সিকৃবি ভিসির অনিয়মের প্রতিবাদে ৯ শিক্ষক-কর্মকর্তার পদত্যাগ
সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (সিকৃবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. আলিমুল ইসলামের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে ৫ জন শিক্ষকসহ মোট ৯ জন শিক্ষক-কর্মকর্তা পদত্যাগ করেছেন। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন।
এ ঘটনার পরপরই উপাচার্যের অপসারণের দাবিতে প্রশাসনিক ভবনের সামনে মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের একটি অংশ।
পদত্যাগকারীদের মধ্যে বিভিন্ন আবাসিক হলের প্রভোস্ট ও গুরুত্বপূর্ণ দফতরের দায়িত্বপ্রাপ্তরা রয়েছেন। তারা হলেন এমএজি ওসমানী হল প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. কাওছার হোসেন, শহীদ জিয়া হল প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইউসুফ মিয়া, হযরত শাহজালাল (র.) হল প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. নাজমুল হক, হযরত শাহপরান (র.) হল প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. জসিম উদ্দিন দূররে সামাদ রহমান হল প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. শাহজাহান মজুমদার, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক গাজী মো. জহিরুল ইসলাম, অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার মো. আশরাফুজ্জামান ও ডেপুটি রেজিস্ট্রার মো. বাসির উদ্দিন, শরীরচর্চা শিক্ষা বিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ নেয়ামত উল্যাহ, ক্যাম্পাসের গেস্ট হাউসের অফিসার ইনচার্জ গাজী মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম এবং ঢাকার গেস্ট হাউসের অফিসার ইনচার্জ মো. বাসির উদ্দিন
শিক্ষক-কর্মকর্তাদের মূল অভিযোগগুলো হলো বর্তমান প্রশাসন নতুন কোনো বড় প্রকল্প নিতে পারেনি। রাজস্ব খাতের অর্থে সম্পাদিত সংস্কার ও মেরামতকাজে সরকারি ক্রয়বিধি (পিপিআর) মানা হয়নি। অডিটোরিয়াম আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তরের আগেই দরপত্র ছাড়া মেরামত করা হয়েছে।ইলেকট্রনিকস ও আসবাবপত্র ক্রয়ে সরকারি নিয়ম মেনে সর্বনিম্ন দরদাতাকে কাজ না দিয়ে পছন্দের ব্যক্তিকে কাজ দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি আটজন শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব গ্র্যাজুয়েটদের অবমূল্যায়ন করে স্বজনপ্রীতি ও আঞ্চলিকতার ভিত্তিতে বাইরের প্রার্থীদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
সাবেক প্রক্টর অধ্যাপক মোজাম্মেল হক ও পদত্যাগকারী অধ্যাপক ড. মো. কাউছার হোসেন জানান, অনিয়মের প্রতিবাদ জানিয়েও কোনো প্রতিকার না পাওয়ায় এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ বিঘ্নিত হওয়ায় তারা দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরাও এসব অনিয়মের প্রতিবাদে ভিসির অপসারণ দাবি করেন।
তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. আলিমুল ইসলাম। তিনি বলেন, একটি স্বার্থান্বেষী মহল বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্ত পরিবেশ অস্থিতিশীল করতে এসব ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলছে। নিয়োগপ্রাপ্ত প্রত্যেকেই যোগ্য এবং সব প্রক্রিয়া শতভাগ স্বচ্ছতার সঙ্গে সম্পন্ন হয়েছে।
রত্না বাউরী
মন্তব্য করুন: