম্পর্কের উষ্ণতা ফিরিয়ে আনতে ব্যতিক্রমী আয়োজন করেছে বার্মিংহামের সাংস্কৃতিক সংগঠন পূর্বনাট। ‘নাইওর চারামেলা’ নামে এই উদ্যোগে সবজির চারা ছড়িয়ে পড়ছে প্রবাসী বাঙালিদের ঘরে ঘরে—ঠিক যেন সিলেট অঞ্চলের চিরচেনা মায়ামাখা ‘নাইওর’ সংস্কৃতির নতুন রূপ।


রোববার বার্মিংহামের স্মল হিথ এলাকায় পূর্বনাট স্টুডিওর সামনের মাঠে আয়োজিত এ চারামেলা যেন এক টুকরো বাংলাদেশের আবহ তৈরি করেছিল। শিশুদের হাসি, মুখে রঙের আঁকিবুঁকি, হাতে ছোট ছোট চারা আর বড়দের ব্যস্ততা—সব মিলিয়ে দিনটি হয়ে ওঠে এক প্রাণের উৎসব।


এই আয়োজন শুধু চারা বিতরণ নয়, বরং আবেগ, স্মৃতি আর সম্পর্কেরও বিনিময়। পূর্বনাট পরিবারের প্রায় অর্ধশত সদস্য টানা দুই মাস ধরে নিজেদের ঘরে যত্নে লালন করেছেন বিভিন্ন প্রজাতির শত শত চারা। পরে সেগুলো তুলে দিয়েছেন অন্যের হাতে—ভালোবাসার উপহার হিসেবে।


আয়োজকদের ভাষায়, একটি চারা কখনো শুধু গাছ নয়; এটি বড় হতে থাকে সন্তানের মতো, পরিবারের সদস্যের মতো। তাই চারাকে বিদায় দেওয়ার মধ্যেও থাকে এক ধরনের টান, মায়া আর ফিরে আসার অপেক্ষা।


পূর্বনাটের পরিচালক মুরাদ খান বলেন, “নাইওর মানে শুধু বেড়াতে যাওয়া নয়, এটি সম্পর্কেরও নাম। আমরা চাই, এই চারাগুলো মানুষের ঘরে গিয়ে শুধু ফল-ফুলই না, সম্পর্কও তৈরি করুক। আজ যে চারা গেল, একদিন হয়তো সেটি ফল হয়ে, ফুল হয়ে কিংবা নতুন আত্মীয়তার বন্ধন হয়ে ফিরে আসবে।”


চারামেলায় অংশ নেওয়া অনেকে নিজেদের সংগ্রহে থাকা গাছের চারা বিনিময় করেন। কেউ শিখেছেন টব তৈরি, কেউ মাটি প্রস্তুতের কৌশল, আবার কেউ অভিজ্ঞ বাগানপ্রেমীদের কাছ থেকে পেয়েছেন পরিচর্যার পরামর্শ।


পূর্বনাটের আরেক পরিচালক রাজিব জেবতিক বলেন, “এই উদ্যোগ শুধু সবুজায়নের নয়, এটি মানুষকে মানসিক প্রশান্তির কাছেও নিয়ে যায়। প্রবাসে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্ম যেন প্রকৃতির সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করতে পারে, সেটিই আমাদের বড় লক্ষ্য।”


আয়োজকদের মতে, ‘নাইওর চারামেলা’ আসলে বছরজুড়ে চলা এক সবুজ যাত্রার শুরু। পরে ফুল-ফসলের সময় হবে ‘আগমনী’, আর ফসল ঘরে তোলার আনন্দে আয়োজন করা হবে ‘হারভেস্ট অ্যান্ড হারমনি’।


প্রবাসের ইট-কংক্রিটের শহরে তাই ছোট্ট একটি চারা হয়ে উঠছে ভালোবাসা, স্মৃতি আর মানুষে মানুষে সম্পর্ক গড়ার এক নতুন ভাষা।

ডি আর ডি

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad