শান্তিগঞ্জে যুবদল নেতার বাড়িতে অগ্নিসংযোগের অভিযোগ, প্রতিপক্ষের দাবি ষড়যন্ত্র
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সমর্থনে মানববন্ধন করে সংযুক্ত আরব আমিরাতে কারাবরণকারী শান্তিগঞ্জ উপজেলা যুবদল নেতা আলী আহমদ দুলালের বাড়িতে হামলা ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ উঠেছে। শনিবার বিকাল সাড়ে ৩ টায় উপজেলার নোয়াখালী গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।
শান্তিগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগের অর্থ সম্পাদক রুকনুজ্জামান রুকন ও তার গোষ্ঠীর লোকেরা এই হামলা ও অগ্নিসংযোগ করেছেন বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী আলী আহমদ দুলাল ও তার ভাই জয়নাল আবেদীন। জমি সংক্রান্ত পূর্ব বিরোধের আক্রোশ থেকে এই হামলা করা হয়েছে বলে জানান তারা।
ভুক্তভোগী আলী আহমদ দুলাল বলেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের অর্থ সম্পাদক রুকন ও তার ভাই ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রয়েল এলাকায় নিজেদের সিন্ডিকেট তৈরী করে মানুষের জমিজমা দখল করে আসছিল। আমার চাচার কোটি টাকার জায়গাও দখল করে রেখেছে। এসব বিষয়ে কথা বলায় রয়েল ও রুকন আমারে হত্যার হুমকিধামকি দিয়ে আসছিল। গতকাল আমি শান্তিগঞ্জে ছিলাম। তখন সে তার সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে আমার বাড়িতে হামলা ও অগ্নিসংযোগ করেছে। আমার ভাইয়ের দোকান ভাংচুর ও লুট করেছে। আমি এখনও নিরাপত্তাহীনতা ভোগ করছি। আমি আমার নিরাপত্তা ও এই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার চাই।
তবে হামলা ও অগ্নিসংযোগের বিষয়ে ভিন্ন কথা বলছেন জয়কলস ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল বাছিত সুজন, নোয়াখালী বাজার ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সভাপতি মতিউর রহমান, বিএনপি নেতা জসিম উদ্দিনসহ একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী।
তারা বলেন, 'ঘটনার সময় তারা দুলালের বাড়ির পাশে সপ্তগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয়ের একটি সভায় তারা উপস্থিত ছিলেন। এসময় হট্টগোল শুনে তারা বাইরে এসে দেখতে পান রুকনের গোষ্টির কিছু লোক ক্ষিপ্ত হয়ে দুলালের বাড়ির দিকে অগ্রসর হচ্ছে। কোনো ধরনের অনভিপ্রেত ঘটনা এড়াতে তারা দ্রুত এসে রুকনের স্বজনদের থামিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেন। এরপর তাদের অনুরোধে রুকনের গোষ্ঠীর লোকজন ঘটনাস্থল ত্যাগ করে চলে যান। এসময় দুলালের বাড়িতে কেউ হামলা বা অগ্নিসংযোগ করেনি। পরবর্তীতে কে বা কারা দুলালের ঘরের ভেতর আগুন দিয়ে সে বিষয়ে তারা কিছু দেখেননি।
অভিযুক্ত রুকনুজ্জামান রুকন বলেন, 'দুলাল দীর্ঘদিন ধরে নিজেকে জুলাই যোদ্ধা দাবি করে এলাকায় বেপরোয়া আচরণ করছে। ফেসবুকে অপপ্রচার করে মানুষের মানহানি করছে। তিনদিন আগে আমাকে নিয়েও ফেসবুকে মিথ্যা তথ্য দিয়ে মানহানিকর পোস্ট করেছে। এইসব দেখার পর আমার গ্রামের সবাই সিদ্ধান্ত নেন তার চাচা ও ভাইকে বিষয়টি অবগত করবেন। সেই উদ্দেশ্যে ঘটনার দিন আমার গ্রামের মুরব্বিরা তাদের বাড়ির দিতে গেলে তার ভাই ও পরিবারের অন্যান্যরা তাদের তুচ্ছতাচ্ছিল্য করেন। এর ফলে আমার আত্মীয়রা এর প্রতিবাদ করলে হট্টগোল তৈরী হয়। কিন্তু স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা তাদের শান্ত করে সেখান থেকে সরিয়ে দেন। এর ঘন্টাখানেক পরে দুলালের পরিবার নিজে নিজে আগুন লাগিয়ে আমাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার করছে। মিথ্যা মামলা দিতেই এই ঘটনা সাজিয়েছে সে। আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।'
শান্তিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অলিউল্লাহ বলেন, 'এঘটনায় আলী আহমদ দুলাল বাদি হয়ে একটি মামলা দায়ের করেছেন। ঘটনার তদন্ত চলছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।'
প্রীতম দাস/ নীরব চাকলাদার
মন্তব্য করুন: