প্রাথমিক শিক্ষার অবদান: সুনামগঞ্জে গুণী শিক্ষকের স্বীকৃতি পেলেন ৩ জন
প্রাথমিক শিক্ষায় দায়িত্বশীলতা, নিষ্ঠা ও অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে সুনামগঞ্জে জেলা পর্যায়ে গুণী শিক্ষক হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন তিন শিক্ষক। জেলার ১২টি উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মধ্য থেকে যাচাই বাছাই ও প্রক্রিয়া শেষে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে পরামর্শক্রমে তাদের নাম চূড়ান্ত করেছে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোহন লাল দাস স্বাক্ষরিত এক দাপ্তরিক আদেশে জেলা পর্যায়ে নির্বাচিত তিন গুণী শিক্ষকের নাম আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়। নির্বাচিত তিন শিক্ষক হলেন সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার রাজগোবিন্দ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রাছমিন বেগম চৌধুরী, মধ্যনগর উপজেলার নয়াবন্দ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. নূরুল আলম এবং শাল্লা উপজেলার শান্তিপুর ইসমাইল মিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সীমান্ত তালুকদার।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, জেলার বিভিন্ন উপজেলার শিক্ষকদের মধ্য থেকে গুণী শিক্ষক নির্বাচনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। পরবর্তীতে নির্বাচিত শিক্ষকদের প্রয়োজনীয় তথ্য নির্ধারিত ছকে বিভাগীয় উপপরিচালকের কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে।
জেলা পর্যায়ে নির্বাচিত হওয়ার পর প্রতিক্রিয়ায় রাজগোবিন্দ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রাছমিন বেগম চৌধুরী বলেন, যেকোনো কাজের স্বীকৃতি দায়িত্ব পালনে নতুন অনুপ্রেরণা তৈরি করে। এই সম্মান শুধু ব্যক্তিগত অর্জন নয় বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, সহকর্মী ও অভিভাবকদের সহযোগিতারও স্বীকৃতি। ভবিষ্যতে শিক্ষার্থীদের মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে আরও দায়িত্বশীলভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
মধ্যনগরের নয়াবন্দ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. নূরুল আলম বলেন, হাওরাঞ্চলের প্রতিকূল পরিবেশে শিশুদের নিয়মিত বিদ্যালয়ে আনা এবং তাদের পড়াশোনায় ধরে রাখা শিক্ষকদের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। জেলা পর্যায়ে এই স্বীকৃতি তার দায়িত্ববোধ আরও বাড়িয়েছে। হাওরাঞ্চলের পিছিয়ে থাকা শিশুদের শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করতে কাজ করে যাওয়ার কথা জানান তিনি।
শাল্লার শান্তিপুর ইসমাইল মিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সীমান্ত তালুকদার বলেন, একজন শিক্ষক হিসেবে এই স্বীকৃতি তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ অর্জন। শিশুদের মেধা বিকাশ ও শিক্ষার প্রতি আগ্রহ তৈরিতে যে প্রচেষ্টা চালিয়ে আসছেন, ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত রাখবেন বলে জানান তিনি।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহন লাল দাস বলেন, যোগ্য ও দায়িত্বশীল শিক্ষকদের কাজের মূল্যায়নের অংশ হিসেবেই গুণী শিক্ষক নির্বাচন করা হয়েছে। নির্বাচিত শিক্ষকদের তথ্য ইতোমধ্যে বিভাগীয় উপপরিচালকের কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। এ ধরনের স্বীকৃতি শিক্ষকদের নিজ নিজ দায়িত্ব পালনে আরও উৎসাহিত করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রাথমিক পর্যায়ে শিক্ষকদের দায়িত্বশীলতা ও অবদানের প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি শিক্ষা কার্যক্রমে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। তবে এ স্বীকৃতির পাশাপাশি প্রত্যন্ত ও হাওরাঞ্চলের বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার পরিবেশ, উপস্থিতি, অবকাঠামো এবং শিক্ষার্থীদের নিয়মিত বিদ্যালয়মুখী রাখার বিষয়েও কার্যকর নজরদারি প্রয়োজন।
প্রীতম দাস/ পূজা বাইড়াক/ প্রসি-২০২৬
মন্তব্য করুন: