হবিগঞ্জে মাদরাসাছাত্রকে বিষ খাইয়ে হত্যার অভিযোগ, শিক্ষক গ্রেপ্তার

হবিগঞ্জে মাদরাসাছাত্রকে বিষ খাইয়ে হত্যার অভিযোগ, শিক্ষক গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিনিধি, হবিগঞ্জ

০৫/০৯/২০২৬ ২১:৪১:৫১

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

হবিগঞ্জের মাধবপুরে মাদরাসাছাত্র আশিকুল ইসলাম জনিকে (১৪) জোরপূর্বক বিষ খাইয়ে হত্যার অভিযোগে শিক্ষক মাহবুব আলম মাহিকে (২৪) গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব-৯)। বৃহস্পতিবার রাতে মৌলভীবাজার সদর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার মাহবুব আলম নবীগঞ্জ উপজেলার এনাতাবাদ গ্রামের মৃত মুকিদ মিয়ার ছেলে। তিনি মাধবপুর থানায় দায়ের করা জনি হত্যা মামলার এজাহারনামীয় ২ নম্বর আসামি বলে জানিয়েছে র‍্যাব।

র‍্যাব জানায়, কোরআনে হাফেজ হওয়ার উদ্দেশ্যে তিন বছর আগে মাধবপুরের হযরত আবু বকর ছিদ্দিক (রা.) হিফজুল কোরআন সুন্নীয়া নূরানী মাদরাসায় ভর্তি হয় জনি। সে সেখানে আবাসিকভাবে থেকে পড়াশোনা করত।

এজাহারের বরাত দিয়ে র‍্যাব আরও জানায়, মাদরাসার অর্থনৈতিক অনিয়ম ও দান-খয়রাতের অর্থ আত্মসাতের প্রতিবাদ করায় জনির ওপর ক্ষুব্ধ হন মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা আল-আমিন হোসাইন ও শিক্ষক মাহবুব আলম। এরই জেরে গত ২২ এপ্রিল রাতে ঘুমন্ত অবস্থায় জনিকে মারধর ও জোরপূর্বক বিষ খাইয়ে দেওয়া হয়।

পরদিন সকালে জনিকে অচেতন অবস্থায় পরিবারের কাছে পৌঁছে দিয়ে ‘জিনের আছর’ হয়েছে বলে দাবি করেন শিক্ষক মাহবুব। আশঙ্কাজনক অবস্থায় জনিকে উদ্ধার করে প্রথমে মাধবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও পরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া মেডিকেল কলেজে ভর্তি করা হয়। সেখান থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় জনির মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় নিহতের ভাই বাদী হয়ে মাধবপুর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলা দায়েরের পর গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে পলাতক আসামি মাহবুবকে গ্রেপ্তার করে র‍্যাব।

র‍্যাব-৯-এর মিডিয়া অফিসার (অতিরিক্ত পুলিশ সুপার) কে এম শহিদুল ইসলাম সোহাগ বলেন, ‘আইনি ব্যবস্থা নিতে গ্রেপ্তার আসামিকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য আসামিদের ধরতেও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’

ফয়সল চৌধুরী / ডিডি

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad