যেন বারুদঘরের ওপর দাঁড়িয়ে তামাবিল বন্দর

যেন বারুদঘরের ওপর দাঁড়িয়ে তামাবিল বন্দর

প্রথম সিলেট প্রতিবেদন

০৭/০৯/২০২৬ ১৭:৫৬:০৫

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

ফ্যাকাশে নীল শিখায় জ্বলে এই আগুন, যা সাধারণ আলোতে দেখা কঠিন—অগোচরে চারপাশ পুড়িয়ে ছাই করে দেওয়ার আগপর্যন্ত ঘূণাক্ষরেও টের পাওয়া যায় না। অতিদাহ্য ও বিষাক্ত রাসায়নিক ‘মিথানল’ আমদানির ক্ষেত্রে অগ্নিনির্বাপণের ন্যূনতম কোনো নিরাপত্তা অবকাঠামো ছাড়াই প্রতিদিন এমন আগুনের ঝুঁকি নিয়ে যেন বারুদঘরের ওপর দাঁড়িয়ে রয়েছে সিলেটের তামাবিল স্থলবন্দর।

ভারত থেকে রাসায়নিকবাহী বিশাল ট্যাংকলরিতে করে আসা এই কেমিক্যাল উন্মুক্ত বন্দরে ড্রামে স্থানান্তরের মতো বিপজ্জনক কাজ চলছে কোনো কেমিক্যাল ল্যাব বা ফায়ার সার্ভিস ছাড়াই।

বন্দর সূত্রে জানা গেছে, ভারতের আসামের পার্বতপুর-ডিব্রুগড় পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্স থেকে ঢাকার দুটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে আমদানি হচ্ছে এই বিষাক্ত রাসায়নিক। আগে সপ্তাহে ৪-৫টি ট্যাংকলরি আসলেও বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে ৮ থেকে ১০টি মিথানলবাহী গাড়ি তামাবিলে প্রবেশ করছে। পর্যাপ্ত সংরক্ষণাগার ও স্থানীয় পরীক্ষণ সুবিধা না থাকায় প্রতিটি ড্রাম থেকে সংগৃহীত নমুনার রিপোর্ট আসতে অন্তত দুই দিন সময় লাগে। আর এই পুরোটা সময় ঝুঁকিপূর্ণ ড্রামগুলো বন্দর এলাকাতেই পড়ে থাকছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন,মিথানল অত্যন্ত উচ্চ মাত্রার দাহ্য পদার্থ এবং বাতাসে এর বাষ্প ছড়িয়ে সামান্য আগুনের স্পর্শ পেলেই ঘটাতে পারে ভয়াবহ বিস্ফোরণ।

আশ্চর্যের বিষয় হলো, তামাবিল বন্দরে এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলার মতো কোনো অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা নেই। ব্যবসায়ী ও স্থানীয়দের মতে, যেকোনো একটি ছোট দুর্ঘটনাই পুরো তামাবিল বন্দরকে মুহূর্তে ছাইয়ে পরিণত করতে পারে। 

সিলেট চেম্বার অব কমার্সের সাবেক পরিচালক ফালাহ উদ্দিন আলী আহমদ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “দেশের অন্যান্য বন্দর ছেড়ে সিলেট দিয়ে এমন বিপজ্জনক রাসায়নিক আনার পেছনে কী রহস্য কাজ করছে, তা তদন্ত করা প্রয়োজন। অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ছাড়া এটি আনানো এক ধরনের তামাশা।”

এই ঝুঁকির একটি প্রত্যক্ষ সতর্কবার্তা পাওয়া গিয়েছিল গত বছরের ৯ নভেম্বর। সে দিন বন্দরে থাকা একটি মিথানলবাহী ট্রাকে হঠাৎ আগুন লেগে গেলে হাজারো শ্রমিক ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরবর্তীতে পার্শ্ববর্তী জৈন্তাপুর ও ভারতের ডাউকি থেকে পানিবাহী গাড়ি এসে আগুন সামাল দেয়। বড় ধরনের বিপদ এড়ানো গেলেও ঘটনার পর কোনো কার্যকর স্থায়ী নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়নি।

নিরাপত্তাহীনতার বিষয়ে জানতে চাইলে তামাবিল স্থলবন্দরের সহকারী পরিচালক (ট্রাফিক) মো. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, এনবিআরের অনুমতি থাকায় বন্দর কর্তৃপক্ষের এই আমদানি বন্ধের সুযোগ নেই। তবে বর্তমানে বন্দরে চলমান একটি নতুন উন্নয়ন প্রকল্পে ফায়ার সার্ভিসের ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে। অন্যদিকে, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিনিয়ত কাজ করা বন্দর শ্রমিক ও আমদানিকারকদের দাবি—প্রকল্পের আশ্বাসে ফেলে না রেখে অবিলম্বে বন্দরে বিশেষায়িত কেমিক্যাল অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা চালু করা হোক।

নীরব চাকলাদার

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad