মুক্তিযুদ্ধ: একটি বন্দুক এবং অজানা কথা

বইয়ের পাঠপ্রতিক্রিয়া

মুক্তিযুদ্ধ: একটি বন্দুক এবং অজানা কথা

মুহম্মদ মনির-উদ-দীন

০৬/০৯/২০২৬ ১৯:১৯:৩২

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

সহাধ্যায়ী বেলাল আহমদ বকুল। জাগতিক স্থায়ী আবাস আনোয়ারপুর। সম্প্রতি বাস করছেন ‘বিলেত’-এ। এর মানে যুক্তরাজ্য, কভেন্ট্রি। তিনি মাধ্যমিক পাস করেন সুনামগঞ্জ জেলার নামকরা স্কুল ‘জুবিলি’ থেকে। পাসের কাল ১৯৯৩। মাধ্যমিক স্কুল ভিন্ন হলেও, আমরা ‘ইয়ারমেট’। মাধ্যমিক শেষে তিনি ভর্তি হন সিলেট সরকারি কলেজে। আমিও ভর্তি হই একই কলেজে। যদিও উভয়ের মধ্যে বাচনিক পরিচয় ছিল না। তবে তাকে আমি শুধু চেহারাগতভাবে চিনতাম। কখনো, কোনো দিন কথা হয়নি। উচ্চমাধ্যমিকের সময় দু’বছর। এবং অসংখ্য শিক্ষার্থী। ক্লাস করলেও সবার সঙ্গে সবার পরিচয় হয় না। ফলে বেলাল আহমদ বকুলের সঙ্গে কথা হয়ে ওঠেনি। এর মধ্যেই তিনি চলে যান ঢাকা। ভর্তি হন ঢাবিতে। সেখানে ভর্তি হয়ে লোকপ্রশাসন বিভাগ থেকে সম্মান ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন।

দেশে তাঁর ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল থাকার কথা, এরপরও তিনি দেশত্যাগ করেন, দেশান্তর হন। কেন এমন হলো, সে বিষয়ে আমার বিস্তর জানা নেই। ফলে এদিকে কথা বাড়াতে চাইনি। একসময় তিনি দেশে প্রত্যাবর্তন করেন। আকস্মিকভাবে তাকে ঐতিহ্যবাহী সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতিতে সহকর্মী হিসেবে পাই। অর্থাৎ সে আইনপেশায় যোগদান করেছেন। আইনপেশা একটি গণ ও গুরুমুখী পেশা। ফলে এই পেশায় ভালো করতে হলে, নিঃসন্দেহে একজন ভালো গুরুর শিষ্যত্ব গ্রহণ করতে হয়। সেই বিবেচনায় তিনি একজন গুরু বেছে নিয়েছিলেন —তিনি হলেন সর্বজনস্বীকৃত ফৌজদারি মামলা পরিচালনার একজন মেধাবী, দক্ষ ও নিষ্ঠাবান জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শহীদুজ্জামান চৌধুরী। সঙ্গত কারণে আমিও শহীদুজ্জামান চৌধুরী সাহেবের স্নেহধন্য। চৌধুরী সাহেবের কাছ থেকে অনেক আইনি পাঠগ্রহণ নানা সময়ে করেছি এবং এখনো করছি। আইনের জটিল সমাধানে তিনি পারদর্শী এবং জুনিয়র বান্ধব। ফলে অতিসহজে জুনিয়র আইনজীবীগণ দারস্থ হতে পারেন। তিনিও মনপ্রাণ উজাড় করে দিল খোলা অবস্থায় সহায়তার হাত প্রসারিত করেন। এমন উচ্চমার্গীয় আইনজীবীর সাথে তিনি জুনিয়রশিপ করেছেন। ফলে যতদিন লেখক স্বদেশে আইনপেশায় নিয়োজিত ছিলেন, নিতান্তই পেশাগত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করেছেন।

বেলাল আহমদ বকুল আইনপেশায় যোগদানের ফলে এবং শহীদুজ্জামান চৌধুরী সাহেবের সঙ্গে যুক্ততার ফলে আমার সঙ্গে যোগাযোগের উন্নতি হয়। মাঝেমধ্যে কথাবার্তা হয়। দেখা-সাক্ষাৎ হয়। একসময় শহীদুজ্জামান চৌধুরী তাঁর চেম্বারে আইনবিষয়ক একটি আইন বিষয়ক পাঠচক্র শুরু করেন। আমিও আইন বিষয়ক পাঠচক্র আয়োজনে জানার আগ্রহে অংশগ্রহণ করতাম। ফলে আমার উচ্চমাধ্যমিক অর্থাৎ কলেজজীবনের সহপাঠী বেলাল আহমদ বকুলের সঙ্গে কিছুটা ঘনিষ্ঠতা হয়। তিনি যে মেধাবী ও সর্বোপরি একজন সজ্জন মানুষ, তা- আমার ইতোমধ্যেই ধারণা ছিল। তাঁর সঙ্গে মেশার পর ধারণা মিটে গিয়ে বাস্তবেই অনুভব করি। প্রকৃত অর্থে বেলাল আহমদ বকুল মেধা ও মানুষ হিসেবে অধিকতর সমৃদ্ধ। তাঁর কাছ থেকে পাওয়ার অনেক কিছু। 

তিনি একজন মেধাবী হিসেবে আমার প্রতিষ্ঠান এবিসি ল’ প্রফেশনালস-এ আইন বিষয়ে পড়ানোর জন্য তাকে প্রস্তাব দিই। তিনি আমার প্রস্তাব সানন্দে গ্রহণ করেন এবং যথারীতি যথাসময়ে ক্লাস নেওয়া শুরু করেন। আমার প্রতিষ্ঠানে যে বা যারা আইন বিষয়ে ক্লাস নেন, তারা ভালো ক্লাস নেন কি-না, তা- আমি শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে জেনে অন‍্য পরিসরে নিই। শিক্ষার্থীরা ভালো জানালে নিয়মিত ক্লাস দিই। তাঁর ক্ষেত্রেও ব‍্যতিক্রম করিনি। ফিডব্যাক ভালো বিবেচনায় তাকেও এবিসি ল’ প্রফেশনালস-এ নিয়মিত পাঠদান করবেন মর্মে আমি ভাবি; কিন্তু তাঁর মন দেশে ঠেকেনি। আবারও তিনি দেশান্তর হন। সপরিবারে। তাঁর দেশত্যাগ দেশ ও দশের অপূরণীয় ক্ষতি। কেউ মনে না করলেও, অন্তত আমি মনে করি।

আপন ঠিকানা ও দেশত্যাগ কী আর সাধে সাধে কেউ করে! নিশ্চয় করে-না। এর মধ্যে নানা অনুসঙ্গ ও অবধারিত কারণ নিহিত থাকে। অন্তর্হিত কারণ থাকে লুকানো। কেউ ব্যক্ত করে, কেউ সাধারণত করে না। তবে বুঝে নিতে হয়। আন্দাজ করতে হয়। করতে হয় অনুধাবন।

হার্মাদ, লুটেরা, তস্কর শ্রেণির নীতিনির্ধারকগণ দেশকে গার্বেজ বানিয়ে ফেলেছেন! সোনার বাংলা শ্মশান বানিয়েছেন! আফসোস! বসবাসের অযোগ্য করে ফেলেছেন! ফলে দূরদর্শী মানুষ অহরহ দেশান্তর হচ্ছে। এবং তা- প্রতিনিয়ত। মনের দুঃখে পাড়ি জমাচ্ছেন ভিনদেশে। একেবারে তল্পিতল্পাসহ । যারা দেশত্যাগ করতে পারেনি, তারাও চেষ্টায় রত রয়েছেন। কোনো একদিন পালাবেন। তাদের যে, দেশপ্রেমের ঘাটতি রয়েছে, তা- বলা যাবে না। মুলত সন্তান সন্ততির ভবিষ্যৎ বিবেচনায় জেনে বোঝে দেশান্তর বা দেশত্যাগ করছেন। তবে যারা দেশান্তর হয়েছেন, তারা দেশের মায়া কাটাতে পারেননি। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত হয়তো পারবেন না। এখনো দেশ নিয়ে ভাবেন, দেশের জন্য, দশের জন্য অনুকম্পারও তাঁদের শেষ নেই। সহপাঠী সুহৃদ, একসময়ের সহকর্মী বেলাল আহমদ বকুলও নিশ্চয় দেশ নিয়ে ভাবেন। নীরবে-নিভৃতে মন খারাপ হয়। মাতৃভূমির প্রতি তাঁর নিশ্চয় দায় ও দরদ এবং অগাধ ভালোবাসা বিদ্যমান রয়েছে। ফলে সুদূর বিলেত থেকেও বাংলা ও বাংলা ভাষার প্রতি মমতা ও দরদ তাঁর মধ্যে দেখতে পাওয়া যায়। ফলে বাংলা দেশ থেকে ‘মুক্তিযুদ্ধ: একটি বন্দুক এবং অজানা কথা’ নামে একটি বই প্রকাশ করেছেন।

তাঁর লেখার সঙ্গে আগেই পরিচিত ছিলাম। বলতে গেলে, তাঁর প্রথম লেখা আমি সামাজিক বিন্যাসে পাঠ করি। তাঁর লেখা আমি মনোযোগ সহকারে পাঠ করি। এবং যখনই আমি তাঁর লেখা পেতাম, তাৎক্ষণিক লেখা পড়ে ফেলতাম। ফলে তাঁর লেখা সম্পর্কে আমার একটা প্রাথমিক ধারণা রয়েছে। পৃথক একটি বৈশিষ্ট্য ও আঙ্গিক রয়েছে তাঁর লেখায়। একেবারে অন্যদের চেয়ে আলাদা। ব্যতিক্রমও বলা চলে। নিতান্ত তাঁর মতো করে লেখা। সহজ ও প্রাঞ্জল। এবং প্রাণবন্ত। দুর্বোধ্য ও কঠিন নয়। সর্ব সাধারণের জন্য পাঠ-উপযোগী। আমার মনে হয়, এখানেই লেখকের অধিক সার্থকতা ও সফলতা। তাঁর লেখা পড়তে আমার অনেক ভালো লাগে। কখনো কখনো মনে হয়, আমার কথাই তো লেখক লিখছেন।

সামাজিক যোগাযোগ-বিন্যাসে তাঁর প্রায় সব লেখাই আমি অধ্যয়ন করেছি। কিছু কিছু লেখা হয়তো দৃষ্টিগোচর অগোচরে থাকায় পাঠ করা হয়ে ওঠেনি। সতীর্থ-সহকর্মী বেলাল আহমদ বকুল কর্তৃক ‘মুক্তিযুদ্ধ: একটি বন্দুক এবং অজানা কথা’ বইখানা আমার জ্ঞানমতে তাঁর প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ। ফলে ধরে নিলাম, তাঁর কাছে এ-এক অনবদ্য সৃষ্টি। হওয়াই নিতান্তই স্বাভাবিক। গ্রন্থখানা অনেকটা লেখকের কাছে সন্তানসম। আমার কাছে তাই মনে হয়। কখনো কখনো মনে হয়, সন্তানের চেয়েও ঢের বেশি। কারণ পুস্তকের কোনো মৃত্যু নেই, বিনাশ নেই। এবং নেই কোনো ধ্বংস। অনেক সময় কালজয়ী।

‘মুক্তিযুদ্ধ: একটি বন্দুক এবং অজানা কথা’ বইখানা প্রথম প্রকাশিত হয় জুলাই, ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দে। প্রকাশক ‘অভ্র প্রকাশন’, ৩৮ বাংলাবাজার, ঢাকা-১০০০। নেহার মার্কেট, দ্বিতীয় তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট। যতটুকু জানি অভ্র প্রকাশন এর কর্ণধার অপূর্ব শর্মা একজন নিষ্ঠা ও নীতিবান প্রকাশক। তাঁর কাজের মধ্যেই তাঁর প্রকৃত পরিচয়। ইতোমধ্যে তিনি সিলেটের প্রকাশনা শিল্পে এক্সট্রা-অর্ডিনারি কিছু কাজ করেছেন। যা- এ জগতের বোদ্ধা মহলে বেশ প্রশংসিত হয়েছে। বইয়ের পরিবেশক ‘বাতিঘর’ ও ‘পাঠক সমাবেশ’। অনলাইন পরিবেশক ‘রকমারি ডটকম’। বইয়ের প্রচ্ছদ করেছেন দেশখ্যাত প্রচ্ছদশিল্পী, সুনামগঞ্জের গর্ব ধ্রুব এষ। অনিন্দ্যসুন্দর একটি প্রচ্ছদ অঙ্কন করেছেন শিল্পী ধ্রুব এষ। বইয়ের ভেতরের কনটেন্ট বিবেচনায় নিয়ে নিশ্চয় প্রচ্ছদ করেছেন। ফলে অঙ্কিত প্রচ্ছদে তা- মূর্ত হয়ে উঠেছে। নিঃসন্দেহে বলতে হয়, বইখানার প্রচ্ছদ দারুণ হয়েছে। এক কথায় অনন্যসাধারণ। যে কারণে পাঠককুলকে অনিবার্যভাবে আকর্ষণ করবে।

বইয়ের গাঁয়ে মূল্য ধরা হয়েছে ৩৫০ টাকা, ১০ ডলার এবং ৮ স্টার্লিং পাউন্ড। লেখক কর্তৃক বইখানা উৎসর্গ করা হয়েছে; এমন একজন ব্যক্তিকে, যিনি একটি বিদ্যালয়ের ‘অবৈতনিক শিক্ষক’। অর্থাৎ একজন মহান ও মহৎপ্রাণ ব্যক্তিকে সম্মানিত করা হয়েছে। যিনি লেখককে তাঁর উচ্চশিক্ষা গ্রহণে অনুপ্রাণিত করেছেন, উদ্বুদ্ধ করেছেন; এমনকি মানুষ হওয়ার দীক্ষাও প্রদান করেছেন। যা লেখকের লিখিত জবানবন্দিতে মুদ্রিত। ফলে লেখক তাঁর লেখকসত্তা দিয়ে কৃতজ্ঞতা ও দায় মিটিয়েছেন। নির্মোহ চিত্তে বলা যায়, লেখকের উৎসর্গ সফল ও সার্থক। উৎসর্গের ক্ষেত্রে এমনটা হলেই লেখক ও দুকূলই পরিতৃপ্ত হন।

গ্রন্থে উৎসর্গের পরে লেখক ‘পূর্বভাষ’ আকারে একটি সংক্ষিপ্ত বিবরণ বা বিবৃতি উপস্থাপন করেছেন। কোন সময়ে, কোন পরিস্থিতিতে বা প্রেক্ষাপটে লেখাগুলো লিখেছেন, কে বা কারা সামাজিক বিন্যাসে লেখা পাঠক্রমে উৎসাহ-উদ্দীপনা দিয়েছেন, তাঁদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে লেখক তাঁর লেখার উৎসাহদাতাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধাবোধ ও কৃতজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন। এতে লেখক কোনো কার্পণ্য করেননি। বরং সংকির্নতার উর্ধ্বে উঠে বড়ো ও উদার মনের পরিচয় প্রদান করেছেন। এই ‘পূর্বভাষ’ পড়লেই কংক্রিট না হলেও, অবশ্য আংশিক ধারণা পাওয়া যায়।

একশ কুড়ি পৃষ্ঠার একটি পুস্তক লেখক পাঠকের সামনে হাজির করে তাঁর লেখকসত্তার মুন্সিয়ানা দেখিয়েছেন। এতে সাজানো-গোছানো একটি সূচি রয়েছে। সূচিপত্র দুটি ভাগে বিভক্ত। একটি ‘স্মৃতিগদ্য’, অপরটি ‘আত্মকাব্য’।

‘স্মৃতিগদ্য’ অংশে ‘মুক্তিযুদ্ধ: একটি বন্দুক এবং অজানা কথা’—এগারো থেকে বাষট্টি পৃষ্ঠায় আটকানো একটি স্মৃতিচারণমূলক সমৃদ্ধ লেখা। পড়লে মনে হবে, পারিবারিকভাবে বর্ণিত একটি গবেষণাধর্মী সমীক্ষা বা নিরীক্ষা। একে একটি আঞ্চলিক সমীক্ষা বা ইতিহাস বা দলিলও বলা যেতে পারে। লেখায় মুক্তিযুদ্ধসহ আত্মীয়-স্বজনের কর্মতৎপরতা, একে অন্যের পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ববোধ ইত্যাদি বিষয়ে লেখক আলোকপাত করে একটি পূর্ণাঙ্গ সামাজিক ও সামগ্রিক না হলেও, খণ্ডিত চিত্র তুলে ধরেছেন। সংশ্লিষ্ট এলাকার আঞ্চলিক প্রেক্ষাপট, ঐতিহাসিক উপাদান, লেখার শৈল্পিক মূল‍্য বিশ্লেষণ করে ‘স্মৃতিগদ্য’ রচনা করেছেন।

লেখক মোট ত্রিশটি পর্বে ভাগ করে স্মৃতিগদ্য রচনা করেছেন। প্রতিটি পর্বে কোনো না কোনোভাবে লেখকের নিজ গ্রাম ‘আনোয়ারপুর’, গ্রামের নৈসর্গিক সৌন্দর্য, পরিবারের সদস্যসহ গ্রামবাসী এবং আত্মীয়-স্বজনদের বর্ণনা উঠে এসেছে। তাছাড়া গ্রামীণ জনপদের তৎকালীন ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি কী ছিল, তা- ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করেছেন। যেমন—নৌকাবাইচ, ঘোড়দৌড়, যাত্রাপালা, গাজির গীত, মহরম, বানেছা পরি, আপন দুলাল, ছয়ফুল মুল্লুক, বেহুলা-লখিন্দর ইত্যাদি নানা ধরনের ঐতিহ্যবাহী খেলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান গ্রামীণ আবহে অনুষ্ঠিত হতো।

লেখক তাঁর গ্রামের আশপাশের বিভিন্ন ছোট ছোট বিল- ছোট ছোট ডোবা যে রয়েছে, সেগুলোর বাহারি নাম তাঁর লেখায় তুলে এনেছেন। এসব হাওর, বিল ও ডোবায় বিভিন্ন প্রজাতির মাছ পাওয়া যেত। কতিপয় মাছের নাম লেখায় উল্লেখ করেছেন। যেমন—বোয়াল, রুই, কাতলা, বাইম, আইড়, শোল, গজার, ভেদা, কাংলা, গোলা টেংরা, শিং, মাগুর, কই ইত্যাদি।

লেখকের গ্রাম ‘আনোয়ারপুর’ এবং আশপাশের অনেকগুলো গ্রামের পরিবেশ-প্রতিবেশ ও প্রাণ-প্রকৃতির বিষয়ে সচেতনভাবে অসাধারণ কিছু বর্ণনা করেছেন। তখনকার সময়ে গ্রামের আশপাশে প্রচুর বন, ঝোপঝাড় ও জঙ্গলধর্মী প্রাণ-প্রকৃতি সমৃদ্ধ এক অনন্য প্রকৃত প্রাকৃতিক পরিবেশ ছিল। এসব স্থানে ‘আইছলা’, ‘বউল্লা গাছ’, ‘নল’, ‘খাগড়া’, ‘ছন’ ইত্যাদি বিভিন্ন ধরনের গাছ ও লতাপাতা এবং বন ছিল। এসব বন-জঙ্গলে হরেক রকম পাখি দেখতে পাওয়া যেত। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—‘শালিক, কোড়া পাখি, কাইম, ঘুঘু, বক, বাঘাঢাইয়া, বাড়ই, ফটই, চন্তই, ওডা, কুঞ্জন পাখি, উকা বাড়ই, খটখইট্টা’ ইত্যাদি।

গ্রামীণ মেলার কথা তাঁর রচিত বইয়ে পাওয়া গেছে। ‘মেঘনার মেলা, কেজাউড়ার মেলা, কাইমার মেলা, মধুপুরের মেলা, দলুয়ার ভূঁইয়ার মেলা, আনোয়ারপুর মেলা, দত্ত গ্রামের মেলা’ নাকি উল্লেখ করার মতো ছিল। এসব মেলায় শিশু ও কিশোরদের আনন্দের বন্যা বইয়ে যেত। ছোটদের বেশির ভাগেরই প্রিয় ছিল খেলনা। খেলনা পিস্তল, বন্দুক, লঞ্চ, ঘড়ি, রঙিন চশমা, বল, বাঁশি ইত্যাদি। তাছাড়া বিভিন্ন রকমের উপাদেয় স্বাদের খাবারের প্রতি শিশু-কিশোরদের জন্য ছিল এক বাড়তি আকর্ষণ। ফলে শিশু-কিশোরদের নিয়ে অভিভাবকগণ মেলায় উপস্থিত হতেন। আনন্দ বিনোদনের একমাত্র উপলক্ষ ছিল এসব গ্রামীণ মেলা। লেখক তাঁর নিজস্ব শৈশব ও কৈশোরের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে সামগ্রিক পরিস্থিতি ও তখনকার প্রেক্ষাপট নিপুণ তুলিতে মনের মাধুরী মিশিয়ে স্মৃতিচারণে স্মৃতিগদ‍্যে অঙ্কন করেছেন। ফলে লেখকের সমসাময়িক বয়সের পাঠকদের বেশি আকৃষ্ট ও আকর্ষণ করা খুবই স্বাভাবিক ও সঙ্গত। এ কারণে দ্বিধাহীন চিত্তে দ‍্যর্থহীনভাবে বলতে গেলে স্মৃতিচারণমূলকভাবে উপস্থাপিত লেখাটি আমার ভালো লেগেছে। নিশ্চয় আমার মতো বয়সের বা আমার মতো অপরাপর মানুষদেরও লেখকের বইখানা পড়ে ভালো লাগবে। যারা অধ‍্যয়ন করতে ভালোবাসেন বা আগ্রহী তারা বইখানা সংগ্রহক্রমে পাঠ করতে পারেন। আশা ঠকবেন না বরং মজা পাবেন।

লেখক তাঁর লেখায় তৎসময়ে পাওয়া যেত এমন বিভিন্ন ধরনের ফলের বিবরণ দিয়েছেন—‘আম, জাম, কাঁঠাল, চালতা, তেঁতুল, কলা, পেঁপে, পেয়ারা, আনারস, শসা, মন, ঢেউয়া, ঢেফল, বেতগোটা’ ইত্যাদি। এতে করে স্থানীয় ফলমূলের প্রতি লেখকের অন্তর্নিহিত আকর্ষণ ছিল বলতেই হয়। এছাড়াও ঐসময় গ্রামের বিয়ে-শাদিতে গ্রামোফোনে ‘গুনাই বিবি, রূপবান, অরুণ বরুণ কিরণমালা, বাইনজারান, সাত ভাই চম্পা, কমলার বনবাস, রসের বাইদানি, মাটির ঘর, সুজন সখী’ ইত্যাদি কিচ্ছা-কাহিনি ও গল্প শোনা হতো। পরে ক্যাসেট প্লেয়ারে ‘কটু মিয়ার কেচ্ছা, বিনন্দের কেচ্ছা, নিমাইয়ের কাহিনি, ফাতেমা কুলসুমার কাহিনি’ এবং শাহ আবদুল করিম, কারি আমির উদ্দিন, শফিকুন্নুর-সহ বিভিন্ন শিল্পীর ‘মালজোড়া গান’ ও ‘বাউল গান’ পরিবেশন করা হতো। তখনকার আমলে অর্থাৎ গতশতকের আশি ও নব্বইয়ের দশকে এগুলোই ছিল গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর বা জনসাধারণের বিনোদনের অন্যতম উপজীব্য বিষয়। তৎকালীন গ্রামীণ সমাজের সামাজিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক, প্রাকৃতিক ইত্যাদি বিষয়ে লেখক সুনিপুণ দক্ষতায় তাঁর লেখায় ফুটিয়ে তুলেছেন। লেখক তাঁর তরতাজা ও নির্মল স্মৃতিকে ধরে রেখেছেন এবং তা- লেখার আকর উপাদান হিসেবে নিয়ে উপজীব্য করে পাঠকের সামনে উপস্থাপন করেছেন।

‘মুক্তিযুদ্ধ: একটি বন্দুক এবং অজানা কথা’ বইয়ের নামটি লেখক অত্যন্ত সার্থক ও যথার্থ হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। যে-কারণে তাঁর লেখক সত্তার প্রশংসা করতেই হয়। কারণ পৃথিবীর ইতিহাসে মুক্তিযুদ্ধ একটি অনবদ্য অন‍্যতম বিরল ঘটনা এবং অর্জন। লেখক তাঁর বইয়ে মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে কিছু কথা, তত্ত্ব ও তথ্য তুলে এনেছেন, যা একটি গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায় ও অমর ইতিহাস। লেখক লিখেছেন— ‘মুক্তিযুদ্ধে সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলের গেরিলা যুদ্ধের প্রধান সংগঠক ছিলেন সালেহ চৌধুরী। ১৯৭১ সালের ছাব্বিশে মার্চের পর বাংলাদেশের কৃষক, শ্রমিক, ছাত্র, জনতা লাঠিসোটা, লগি, বৈঠা, দা, কুড়ালসহ হাতের কাছে যা কিছু ছিল, তা নিয়েই আধুনিক রণসাজে সজ্জিত সশস্ত্র পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে জীবন বাজি রেখে যুদ্ধের ময়দানে নেমে পড়েন। সালেহ চৌধুরী ভাটি এলাকা থেকে মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য অস্ত্র সংগ্রহ করতে শুরু করেন…।’

‘যুদ্ধ চলাকালীন এক রাতে সালেহ চৌধুরী, গোলাম মর্তুজা চৌধুরী, গোলাম মোস্তফা চৌধুরী, আব্দুল মজিদ চৌধুরী-সহ আরও অনেক বীর মুক্তিযোদ্ধা আমাদের বাড়ির (লেখকের বাড়ি)পেছনে নদীর ঘাটে এসে নৌকা ভিড়ান। তাঁদেরকে আমাদের বাংলাঘরে চা-নাশতা পরিবেশন করা হয়। একপর্যায়ে সালেহ চৌধুরী নিরস্ত্র মুক্তিযোদ্ধাদের মনোবল চাঙ্গা করতে আমাদের বন্দুকটি দেওয়ার জন্য আমাদের দাদাদের অনুরোধ করেন। এবং আমাদের পরিবারের সবাই সন্তুষ্টচিত্তে দেশের স্বার্থে বন্দুকটি বীর মুক্তিযোদ্ধাদের হাতে তুলে দেওয়া হয়।’ দেশ স্বাধীন হওয়ার পর বন্দুকটি আবার সালেহ চৌধুরী ফেরত প্রদান করেন।

লেখক স্মৃতিগদ্যে তাঁর এলাকা, আত্মীয়-স্বজন, সহপাঠী,বন্ধু-সুহৃদ এবং আশপাশ, ভৌগোলিক অবস্থানসহ রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক, সামাজিক এবং তৎকালের জনমানুষের জীবন-জীবিকা, জীবনধারাসহ লেখকের শৈশব ও কৈশোরের সময়ে দেখা বিষয় নিয়ে মুক্তচিন্তার মন নিয়ে স্মৃতিচারণ করেছেন। তাছাড়া অজানা বিষয় অনুসন্ধানী মানসিকতা নিয়ে নানাজনের সঙ্গে কথা বলে ও মতামত নিয়ে, সর্বোপরি প্রাপ্ত তথ্য ও উপাত্তের সঠিকতা যাচাই করে নিশ্চিত হয়ে নিশ্চয় বইয়ে উপস্থাপন করেছেন। এবং লেখা পড়লেই আন্দাজ করা যায়, লেখক যা দেখেছেন বা প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতেই বই রচনা করেছেন। ফলে তাঁর লেখা নিঃসন্দেহে বলা যায়, নিখাদ, নির্ভেজাল ও নির্মোহ স্মৃতিচারণ। লেখক অতিসংক্ষেপে স্মৃতিচারণ করেছেন বিধায় প্রকৃত পাঠকগণ বঞ্চিত হয়েছেন। লেখক যদি সময় ও সুযোগ নিয়ে আরও অধিকতর তথ্য, তত্ত্ব সংগ্রহ করে এবং মাঠ পর্যায়ে হেঁটে খেটে লেখাটি প্রস্তুত করতেন, তাহলে বইখানা অধিকতর সমৃদ্ধ হতো। ফলে এখানে লেখকের একটি দুর্বলতা পরিলক্ষিত হয়। 

‘মুক্তিযুদ্ধ: একটি বন্দুক এবং অজানা কথা’ বইখানা লেখক দুটি ভাগে ভাগ করে রচনা করেছেন। এক ভাগে বিগত দিনের একটি নির্দিষ্ট সময়ের নস্টালজিক স্মৃতিকথা পাঠকদের সামনে সূচারুপে উপস্থাপন করেছেন। অর্থাৎ লেখকের শৈশব-কৈশোর ও যৌবনকালে যা দৃশ্যমান ও দৃষ্টিগোচর হয়েছিল, তা- তিনি সংক্ষিপ্তভাবে স্মৃতিকথায় লিখেছেন। অপর ভাগে লেখক ‘আত্মকাব্য’ হিসেবে পদ্য-কবিতার মিশ্রণে কতকগুলো শিরোনামে স্বরচিত ও নিজস্ব ভঙ্গিতে লিখেছেন। যে কয়টি শিরোনামে আত্মকাব্য রয়েছে, সেগুলো হচ্ছে—‘হাতেখড়ি: আনোয়ারপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়; ভাটিপাড়া উচ্চবিদ্যালয়; সরকারি জুবিলি উচ্চবিদ্যালয়; সিলেট সরকারি কলেজ; ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়; নবিজির জোব্বা; বাবার জন্য দোয়া; শান্তিগঞ্জ ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসা; ভাটিপাড়ার স্মৃতি; জুবিলির ঢেউ; আমার গ্রাম, আমার ছেলেবেলা’।

লেখক উপর্যুক্ত শিরোনামে আত্মকাব্য হিসেবে রচনা করলেও, পাঠ করলে পাওয়া যায় নানা অনুষঙ্গ ও নানাজনের পরিচিতি এবং বর্ণনা। ফলে এগুলো শুধু আত্মকাব্য নয়, সর্বজনীন কাব্যও বলা যায়। তবে এখানে রচিত কবিতা বা পদ্যের নিজস্ব একটি বৈশিষ্ট্য পরিলক্ষিত হয়। এখানে লেখকের আলাদা বৈশিষ্ট্যের একটি পরিচয় পাওয়া যায়। লেখক তাঁর শিক্ষাজীবনের শুরু থেকে শেষ অবধি একটি ধারাবাহিক ধারাভাষ্য পাঠকের অনুকূলে উপস্থাপন করেছেন। ধারাবাহিক ধারাভাষ্যে লেখক আত্মকথন, প্রাতিষ্ঠানিক বর্ণনা, শিক্ষকদের বৈশিষ্ট্য, সহপাঠীদের কথা ইত্যাদি অতি চমৎকারভাবে প্রকাশ করেছেন। শিক্ষক ও সহপাঠীদের নাম এতকাল পরে মনে করে লেখার উপজীব্য করা, এটাও লেখকের একটি দুর্দান্ত কাজ হিসেবে মনে করতেই হবে। 

ধাপে ধাপে এক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ক্রমে অন্য প্রতিষ্ঠানে গমন—পড়াশোনার ক্রমাগত উন্নতি হিসেবে প্রতিভাত হয়েছে। এবং প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানে অনন্য প্রতিভার অধিকারী হিসেবে প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি অর্জন করেছেন। শেষ পর্যন্ত শিক্ষাজীবনে দেশসেরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়’-এ অধ্যয়ন করেছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে একটি অনবদ্য কবিতা আকারে লিখেছেন।

তাছাড়া শান্তিগঞ্জ ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষার প্রসার ও অবকাঠামোগত উন্নয়নকল্পে তিনি সহযোগিতা করেছেন, মানুষকে সহযোগিতা করতে দেশ-বিদেশে উদাত্ত আহ্বান জানিয়ে উদ্বুদ্ধ করেছেন। যা তাঁর আত্মকাব্যে স্থান পেয়েছে। লেখক তাঁর গ্রাম সম্পর্কে একটি অসাধারণ কাব্য রচনা করেছেন। নৈসর্গিক সৌন্দর্যে ভরপুর নিজ গ্রামকে তিনি লেখায় দরদ দিয়ে ফুটিয়ে তুলেছেন। অর্থাৎ কাব্যের নামকরণ করেছেন—‘আমার গ্রাম, আমার ছেলেবেলা’। এখানে লেখক অতিসংক্ষেপে তাঁর গ্রামের প্রতি দায় ও দরদ এবং নিখুঁত ভালোবাসার প্রতিফলন ঘটিয়েছেন। লেখক গ্রামের জীবন, প্রাণ-প্রকৃতি, মা-মাটি এবং মানুষ সম্পর্কে সত্যকথন হিসেবে ছান্দসিক কাব্যের অবতারণা করেছেন। সর্বশেষ লেখক তাঁর জীবনযাপনের বিভিন্ন পর্বের বিভিন্ন পর্যায়ের সংরক্ষণে থাকা ছায়াচিত্র সংযোজন করেছেন। ফলে ছবি থেকে লেখক ও তাঁর পারিপার্শ্বিক বিষয় সম্পর্কে একটি স্পষ্ট ধারণা বা বার্তা পাওয়া যায়। যে-ছবিগুলো সংযুক্ত করা হয়েছে, সেগুলো আমার কাছে মনে হয়েছে, প্রতিটি ছবি এক একটি কবিতা বা গল্প বা ইতিহাস। অর্থাৎ আলোকচিত্রের সংযুক্তি একটি যুতসই সংযুক্তি।

বইখানা হাতে পৌঁছার পর আমি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে মনোযোগ সহকারে পাঠ করেছি। এবং বইয়ের মর্মার্থ পাঠোদ্ধারক্রমে উপলব্ধি করার চেষ্টা করেছি। লেখক আমার সতীর্থ হওয়ায় বইয়ের গুরুত্ব আমার কাছে নিশ্চয় অন‍্য অনেকের তুলনায় অপরিসীম। ফলে তড়িঘড়ি না করে ধীর-স্থির গতিতে পড়ার ফলে আমার নিজের মধ্যে অন‍্যরকম এক অনুভূতি কাজ করেছে। মূলত লেখকের প্রতি আমার একধরণের পক্ষপাত কাজ করেছে। তাছাড়া লেখক ও আমি একই রকম ভৌগোলিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক এবং পরিবেশগত প্রেক্ষাপটে বেড়ে উঠেছি। ফলে আমার অভিমত লেখক বইখানা রচনা ও প্রকাশ করে আমাদের প্রজন্মের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। বইখানা সংগ্রহ করে যে-কেউ পড়তে পারেন। এবং পড়া শেষে সংরক্ষণ করার মতো একখানা বই। কারণ বইখানা একটি সময়কে ধারণ করেছে। একটি অঞ্চলের অনেক কিছু ধারণ করেছে। পাঠশেষে আমার কাছে মনে হয়েছে, সময়ের আকড় দলিল বা সাক্ষ্য হিসেবে বইখানা সকল সময়ের পাঠকের কাছে সম-সমাদৃত হবে। পরিশেষে বলতে হয়, বইখানা জনে জনে পাঠক প্রিয়তা অর্থাৎ পাঠকের কাছে বিপুলভাবে বিপুলসংখ্যকের কাছে সমাদৃত হোক। ক্ষুদ্র পাঠক হিসেবে লেখকের কাছে প্রকৃত প্রত্যাশা আগামীতে আরও নতুন কোনো প্রেক্ষাপট নিয়ে সযত্নে সর্বপাঠকের জন্যে সন্তানসম সৃষ্টি; অর্থাৎ জনগুরুত্বপূর্ণ বই রচনা করবেন। এ প্রত‍্যাশা তো করতেই পারি। 

লেখক: প্রাবন্ধিক, আইনজীবী ও আইনের শিক্ষক

নীরব চাকলাদার

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad