তাহিরপুরে স্কুলছাত্রী অপহরণের ২ মাস: অধরা আসামিরা

পুলিশের ব্যর্থতার অভিযোগ

তাহিরপুরে স্কুলছাত্রী অপহরণের ২ মাস: অধরা আসামিরা

নিজস্ব প্রতিনিধি, তাহিরপুর

২১/০৯/২০২৬ ১৭:০১:০০

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে এক স্কুলছাত্রী অপহরণের পর দুই মাস পার হয়ে গেলেও তাকে উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ। এমনকি মামলায় নাম থাকা চিহ্নিত আসামিদেরও এখনো গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। অপহৃত ছাত্রী স্থানীয় তাহিরপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী।

মামলার এজাহার ও ভুক্তভোগীর পরিবার সূত্রে জানা যায়, স্কুলে যাওয়া-আসার পথে সিম্মি নামে ওই শিক্ষার্থীকে নিয়মিত উত্ত্যক্ত করত স্থানীয় বখাটে শেখ মহসিন এলিন পাশা (২৬)। বিষয়টি পরিবারকে জানানোর পর তার বাবা আসামির পরিবারকে জানালে তারা প্রতিকার না করে উল্টো অশালীন আচরণ করে।

পরবর্তীতে গত ২৬ জুলাই সকাল সাড় ৯টার দিকে স্কুলে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হলে তাহিরপুর-সুনামগঞ্জ সড়ক থেকে তাকে জোরপূর্বক অপহরণ করা হয়। স্বজনদের অভিযোগ, চিকসা গ্রামের শেখ কবির আহমেদ পাশার ছেলে শেখ মহসিন এলিন পাশাসহ তার পরিবারের সদস্য শেখ কবির আহমেদ পাশা (৫০), শেখ শফিক আহমেদ পাশা (৫৪), শেখ আলমগীর পাশা (৪৫) ও শেখ ফরহাদ পাশা (৩২) তাকে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়।

এ ঘটনায় গত ২ আগস্ট অপহৃত ছাত্রীর বাবা সাকিল পারভেজ বাদী হয়ে তাহিরপুর থানায় উল্লিখিত ৫ জনকে আসামি করে একটি অপহরণ মামলা দায়ের করেন (মামলা নং-১/২৬)।

ভুক্তভোগী ছাত্রীর বাবা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "ঘটনার দুই মাস পেরিয়ে গেলেও পুলিশ আমার মেয়েকে উদ্ধার কিংবা আসামিদের আটক করতে পারেনি। আসামিরা প্রকাশ্যেই ঘুরে বেড়াচ্ছে।" মেয়েকে দ্রুত ফিরে পেতে তিনি সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপার, র‍্যাব ও ডিবি পুলিশের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।

বিষয়টি নিয়ে তাহিরপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক তরিকুল ইসলাম জুবায়ের জানান, পরিবারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্কুলে বিষয়টি জানানো হয়নি। লিখিত অভিযোগ পেলে পরিচালনা পর্ষদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তবে তাহিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফারুক আহমেদ প্রথম সিলেটকে জানান, অপহৃত স্কুলছাত্রীকে উদ্ধার এবং আসামিদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

শামসুল আলম আখঞ্জী/ ডিডি/ প্রসি-২০২৬

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad