থানায় জিডি
সিলেটে পুলিশ কর্মকর্তার নামে ভুয়া আইডি খুলে সাইবার ষড়যন্ত্র।
সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলার সন্তান ও সিলেটে কর্মরত ট্যুরিস্ট পুলিশের এক কর্মকর্তার নাম এবং ছবি ব্যবহার করে একটি ভুয়া ফেসবুক আইডি খুলে ধর্ম অবমাননাকর পোস্ট দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী কর্মকর্তা নিজের সামাজিক মর্যাদা রক্ষা ও বিভ্রান্তি দূর করতে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।
ভুক্তভোগী ওই কর্মকর্তার দাবি, তাকে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করা এবং পুলিশ বাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে একটি স্বার্থান্বেষী চক্র পরিকল্পিতভাবে এই চক্রান্ত চালিয়েছে। একটি সুযোগসন্ধানী মহল বিষয়টিকে কেন্দ্র করে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের অপচেষ্টা চালাচ্ছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন। একজন দায়িত্বশীল পুলিশ কর্মকর্তা যেখানে দেশের সার্বিক চলমান পরিস্থিতি সম্পর্কে সার্বক্ষণিক অবগত থাকেন, সে অবস্থায় তার আইডি থেকে এমন বিতর্কিত পোস্ট করা একেবারেই অসম্ভব। তাছাড়া তার মূল আইডিতে দীর্ঘদিন থেকে পোস্ট করা লেখাগুলো পর্যালোচনা করলেই প্রকৃত সত্য ও চক্রান্তকারীদের হীন উদ্দেশ্যের বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
ভুক্তভোগী পুলিশ কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ রায় মধ্যনগর উপজেলার মধ্যনগর পূর্বপাড়ার বেনু মাধব রায় ও অঞ্জনা রানী রায়ের ছেলে। তিনি বর্তমানে সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার জাফলং ট্যুরিস্ট পুলিশ জোনে কর্মরত। এ ঘটনায় সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সিলেটের গোয়াইনঘাট থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন তিনি।
জিডি ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার সকাল আনুমানিক ১১টা ৪৪ মিনিটে পরিচিত এক সাংবাদিকের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পারেন বিশ্বজিৎ রায়। পরে তাকে পাঠানো লিংকে প্রবেশ করে তিনি দেখতে পান, তার নাম ও মূল ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডির ছবি হুবহু ব্যবহার করে একটি চক্র ভুয়া আইডিটি খুলেছে। সেখান থেকে ইসলাম ধর্ম ও পবিত্র ধর্মগ্রন্থ সম্পর্কিত আপত্তিকর মন্তব্য করা হয়।
বিশ্বজিৎ রায় বলেন, "আমার মূল ভেরিফায়েড আইডি থেকে এ ধরনের কোনো পোস্ট করা হয়নি। ভুয়া আইডিটি পর্যালোচনা করলে একাধিক বানানের ভুলও ধরা পড়ে। আমাকে ও আমার পরিবারকে সামাজিকভাবে বিব্রত করা এবং পুলিশ বাহিনীর ভাবমূর্তি নষ্ট করতেই কেউ এ চক্রান্ত করেছে।" তিনি আরও জানান, বিষয়টি জাফলং ট্যুরিস্ট পুলিশ জোনের ইনচার্জ তপন তালুকদারকে অবহিত করার পর থানায় আইনি পদক্ষেপ নিয়েছেন।
এ বিষয়ে গোয়াইনঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. ওমর ফারুক জানান, ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। ভুয়া আইডি পরিচালনাকারী ও এই চক্রান্তের পেছনে জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নীরব চাকলাদার
মন্তব্য করুন: