সুনামগঞ্জে অবহেলা আর অনিয়মে ডুবছে মুরারি চাঁদ উচ্চ বিদ্যালয়

৩৫ মাস বেতন বন্ধ, উপবৃত্তি থেকে বঞ্চনা

সুনামগঞ্জে অবহেলা আর অনিয়মে ডুবছে মুরারি চাঁদ উচ্চ বিদ্যালয়

প্রীতম দাস, সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি

০৯/০৯/২০২৬ ২১:০১:০০

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

কর্মঘণ্টা চলাকালেও ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের কক্ষে ঝুলছে তালা। অন্যদিকে শ্রেণি কার্যক্রম ফাঁকি দিয়ে শিক্ষার্থীরা আড্ডা দিচ্ছে বাজার আর ছাদে, এমনকি পাশের কক্ষে চলছে ধূমপান। একই সাথে শিক্ষকদের ৩৫ মাসের বেতন-ভাতা বন্ধ এবং শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তি না পাওয়ার মতো একাধিক অভিযোগ উঠেছে সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী মুরারি চাঁদ উচ্চ বিদ্যালয়ে।

বিদ্যালয়টির প্রশাসনিক ও আর্থিক অব্যবস্থাপনা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দারা। বিষয়টি সরেজমিনে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন সুনামগঞ্জ জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জুলফিকার হোসেন।

জানাগেছে, এমপিও নীতিমালা অনুযায়ী জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নিয়োগের বিধান থাকলেও, বিদ্যালয়টিতে ২০২০ সালে নিয়োগ পাওয়া জুনিয়র ক্রীড়া শিক্ষক মোহাম্মদ নূর আলীকে ভারপ্রাপ্ত প্রধানের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, জ্যেষ্ঠ শিক্ষকদের ডিঙিয়ে কোন লিখিত আদেশে এবং কার অনুমোদনে তাকে এ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তা স্পষ্ট নয়।

সহকারী শিক্ষক সঞ্জীবন রায় বলেন, জ্যেষ্ঠ শিক্ষকরা দায়িত্বে থাকা সত্ত্বেও কীভাবে একজন জুনিয়র শিক্ষককে দায়িত্ব দেওয়া হলো, তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট করা দরকার।

বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক পবিত্র ভূষণ তালুকদার জানান, শিক্ষকেরা প্রায় ৩৫ মাস ধরে বেসরকারি অংশের বেতন-ভাতা, বোনাস ও প্রভিডেন্ট ফান্ডের টাকা পাচ্ছেন না। ২০২৩ সালের পর থেকে এই অর্থ দেওয়া বন্ধ রয়েছে। এ ছাড়া ২০২৪ এবং ২০২৬ সালের বড় একটি সময়ে রশিদ ছাড়াই শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বেতন আদায় করার অভিযোগ করেন তিনি।

অনুসন্ধানে দেখা যায়, ২০২৫ ও ২০২৬ সালে বিভিন্ন খাত থেকে বিদ্যালয়ের মোট আয় হয়েছে প্রায় ১৪ লাখ ৬১ হাজার ৫০০ টাকা। কিন্তু এ সময়ে ব্যাংকে জমা দেওয়া হয়েছে মাত্র ৬ লাখ ৮৯ হাজার টাকা। বাকি প্রায় ৭ লাখ ৭২ হাজার টাকার কোনো সুস্পষ্ট হিসাব নেই।

এদিকে অনুসন্ধান করতে গিয়ে শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তি প্রদানের ক্ষেত্রে চরম স্বজনপ্রীতি ও অনিয়মের তথ্য মিলেছে। বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী অমিয় মৈত্র জানান, ২০২৬ সালে ষষ্ঠ শ্রেণিতে ১০২ জন শিক্ষার্থী ভর্তি হলেও উপবৃত্তির জন্য মাত্র ৪০ জনের নাম পাঠানো হয়েছে। ফলে বিপুল সংখ্যক যোগ্য শিক্ষার্থী সরকারি সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এমনকি অনেক শিক্ষার্থীর নাম ভর্তি রেজিস্টারেও তোলা হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।

এসব বিষয়ে বক্তব্য জানতে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ নূর আলীর ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

তবে জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জুলফিকার হোসেন বলেন, “উপজেলায় শিক্ষা কর্মকর্তার পদগুলো শূন্য থাকায় নিয়মিত তদারকিতে সমস্যা হচ্ছিল। আমি নতুন যোগদান করেছি, দ্রুতই বিদ্যালয়টি সরেজমিনে পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

ডিডি/ নীরব চাকলাদার

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad