ছাতক পশু হাসপাতালে পিপিআর টিকা না পাওয়ায় একাধিক ছাগলের মৃত্যু

ছাতক পশু হাসপাতালে পিপিআর টিকা না পাওয়ায় একাধিক ছাগলের মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিনিধি. ছাতক

০৫/০৯/২০২৬ ২২:৪৭:৫৪

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

ছাতকে সরকারি পশু হাসপাতালে পিপিআর (PPR) টিকা না পাওয়ায় এক দরিদ্র খামারির একাধিক ছাগল মারা যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। টিকা সংকট ও সময়মতো টিকা না পাওয়ায় ছাগলগুলোকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি বলে দাবি করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত খামারি। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্ট দিয়ে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও গণমাধ্যমের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন স্থানীয় বাসিন্দা মাওলানা খলিলুর রহমান।

পোস্টে তিনি অভিযোগ করেন, সরকারি ব্যবস্থাপনায় ছাগলের পিপিআর রোগ প্রতিরোধে টিকা দেওয়ার ব্যবস্থা থাকার কথা থাকলেও ছাতকের সরকারি পশু হাসপাতালে টিকা পাওয়া যাচ্ছে না। সময়মতো টিকা না পাওয়ার কারণেই তার ছাগলগুলো পিপিআর রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে বলে তিনি দাবি করেন।

এ ঘটনায় দরিদ্র খামারিটি আর্থিকভাবে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছেন বলে জানা গেছে। স্থানীয় খামারিদের মধ্যে সরকারি পশু হাসপাতাল থেকে নিয়মিত পিপিআর টিকা সরবরাহ ও টিকা দেওয়ার ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

এ বিষয়ে ছাতক উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের উপসহকারী প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা (কৃত্রিম প্রজনন) দ্বিজেন্দ্র লাল চক্রবর্ত্তী বলেন, “পিপিআর রোগের টিকা অনেক সময় মজুত থাকে না। তাছাড়া এ রোগ প্রতিরোধে রোগ হওয়ার আগেই টিকা দিতে হয়। রোগ দেখা দেওয়ার পর টিকা দিলে তেমন কোনো উপকার হয় না।

অন্যদিকে, এ বিষয়ে ছাতক উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মোহাম্মদ মিলন মিয়ার বক্তব্য জানতে মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে তিনি ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (UH&FPO) ডা. নুসরাত আরেফিন বলেন, “পশু হাসপাতাল আমার অধীনে নয়। এ বিষয়ে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ভালো বলতে পারবেন।

তবে অভিযোগকারী মাওলানা খলিলুর রহমানের দাবি, সরকারি পশু হাসপাতালে প্রয়োজনীয় টিকা সহজলভ্য না থাকায় সাধারণ খামারিরা বিপাকে পড়ছেন। এ অবস্থায় পিপিআর রোগ প্রতিরোধে নিয়মিত টিকা সরবরাহ, সময়মতো টিকাদান এবং খামারিদের সচেতনতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

স্থানীয় খামারিদের দাবি, ছাতক সরকারি পশু হাসপাতালে পিপিআরসহ প্রয়োজনীয় প্রাণিসম্পদ সেবা নিয়মিত নিশ্চিত করা হলে রোগের প্রাদুর্ভাব ও খামারিদের আর্থিক ক্ষতি অনেকটাই কমানো সম্ভব।

সুজন তালুকদার/ মীর্জা ইকবাল

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad