সুনামগঞ্জে ইজারা দ্বন্দ্বে খেয়া বন্ধ, দুর্ভোগে হাজারো যাত্রী

সুনামগঞ্জে ইজারা দ্বন্দ্বে খেয়া বন্ধ, দুর্ভোগে হাজারো যাত্রী

নিজস্ব প্রতিনিধি,সুনামগঞ্জ

২৩/০৭/২০২৬ ২৩:৫৩:১৬

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলায় যাদুকাটা নদীর মিয়ারচর-পাঠানপাড়া খেয়াঘাট দখল নিয়ে দুই ইজারাদার পক্ষের মধ্যে দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয়েছে। এর জেরে বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) দুপুর ১২টা থেকে খেয়া পারাপার বন্ধ রয়েছে। এতে নদীর দুই পাড়ে আটকা পড়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন হাজার হাজার সাধারণ যাত্রী ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বাদাঘাট ইউনিয়নের পাঠানপাড়া ও বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার মিয়ারচর এলাকার এই খেয়াঘাটটি গত ১৮-২০ বছর ধরে ইজারা নিয়ে পরিচালনা করছেন বালিজুরী ইউনিয়নের মাহতাবপুর গ্রামের ইজারাদার মো. ওয়াহিদ মিয়া। সকালে শিশির মনির নামে এক ব্যক্তি ২০-২৫ জনের একটি দল নিয়ে ঘাটটি ‘দেবোত্তর স্টেট’-এর ইজারা বলে দাবি করে দখলে নেওয়ার চেষ্টা করেন। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে পারাপার বন্ধ হয়ে যায়।

ইজারাদার ওয়াহিদ মিয়া বলেন, ‘আমরা জেলা পরিষদ থেকে ইজারা নিয়ে দীর্ঘ দুই যুগ ধরে বৈধভাবে এই ঘাট পরিচালনা করছি। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্যও ৪২ লাখ টাকায় জেলা পরিষদ আমাদের টোল আদায়ের অনুমতি দিয়েছে। আজ হঠাৎ এক পক্ষ অবৈধ দাবি তুলে পারাপারে বাধা দিচ্ছে।’

অন্যদিকে দেবোত্তর স্টেটের মালিকানা দাবি করে শিশির আহমেদ বলেন, ‘আমি দেবোত্তর স্টেটের মালিক কালী চরণ ভজনের কাছ থেকে এই ঘাটের ইজারা এনেছি। জেলা পরিষদ উচ্চ আদালতের স্থিতাবস্থা (Status Quo) লঙ্ঘন করে ইজারা দিয়েছে। এই ঘাট জেলা পরিষদের নয়।’

দুই ইজারাদারের এই আইনি ও মালিকানা লড়াইয়ে মাঝপথে বিপাকে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত সমস্যার সমাধান না হলে যেকোনো সময় বড় ধরনের সংঘর্ষ ঘটতে পারে।

এ বিষয়ে জানতে সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা সমর কুমার পালের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। খুদে বার্তা পাঠানো হলেও তার কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। বর্তমানে ঘাট এলাকায় চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে।

শামসুল আলম আখঞ্জী / ডিডি

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad