ছাতকে রোগীর সিরিয়ালকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, পুলিশসহ আহত ৭০

ছাতকে রোগীর সিরিয়ালকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, পুলিশসহ আহত ৭০

নিজস্ব প্রতিনিধি,সুনামগঞ্জ

০৫/০৯/২০২৬ ২১:২৮:২৮

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

সুনামগঞ্জ জেলার ছাতক পৌর এলাকায় চিকিৎসকের চেম্বােরে রোগী দেখানোর সিরিয়ালকে কেন্দ্র করে কথা কাটাকাটির জের ধরে দুই মহল্লাবাসীর মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে| শুক্রবার রাত সাড়ে ৭টা থেকে সাড়ে ৯টা পর্যন্তত্ম পৌরসভার হাসপাতাল রোড (মন্ডলীভোগ) ও মোগলপাড়ার মধ্যবর্তী পাকা সড়কে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

দুই মহল্লাবাসীর ওই সংঘর্ষে পুলিশসহ উভয় পক্ষের অন্তত ৭০ জন আহত হয়েছেন। এদের মধ্যে গুরুতর আহত সায়ান মিয়া, আনোয়ার হোসেন, কয়েছ মিয়া, আইনুল হক, সোহাগ মিয়া, আল আমিন ও সাইম উদ্দিনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ওই সংঘর্ষের পর থেকে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শহরের ট্রাফিক পয়েন্ট সংলগ্ন ‘দে ফার্মেসি’তে শিশু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. মো.হেদায়েত হোসেন নিয়মিত রোগী দেখেন। শুক্রবার সন্ধ্যার পুর্বে রোগীর সিরিয়াল লেখানো নিয়ে চিকিৎসকের সহকারী মন্ডলীভোগের অনিক আহমেদ ও মোগলপাড়ার তাহমিনা আক্তারের মধ্যে বাকবিতন্ডা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিয়ে দুই এলাকার লোকজনের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।

ওই ঘটনার জের ধরে রাত সাড়ে ৭টার দিকে দুই মহল্লাবাসীর লোকজন দেশীয় ইটপাটকেল ও লাটি-সোটা নিয়ে সরকারী হাসপাতাল রোড (মন্ডলীভোগ) ও মোগলপাড়ার মধ্যবর্তী পাকা সড়কের উপর সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। শুরু হয় উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া চলতে থাকে।

উভয় পক্ষের লোকজনকে দেশীয় অস্ত্রের পাশাপাশি ইটপাটকেল ও কাচের বোতল নিক্ষেপ করেতে দেখা গেছে। দফায় দফায় ধাওয়া পাল্টা দাওয়া ঘটনায় হাসপাতাল রোডে বাসিন্দা নারী, শিশু ও হাসপাতালে অবস্থানরত রোগীর স্বজনরাসহ হাসপাতালের লোকজন দিক-বেদিক ছুটাছুটি করতে শুরু করেন।

সংঘর্ষে পুলিশসহ অন্তত ৭০ জন আহত হন এর মধ্যে ৮ জনকে সিলেটে ও অন্য আহত ৬২ জনকে ছাতক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা ও ভর্তি করা হয়েছে। প্রায় দু’ঘন্টা ব্যাপী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটলেও পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কোন টিয়ারসেল বা রাবার বুলেট নিক্ষেপ না করায় তাদের ভুমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকেই। শেষ পর্যায়ে রাত সোয়া ৯টার দিকে ঘটনাস্থলে গিয়ে থানা পুলিশ ব্যাপক লাটিচার্জ করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আসে।

সংঘর্ষ চলাকালে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে একাধিক বার চেষ্টা চালিয়ে সাবেক পৌর কাউন্সিল জসিম উদ্দিন সুমেন সহ থানার উপ-পরিদর্শক মো.রোমেন মিয়াসহ পুলিশের কয়েকজন আহত হয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন।

খবর পেয়ে সহকারী পুলিশ সুপার (ছাতক সার্কেল) শেখ মো.মুরছালিন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) ঝলক মোহন্ত সংঘর্ষের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। ঘটনাস্থলে পুলিশের টহল জোরদার করা হয়েছে। 

নীরব চাকলাদার

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad