ইজারা নিলেন মাহবুব কাদির শাহী
পাঁচ দশক পর কাজির বাজার পশুর হাটের মালিকানা পরিবর্তন
সিলেটের দক্ষিণ সুরমার বরইকান্দির বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মকন মিয়ার হাত ধরে প্রায় ৫৫-৬০ বছর আগে শুরু হওয়া ঐতিহ্যের ‘কাজির বাজার পশুর হাট’ দীর্ঘ পাঁচ দশক পর নতুন ব্যবস্থাপনায় যাত্রা শুরু করেছে। উচ্চ আদালতের নির্দেশনার প্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসন হাটটি সিলেট সিটি করপোরেশনকে (সিসিক) বুঝিয়ে দেওয়ার পর, প্রথমবারের মতো এটি আনুষ্ঠানিকভাবে ইজারা দেওয়া হয়েছে। প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকায় (ভ্যাট-ট্যাক্সসহ) হাটটির ইজারা নিয়েছেন সিলেট মহানগর বিএনপির সহসভাপতি মাহবুব কাদির শাহী।
ঐতিহাসিকভাবে খানবাহাদুর এহিয়া ওয়াক্ফ এস্টেটের জায়গায় মকন মিয়া এই হাট শুরু করেছিলেন। তাঁর মৃত্যুর পর মেয়ে হামিদা খাতুনের নামে বন্দোবস্ত নিয়ে নাতি আফছর উদ্দিন দীর্ঘ সময় এটি পরিচালনা করেন। তবে সম্প্রতি সিসিকের ব্যবস্থাপনায় আসার পর নতুন করে ইজারা প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। শুক্রবার সরেজমিনে দেখা গেছে, নতুন ব্যবস্থাপনায় হাসিল আদায়ের কাজ শুরু হয়েছে। তবে সিলেটের সবচেয়ে জনপ্রিয় এই হাটের ঐতিহ্য ধরে রাখাই এখন নতুন ইজারাদারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে, আগে হাটের আয়তন ১০০ শতকের ওপরে থাকলেও বর্তমানে মাত্র ৫১ শতক জায়গা বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। জায়গা কমে যাওয়ায় পশুর সংকুলান এবং বাজার জমা নিয়ে বিপত্তির আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। কারণ, হাটের আশপাশের বাকি জায়গা ও স্থাপনাগুলো সাবেক ইজারাদার আফছর উদ্দিনের ব্যক্তি মালিকানাধীন।
সিলেট বিভাগের বড় পশুর হাটগুলোর মধ্যে ইজারা মূল্যের দিক থেকে কাজির বাজারই শীর্ষে। যেখানে ছাতকের জাউয়া বাজার ১ কোটি ৮৪ লাখ এবং জৈন্তাপুরের হরিপুর বাজার দেড় কোটি টাকায় ইজারা হয়েছে, সেখানে কাজির বাজার ইজারা গেছে ২ কোটি ৬১ লাখ টাকায় (ভ্যাট-ট্যাক্স বাদে)। ইজারাদার মাহবুব কাদির শাহী জানান, তাঁরা হাটের বন্দোবস্ত বুঝে পেয়ে ব্যবস্থাপনা শুরু করেছেন এবং স্থান সংকুলানের বিষয়টি সিটি করপোরেশন দেখবে বলে আশা করছেন। অন্যদিকে, সাবেক ইজারাদারের ম্যানেজার শাহাদত হোসেন লোলন জানিয়েছেন, তাঁরা হাটের নির্ধারিত ৫১ শতক জায়গা ছেড়ে দিয়েছেন, বাকি অংশ ব্যক্তিগত মালিকানাধীন।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: