আজমিরীগঞ্জে বোরো ধান চাষে উঠছে না উৎপাদন ব্যয়!
পাঁচ মাসের হাড়ভাঙা পরিশ্রম, ঘাম আর ধারদেনা করে ফলানো ধান এখন কৃষকের ঘরে পড়ে আছে। বন্যায় একদিকে ফসলের ক্ষতি, অন্যদিকে বাজারে ধানের দরপতন দুই দিক থেকেই চাপে পড়েছেন আজমিরীগঞ্জের বোরো চাষিরা।
জমির লিজ, বীজ, সার, কীটনাশক, শ্রম ও সেচের খরচ মিলিয়ে যে ধান উৎপাদন করেছেন, বাজারে সেই ধানের দাম এখন উৎপাদন খরচের নিচে। ফলে ধান ঘরে থাকলেও বিক্রি করতে পারছেন না অনেক কৃষক। সংসারের প্রয়োজন মেটাতে নগদ টাকার সংকটেও পড়েছেন অনেকে।
আজমিরীগঞ্জ পৌর এলাকার কৃষক ছিদ্দিক মিয়া এবার প্রায় ১৪০ কিয়ার জমিতে বোরো ধান চাষ করেন। অতিবৃষ্টি ও বন্যায় তার প্রায় অর্ধেক জমির ধান পানিতে তলিয়ে যায়। বাকি জমির ধান কেটে শুকিয়ে সংরক্ষণ করেছেন তিনি। কিন্তু বর্তমান বাজারদর কম থাকায় ধান বিক্রি না করে অপেক্ষা করছেন।
কয়েক দিন আগেও ধানের দাম কিছুটা বেশি থাকলেও বর্তমানে স্থানীয় বাজারে প্রতি মণ (৪০ কেজি) ধান বিক্রি হচ্ছে প্রায় ৯২০ টাকায়। একই সঙ্গে পাইকারি ক্রেতার সংখ্যাও কমে গেছে। এতে উৎপাদিত ধান বিক্রি নিয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছেন কৃষকেরা।
ছিদ্দিক মিয়ার হিসাব অনুযায়ী, এক কিয়ার জমিতে বোরো ধান উৎপাদনে তার খরচ হয়েছে প্রায় ১৬ হাজার ৭০০ টাকা। এর মধ্যে বীজ, বীজতলা তৈরি, জমি চাষ, চারা রোপণ, জমির লিজ, পরিচর্যা, সার-কীটনাশক, সেচ, ধান কাটা, মাড়াই ও শুকানোর খরচ রয়েছে।
এক কিয়ার জমিতে কাঁচা ধান পাওয়া যায় সর্বোচ্চ প্রায় ১৬ থেকে ১৭ মণ। শুকানোর পর তা কমে দাঁড়ায় প্রায় ১৪ থেকে ১৫ মণ। সেই হিসাবে শুকনো ধানের উৎপাদন খরচ পড়ে প্রতি মণে প্রায় ১ হাজার ১১০ থেকে ১ হাজার ১৯০ টাকা। অথচ বর্তমানে বাজারে ধানের দাম প্রায় ৯২০ টাকা মণ। ফলে উৎপাদন খরচের তুলনায় প্রতি মণে প্রায় ১৯০ থেকে ২৭০ টাকা কম পাচ্ছেন কৃষক।
শুধু ছিদ্দিক মিয়া নন, উপজেলার আরও অনেক কৃষক ধান বিক্রি করতে না পেরে হতাশায় ভুগছেন। বাজারে পাইকারি ক্রেতা কম থাকায় অনেক কৃষক ধান ঘরে বা গুদামে সংরক্ষণ করে রেখেছেন। কেউ কেউ সংসারের প্রয়োজন মেটাতে ধান বিক্রি করতে চাইলেও কাঙ্ক্ষিত দাম না পাওয়ায় তা পারছেন না।
আজমিরীগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন জানান, গত বোরো মৌসুমে উপজেলায় প্রায় ১৪ হাজার ৭০০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছিল। এর মধ্যে বন্যায় প্রায় ১ হাজার ৫০০ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বর্তমানে ধানের বাজারদর মৌসুমের তুলনায় কম বলেও জানান তিনি।
কৃষকদের দাবি, বন্যায় ক্ষতির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ধানের ন্যায্য দাম নিশ্চিত করতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হোক। পাশাপাশি বাজারে পর্যাপ্ত পাইকারি ক্রেতা নিশ্চিত করা গেলে উৎপাদিত ধান বিক্রি করে লোকসান কিছুটা হলেও কমানো সম্ভব হবে।
রত্না বাউরী
মন্তব্য করুন: