সুনামগঞ্জে ড্রেনে পরে যাওয়া গরু উদ্ধার করল পুলিশ-ফায়ার সার্ভিস
পৌর শহরের মডেল মসজিদের পেছনের এক গভীর ও সংকীর্ণ ড্রেনে পড়ে যাওয়া একটি গরুকে দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ প্রশাসন। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় এক যৌথ অভিযানের মাধ্যমে ড্রেনসংলগ্ন দেয়ালের লোহার গ্রিলের নাটবল্টু খুলে বিশেষ ব্যবস্থায় গরুটিকে উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পৌর শহরের রাস্তায় ছেড়ে দেওয়া একটি বেওয়ারিশ গরু অসাবধানতাবশত মডেল মসজিদের পেছনের সংকীর্ণ ড্রেনে পড়ে আটকা পড়ে। ড্রেনটি অত্যধিক গভীর ও অপ্রশস্ত হওয়ায় গরুটি নিজে থেকে বের হতে পারছিল না। প্রথমে মসজিদের হুজুর ও স্থানীয়রা ব্যক্তিগত উদ্যোগে উদ্ধারের চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হন। পরবর্তীতে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে মসজিদের সহকারী ইমাম বিষয়টি সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রতন শেখকে টেলিফোনে অবহিত করেন।
খবর পাওয়ার পরপরই সদর মডেল থানার ওসি রতন শেখ ও ওসি (তদন্ত) দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। ড্রেনের ভৌগোলিক অবস্থান ও স্থানসংকটের কারণে সাধারণ উপায়ে গরুটিকে তোলা অসম্ভব অনুধাবন করে তাৎক্ষণিকভাবে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সকে খবর দেওয়া হয়। ফায়ার সার্ভিসের একটি চৌকস দল প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদিসহ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কাজ শুরু করে।
প্রাথমিক কৌশলে ব্যর্থ হওয়ার পর ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা বিকল্প পথ অবলম্বন করেন। তারা ড্রেনসংলগ্ন দেয়ালের লোহার গ্রিলের নাটবল্টু খুলে গ্রিলটি সরিয়ে নেন। এতে প্রয়োজনীয় জায়গা তৈরি হলে অত্যন্ত সতর্কতার সাথে গরুটিকে ওপরে তুলে আনা সম্ভব হয়। এই উদ্ধার অভিযান পরিচালনাকালে ফায়ার সার্ভিসের দুই সদস্য সামান্য আহত হয়েছেন।
এ বিষয়ে সদর মডেল থানার ওসি রতন শেখ বলেন, মাগরিবের নামাজের পর মসজিদের সহকারী ইমামের ফোন পেয়ে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে যাই। ড্রেনের ভেতর গরুটি এমনভাবে আটকে ছিল যে, দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে দমবন্ধ হয়ে প্রাণীটি মারা যেতে পারত। ফায়ার সার্ভিসের পেশাদারিত্ব এবং স্থানীয়দের সহযোগিতায় গরুটিকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। সাহসিকতার সাথে কাজ করায় আমি সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।
তিনি আরও জানান, উদ্ধার হওয়া গরুটির মালিকের পরিচয় এখনো পাওয়া যায়নি। শহরের গবাদিপশু মালিকদের উদ্দেশ্যে দায়িত্বশীল আচরণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, পৌর এলাকায় গৃহপালিত পশু এভাবে অরক্ষিত অবস্থায় ছেড়ে দেওয়া অনুচিত। মালিকদের সচেতনতা অভাবের কারণে অবলা প্রাণীর জীবন ঝুঁকিতে পড়ার পাশাপাশি নাগরিক নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে।
প্রীতম দাস/ ডিডি
মন্তব্য করুন: