সুনামগঞ্জে ওসির মানবিক উদ্যোগে মায়ের কোলে ফিরল দুই মাসের শিশু
অসুস্থ মা হাসপাতালের বিছানায় যন্ত্রণায় ছটফট করছেন, অন্যদিকে মায়ের বুক থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে কূলহারা হয়ে কাঁদছে মাত্র দুই মাসের অবোধ শিশু। স্বামী-স্ত্রীর তুচ্ছ পারিবারিক কলহের জেরে অসুস্থ স্ত্রীকে হাসপাতালে ফেলেই কোলের শিশুকে নিয়ে বাড়ি চলে এসেছিলেন স্বামী। অবশেষে সুনামগঞ্জের দিরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)-র তাৎক্ষণিক ও মানবিক পদক্ষেপে স্বস্তি ফিরল অসহায় মায়ের কোলে।
ঘটনাটি ঘটেছে সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলায়। পুলিশ ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, পিত্তনালির পাথরের চিকিৎসার জন্য প্রায় ২০ দিন আগে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন দিরাই উপজেলার ভাটিয়াগাঁও গ্রামের দিনমজুর নিপুন মিয়ার স্ত্রী বিনা বেগম (২৫)। আট দিন আগে তার অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়। চিকিৎসার খরচের জন্য বিনা বেগমের মা জমি বিক্রি করে দেড় লাখ টাকা দেন। তবে সেই টাকা নিজের দখলে নেওয়াকে কেন্দ্র করে স্বামী নিপুন মিয়ার সঙ্গে কলহ তৈরি হয় অসুস্থ স্ত্রীর।
এই বিরোধের জের ধরে সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) ভোরে কাউকে কিছু না জানিয়ে দুই মাসের শিশুসন্তান আতিকুলকে নিয়ে হাসপাতাল থেকে গ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা হন নিপুন মিয়া ও তার মা। সকালে ঘুম ভেঙে সন্তান ও স্বামীকে না পেয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েন অস্ত্রোপচার হওয়া অসুস্থ বিনা বেগম। দুগ্ধপোষ্য শিশু কাছে না থাকায় শারীরিক যন্ত্রণা ও মানসিক কষ্টে ভেঙে পড়েন তিনি।
পরে হাসপাতালের দায়িত্বরত পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ দেখে শিশুটিকে নিয়ে নিপুন মিয়ার বের হয়ে যাওয়ার দৃশ্য শনাক্ত করে এবং বিষয়টি তাৎক্ষণিক দিরাই থানা পুলিশকে জানায়। খবর পেয়েই কালক্ষেপণ না করে দুর্গম ভাটিয়াগাঁও গ্রামে ছোটেন দিরাই থানার ওসি মো. আমিনুল ইসলাম।
বিচ্ছিন্ন ও দুর্গম এলাকায় পৌঁছে শিশু আতিকুলকে উদ্ধার করেন ওসি। পাশাপাশি দায়িত্বজ্ঞানহীন কাজ করা বাবা নিপুন মিয়াকে বুঝিয়ে তার মাধ্যমেই নৌকায় করে শিশুকে পুনরায় হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। সোমবার সন্ধ্যায় শিশুটি আবার তার মায়ের কোলে ফিরে যায়।
মায়ের কোলে সন্তানকে ফিরিয়ে দেওয়া প্রসঙ্গে দিরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আমিনুল ইসলাম প্রথম সিলেটকে জানান, "অভিযোগ পাওয়ার পরপরই দুর্গম পথ পেরিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করি। এত ছোট শিশু মাকে ছাড়া বাঁচতে পারে না, আর মায়ের শরীরও খবরাখবর অনুযায়ী খারাপ হচ্ছিল। মানবিক খাতিরেই দ্রুত নৌকা নিয়ে গিয়ে শিশুকে উদ্ধার করে বাবার দায়িত্বে আবার হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়।"
নিজের ভুল স্বীকার করে নিপুন মিয়া জানান, মেজাজ হারিয়ে তিনি এই কাজ করেছিলেন, তবে পুলিশের বুঝানোর পর নিজের ভুল বুঝতে পেরে সন্তানকে নিয়ে স্ত্রীর কাছে ফিরে গেছেন।
সুহানুর রহমান সুমন/ ডিডি/ প্রসি-২০২৬
মন্তব্য করুন: