প্রবাসী সাংবাদিক দুলাল চৌধুরীর উদ্বেগ
জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশন নির্বাচনে প্রার্থীর পক্ষে মন্ত্রীর লিফলেট প্রচার
ঢাকার ঐতিহ্যবাহী সামাজিক সংগঠন ‘জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশন’-এর নির্বাচনে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর পক্ষ থেকে একটি নির্দিষ্ট প্যানেলকে সমর্থন জানিয়ে প্রকাশিত প্রচারপত্র নিয়ে দেখা দিয়েছে নানা বিতর্ক ও মিশ্র প্রতিক্রিয়া। এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংগঠনের সাবেক কর্মকর্তা ও প্রবাসী জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক দুলাল আহমদ চৌধুরী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি মনে করেন, এ ধরনের প্রচারণা সংগঠনের দীর্ঘদিনের অরাজনৈতিক ঐতিহ্য ও নিরপেক্ষতার সংস্কৃতির পরিপন্থী, যা বহুল প্রতীক্ষিত নির্বাচনকে প্রভাবিত করতে পারে।
সংগঠনটির ৭৮ বছরের দীর্ঘ ইতিহাস ও ভ্রাতৃত্বের ঐতিহ্য স্মরণ করিয়ে দিয়ে দুলাল আহমদ চৌধুরী উল্লেখ করেন, অতীতে রাষ্ট্রীয় বা প্রশাসনিক বড় দায়িত্বে থাকা সিলেটের কোনো ব্যক্তি কখনো এই সামাজিক সংগঠনের নির্বাচনী প্যানেল নিয়ে প্রকাশ্যে পক্ষ অবলম্বন করেননি। তবে সম্প্রতি মন্ত্রী ও সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর নাম ও ছবিসংবলিত ফটোকার্ড একটি প্যানেলের পক্ষে প্রচার হতে দেখে অ্যাসোসিয়েশনের প্রবীণ ও নিরপেক্ষ সদস্যদের মনে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।
সাংবাদিক দুলাল আহমদ চৌধুরী তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টে লেখেন- "জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশন শুধু একটি সংগঠনের নাম নয়; এটি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে থাকা সিলেট বিভাগের মানুষের ঐক্য, ভ্রাতৃত্ব এবং সম্মিলিত পরিচয়ের প্রতীক। ১৯৪৮ সালে, অর্থাৎ প্রায় ৭৮ বছর আগে... এই সংগঠনের যাত্রা শুরু হয়। তাঁদের লক্ষ্য ছিল—রাজনীতি, মতাদর্শ ও ব্যক্তিগত বিভাজনের ঊর্ধ্বে উঠে সিলেটবাসীকে একটি অভিন্ন সামাজিক বন্ধনে আবদ্ধ করা।
তিনি উল্লেখ করেন, এমন প্রেক্ষাপটে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী এবং সাবেক সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র জনাব আরিফুল হক চৌধুরীর নামে একটি প্রচারপত্র বা ফটোকার্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত হচ্ছে, যেখানে একটি নির্দিষ্ট প্যানেলের প্রতি সমর্থনের আহ্বান জানানো হয়েছে। যদি এটি তাঁর অনুমোদিত হয়ে থাকে, তবে তা জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশনের দীর্ঘদিনের নিরপেক্ষতার সংস্কৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এবং এটি একটি অনভিপ্রেত নতুন নজিরের সূচনা করবে।
তিনি বলেন, আমরা বিশ্বাস করতে চাই, বিষয়টি হয়তো তাঁর পূর্ণ জ্ঞাতসারে ঘটেনি। কোনো মহল তাঁর নাম ও মর্যাদা ব্যবহার করে কিংবা ভুল তথ্য উপস্থাপন করে এ ধরনের প্রচারণা চালিয়ে থাকতে পারে। তাই মাননীয় মন্ত্রীর একটি সুস্পষ্ট বক্তব্য ও অবস্থান জালালাবাদবাসীর সব ধরনের সংশয় দূর করবে বলে আমরা প্রত্যাশা করি।
পোস্টে দুলাল আহমদ চৌধুরী আরও লিখেন, জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশনের সবচেয়ে বড় সম্পদ তার ঐক্য। নির্বাচন আসবে, নির্বাচন শেষ হবে; কিন্তু সংগঠনের ভ্রাতৃত্ব, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সৌহার্দ্য চিরদিন অটুট থাকুক—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।
দুলাল আহমদ চৌধুরী ২০০৬ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশনের একাধিক কমিটিতে বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি আহ্বান জানান, জাতীয় পর্যায়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা প্যানেল প্রতিদ্বন্দ্বিতার ঊর্ধ্বে থেকে অভিভাবকতুল্য ভূমিকা পালন করবেন—যাতে নির্বাচনের সাময়িক প্রতিযোগিতা পরবর্তী সময়ে সংগঠনে স্থায়ী কোনো বিভাজন তৈরি করতে না পারে। এ বিষয়ে বিভ্রান্তি দূরীকরণে তিনি মন্ত্রীর কাছ থেকে দ্রুত ও সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা প্রত্যাশা করেন।
ডিডি
মন্তব্য করুন: