সুনামগঞ্জে ধানের দামে ধস: উৎপাদন খরচের চেয়েও কমে ধান বিক্রি
সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলে বোরো ধানের বাম্পার ফলন হলেও ধানের নায্যমূল্য না পেয়ে লোকসানের মুখে পড়েছেন জেলার লক্ষাধিক কৃষক। প্রতি মণ ধান উৎপাদনে প্রায় ১ হাজার টাকা খরচ হলেও বর্তমানে হাওর এলাকায় শুকনো ধান মাত্র ৮০০ টাকা এবং ভেজা ধান ৬৫০ থেকে ৬৭০ টাকা মণ দরে বিক্রি হচ্ছে। ধানের বাজারমূল্য উৎপাদন খরচের চেয়েও কমে যাওয়ায় কৃষকদের মধ্যে চরম হাহাকার দেখা দিয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সরকারিভাবে ধানের মূল্য প্রতি মণ অন্তত ১ হাজার ৫০০ টাকা নির্ধারণের জন্য জাতীয় সংসদে খাদ্যমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে সুনামগঞ্জের ১৩৭টি হাওরে ২ লাখ ২৩ হাজার ৫১১ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। ধানের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে প্রায় ১৪ লাখ মেট্রিক টন, যার বাজারমূল্য প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা। বর্তমানে হাওরে পুরোদমে ধান কাটা চলছে এবং বুধবার সকাল পর্যন্ত প্রায় ৩০ হাজার হেক্টর জমির ধান কাটা শেষ হয়েছে। তবে বৈরী আবহাওয়ার কারণে ধান শুকানো এবং বাজারজাতকরণে বিপাকে পড়েছেন চাষিরা। দিরাই উপজেলার কৃষক দ্বীন ইসলাম মাসুদ জানান, গত বছর এই সময়ে ভেজা ধান ৮০০-৯০০ টাকায় বিক্রি হলেও এবার তা ৬৭০ টাকার বেশি দামে বিক্রি করা যাচ্ছে না। তাহিরপুর উপজেলার কৃষক রিপচান হাবিব আক্ষেপ করে বলেন, বিঘা প্রতি ১৫ হাজার টাকা খরচ করে যে ধান পাওয়া যাচ্ছে, তা বিক্রি করে উৎপাদন খরচই উঠছে না।
ধানের দাম কম হওয়ার বিষয়ে পাইকাররা জানিয়েছেন, আশুগঞ্জের বড় অটো রাইসমিল ও আড়তগুলোতে চাহিদা কম থাকায় বাজারে এর প্রভাব পড়েছে। অন্যদিকে, সুনামগঞ্জ জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক (অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত) এবিএম মুশফিকুর রহমান জানান, কৃষকদের ব্যয় বিবেচনা করে প্রতি কেজি ধানের মূল্য ৩৭ টাকা (মণ প্রতি ১৪৮০ টাকা) নির্ধারণের জন্য মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। ধানের মূল্য ও সরকারিভাবে ক্রয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণের বিষয়ে বুধবার মন্ত্রণালয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
কৃষি বিভাগ বলছে, ফলন ভালো হলেও প্রকৃতি বৈরী আচরণ করায় কৃষকদের কষ্ট বেড়েছে। দ্রুত সরকারি ক্রয় কার্যক্রম শুরু না হলে প্রান্তিক চাষিরা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হবেন। স্থানীয় চালকল মালিকরা জানিয়েছেন, সরকারি চুক্তির চাল সরবরাহ নিয়ে ব্যস্ত থাকায় কৃষকদের ধান আলাদাভাবে প্রক্রিয়া করে দেওয়ার সুযোগ তাদের হাতে নেই। ফলে সরকারি সিদ্ধান্তের দিকেই এখন চাতক পাখির মতো তাকিয়ে আছেন সুনামগঞ্জের কয়েক লাখ কৃষক।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: