অক্ষয় নায়েক -এর গুচ্ছ কবিতা ‘তোমার শ্রীঅঙ্গে ও অন্যান্য’
বৃষ্টির ভালোবাসা
*
টিপ টিপ বৃষ্টি পড়ে
সখী, জল কি ঢুকেছে তোমার ঘরে?
ফোঁটায় ফোঁটায় ভিজেছো কি তুমি?
নাকি হৃদয় আঙিনা ভীষণ অভিমানী?
আজ ঝর ঝর বর্ষায়
তোমায় সাথে নিয়ে ভিজতে চাই।
আজ ভিজুক তোমার উদাস মন
এক বিন্দু ভালোবাসয় যে করে উচাটন।
স্পর্শকাতর তোমার শ্রীঅঙ্গে
ভালোবাসার ছোঁয়া লাগুক নব রঙ্গে।
না, আজ বাধা দিতে এসো না
আমি থামতে গিয়ে হার মানব না।
আজ মেঘেরা আকাশ ফেঁড়ে গর্জন করুক
বাতাসে শীতলতা প্রবাহিত হোক।
আকাশের ধারার মধুর বর্ষণে
আজ ভালোবাসার বন্যা হোক।
তুমি এসো
*
তুমি নভেম্বর রেইন হয়ে এসো না
এখানে বৃষ্টি বড্ড বেমানান
বরং অক্টোবরের শারদ-কাশফুল হয়ে এসো
প্রকৃতির অন্তরাকাশে মেঘেরা যেমন ভাসমান।
তুমি বৈশাখে অনাবৃষ্টি হয়ে এসো না
আমি ওভাবে তোমায় ভালোবাসতে পারব না।
তুমি বরং ফাল্গুনের দোল পূর্ণিমা হয়ে এসো
আমি তোমায় আবির না মাখিয় ছাড়ব না।
তুমি শরৎবাবুর দেবদাসের গল্প হয়ো না;
আমি তোমার বিয়োগ নিতে পারব না।
তুমি রবি ঠাকুরের শেষের কবিতা হয়ে
পিথাগোরাসের উপপাদ্যকে হার মানিয়ে দিও।
আমি তো প্রেমিক নয়
*
আমি তো প্রেমিক নয়
তাহলে কষ্ট কেন হয়?
একরাশ মিথ্যা মায়ায় জড়িয়ে
নিয়তির নির্মম শিকল পরিয়ে
বারবার কেন আমাকেই অপরাধী বানানো হয়?
আমি তো প্রেমিক নয়
তাহলে কিসের এত ভয়?
কারো অনুপস্থিতিতে বাঁচব না
কারো বিয়োগে কাঁদব একটানা
কেন কারো ইচ্ছের ওপর
আমার মন বেদনাহত হবে?
আমি তো প্রেমিক নয়
তাহলে কেন বিষাদে ডুবে রই?
জীবনের সত্তা ভুলে কিংকর্তব্যবিমূঢ়তার কবলে
কেন আমায় বারবার মুখ থুবড়ে পড়তে হয়?
আমি তো প্রেমিক নয়
তাহলে হৃদয়ে রক্তক্ষরণ কেন হয়?
অক্সিজেনের ঘাটতি নিয়ে ফুসফুসকে কষ্ট দিয়ে
বারবার কেন দীর্ঘশ্বাস ফেলতে হয়?
আমি তো প্রেমিক নয়
তাহলে বাঁ পাশে কেন ব্যথা হয়?
মিথ্যা হাসি হাসতে গিয়ে যন্ত্রণাগুলো মানিয়ে নিয়ে
জীবন নামক রঙ্গমঞ্চে অভিনয় কেন করতে হয়?
___________________
কবি পরিচিতি : অক্ষয় নায়েক। বুরজান চা বাগান খাদিম নগর, সিলেট। পেশায় পল্লী চিকিৎসক।
প্রথম সিলেট সাহিত্য ডেস্ক
মন্তব্য করুন: