জগন্নাথপুরে বাড়ছে হামের প্রকোপ,ওষুধ সংকটে ভোগান্তিতে রোগীরা
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে হাম রোগীর সংখ্যা। প্রতিদিনই নতুন নতুন রোগী ভর্তি ও চিকিৎসা নিতে আসায় সেবা দিতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ও নার্সরা।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টায় জগন্নাথপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে এমন চিত্র দেখা যায়।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বেশ কিছুদিন ধরেই জগন্নাথপুর উপজেলায় শিশুদের মধ্যে হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। সম্প্রতি এর প্রকোপ আরও বেড়েছে। প্রতিদিনই হামের প্রকোপ নিয়ে শিশু ও অন্যান্য রোগী হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসছেন। কিন্তু জনবল সংকটের কারণে রোগীদের সেবা দিতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে।
এদিকে, তীব্র এই সংকটের মধ্যে বর্তমানে হাসপাতালে হামের চিকিৎসায় প্রয়োজনীয় প্রাথমিক ওষুধের মজুতও শেষ হয়ে গেছে বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে। চিকিৎসকরা প্রেসক্রিপশন দিলেও সরকারি সরবরাহ না থাকায় রোগীদের বাইরে থেকে ওষুধ কিনে আনতে হচ্ছে। এতে বিশেষ করে দরিদ্র ও নিম্নবিত্ত পরিবারের রোগীরা বিপাকে পড়েছেন।
হামে আক্রান্ত হয়ে তিন দিন ধরে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছে ১১ মাস বয়সী ফারহান আহমেদ। তার স্বজন ফাহমিদা বেগম বলেন, ‘আমি রোগী নিয়ে এসেছি, ওষুধ নেই। আমরা গরিব মানুষ, ওষুধ কেনার টাকা নাই।’
শাহিন মিয়া বলেন, ‘আমার মেয়ে হামের রোগী। নার্স বলল বাইরে থেকে ওষুধ কিনে আনতে। আমি বললাম, টাকা নাই। নার্স মৌসুমী বলল, টাকা নেই তো রোগী নিয়ে আসছেন কেন?’
হাসপাতালের নার্স সঞ্চিতা বলেন, ‘হামের রোগী বেশি, প্রতিনিয়ত বাড়ছে। আমরা সেবা দিয়ে যাচ্ছি।
তবে নার্স মৌসুমী বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ সত্য নয়, আমি এমন কথা বলিনি। আমি বলেছি, বাইরে থেকে ওষুধ আনেন।
ওষুধের ঘাটতির বিষয়ে হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. তানজিম আহমেদ বলেন, ‘হামের ওষুধ নেই, যা ছিল, শেষ হয়ে গেছে। হঠাৎ রোগী বেড়ে যাওয়ায় বিদ্যমান মজুত দ্রুত শেষ হয়ে গেছে। ওষুধের নতুন চাহিদাপত্র ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। সরবরাহ মিললেই এ সমস্যার সমাধান হবে।
জগন্নাথপুর উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. কৃপেশ রায় বলেন, ‘হামের রোগী বেশি। ওষুধ ছিল, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে চাহিদা দিয়েছি।
রত্না বাউরী
মন্তব্য করুন: