আট বছরেও হয়নি চা শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচন, বাড়ছে ক্ষোভ ও অনিশ্চয়তা
বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় নির্বাচন আট বছর ধরে অনুষ্ঠিত না হওয়ায় চা শ্রমিকদের মধ্যে ক্ষোভ ও অনিশ্চয়তা বাড়ছে। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী প্রতি তিন বছর পর নির্বাচন হওয়ার কথা থাকলেও ২০১৮ সালের ২৪ জুনের পর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। ফলে মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটিই টানা আট বছর ধরে দায়িত্ব পালন করছে।
নির্বাচনের দাবিতে সম্প্রতি সিলেটে বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের বি-৭৭ ইউনিটের সহ-সভাপতি পঙ্কজ কুন্দের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি দেয়। এ সময় ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নিপেন পাল, সাংগঠনিক সম্পাদক পরেশ কালিন্দি, বিজয় হাজরাসহ ইউনিয়নের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। শ্রমিক নেতাদের দাবি, তিন মাস আগে স্মারকলিপি দেওয়ার পরও নির্বাচন নিয়ে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি।
শ্রমিকদের অভিযোগ, কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব নির্বাচন নিয়ে সাত ভ্যালির প্রতিনিধি বা বিভিন্ন চা বাগানের পঞ্চায়েতের সঙ্গে কোনো কার্যকর আলোচনা করছে না। এতে নির্বাচন আদৌ হবে কি না, তা নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের তথ্য অনুযায়ী, দেশে ১৭৮টি চা বাগানে ৯৬ হাজারের বেশি নিবন্ধিত ভোটার রয়েছেন। দীর্ঘদিন নির্বাচন না হওয়ায় অনেক স্থানে নির্বাচিত পঞ্চায়েতের পরিবর্তে অ্যাডহক কমিটি দিয়ে কার্যক্রম চলছে।
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের বিভিন্ন চা বাগানের শ্রমিকরা জানান, নির্বাচন না থাকায় সংগঠনের জবাবদিহিতা কমেছে এবং মজুরি, প্রভিডেন্ট ফান্ড, স্বাস্থ্যসেবাসহ বিভিন্ন দাবি কার্যকরভাবে তুলে ধরা যাচ্ছে না।
চা শ্রমিক ইউনিয়নের সহ-সভাপতি পঙ্কজ কুন্দ বলেন, অর্থসংকট ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে নির্বাচন বিলম্বিত হয়েছে। তবে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে এবং দ্রুত তফসিল ঘোষণার আশ্বাস পাওয়া গেছে।
চা শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রামভজন কৈরী ও সংস্কার কমিটির আহ্বায়ক বিশু প্রসাদ গোয়ালাসহ শ্রমিক নেতারা দ্রুত সরকারের তত্ত্বাবধানে একটি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের দাবি জানিয়েছেন।
নীরব চাকলাদার
মন্তব্য করুন: