দিরাইয়ে হাওর এলাকার ইজারাকৃত জলমহালে জোরপূর্বক মাছ ধরে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ

মৎস্যজীবীদের সংবাদ সম্মেলন

দিরাইয়ে হাওর এলাকার ইজারাকৃত জলমহালে জোরপূর্বক মাছ ধরে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিনিধি,সুনামগঞ্জ

০৮/০৯/২০২৬ ২২:৩৪:৪০

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে উদগল-ছায়ার হাওর এলাকার ইজারাকৃত হাতনী জলমহালে জোরপূর্বক মাছ ধরে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। দুই দফায় জলমহালে হামলা করে বিপুল পরিমাণ মাছ লুট করা হয়েছে দাবি করে এর সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা ও জলমহালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে ইজারাপ্রাপ্ত জয়পুর মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১টায় দিরাই উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন সমিতির নেতারা। সংবাদ সম্মেলনে সমিতির একাধিক সদস্য উপস্থিত ছিলেন এবং লিখিত বক্তব্য তুলে ধরেন সাধারণ সম্পাদক বিকাশ রঞ্জন দাস।

সমিতির অভিযোগ, গত ৮ আগস্ট ও ২ সেপ্টেম্বর শাল্লা উপজেলার আটগাঁও, সোনাকানি, মির্জাপুর, নিজগাঁওসহ বিভিন্ন গ্রামের দুই শতাধিক লোক ৩০ থেকে ৪০টি নৌকা নিয়ে হাতনী জলমহালে প্রবেশ করেন। এ সময় তারা কোনা জাল, কারেন্ট জাল ও সুতার জাল ব্যবহার করে জোরপূর্বক মাছ ধরে নিয়ে যান। এতে আনুমানিক দেড় কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছে সমিতি।

বিকাশ রঞ্জন দাস বলেন, দুই দফা জলমহালে প্রবেশের সময় হামলাকারীরা দেশীয় অস্ত্র প্রদর্শন করে সমিতির লোকজনকে ভয়ভীতি দেখান এবং জলমহাল থেকে বিভিন্ন প্রজাতির বিপুল পরিমাণ মাছ ধরে নিয়ে যান। তাদের দাবি অনুযায়ী, লুট হওয়া মাছের বাজারমূল্য প্রায় দুই কোটি টাকা হলেও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আনুমানিক দেড় কোটি টাকা।

সমিতির সাধারণ সম্পাদক আরও বলেন, হাতনী জলমহালটি সরকারিভাবে ছয় বছর মেয়াদে ইজারা নিয়ে নিয়ম অনুযায়ী মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণ ও আহরণ করা হচ্ছে। জলমহাল থেকে নিয়মিত সরকারি রাজস্ব ও ইজারার অর্থ পরিশোধ করা হলেও বারবার মাছ লুটের ঘটনায় ইজারাদাররা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন। এতে জলমহালের ইজারা ও অন্যান্য ব্যয় পরিশোধ করাও কঠিন হয়ে পড়ছে বলে দাবি করেন তিনি।

সমিতির নেতারা জানান, গত দুই বছর ধরে জলমহালে ফাইল ফিশারি পদ্ধতিতে মাছ সংরক্ষণ করা হচ্ছে। তাদের অভিযোগ, সংরক্ষিত এলাকায় কারেন্ট জাল ও কোনা জাল ব্যবহার করে মাছ ধরার কারণে বড় মাছের পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ পোনা মাছও ধরা পড়ছে। এতে মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণ ও মাছের প্রজনন কার্যক্রম ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

এ ঘটনায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক বিকাশ রঞ্জন দাস বাদী হয়ে ২৩ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও প্রায় ২০০ জনের বিরুদ্ধে দিরাই ও শাল্লা থানায় পৃথক দুটি লিখিত অভিযোগ করেছেন বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।

জলমহালে পুনরায় মাছ লুটের আশঙ্কায় ইজারাদার ও মৎস্যজীবীদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে বলে দাবি করেছে সমিতি। একই সঙ্গে জলমহালের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা, মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণ এবং সরকারি রাজস্ব সুরক্ষায় প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়।

এ বিষয়ে দিরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সনজীব সরকার বলেন, মাছ লুটের অভিযোগ এনে সমিতির লোকজন দিরাই ও শাল্লা থানায় পৃথক লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে শাল্লা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সংবাদ সম্মেলন থেকে অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ, জলমহালের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং সরকারি রাজস্ব রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানানো হয়।

প্রীতম / আর আর

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad