'সহকারী এমপি'র ভিআইপি সফরসূচি! হবিগঞ্জে সিমি কিবরিয়ার 'প্রটোকল' ঘিরে ট্রল

'সহকারী এমপি'র ভিআইপি সফরসূচি! হবিগঞ্জে সিমি কিবরিয়ার 'প্রটোকল' ঘিরে ট্রল

নীরব চাকলাদার

১৫/০৯/২০২৬ ২৩:৫৮:০৮

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

এমপি মহোদয় জনপ্রতিনিধি, কিন্তু তাঁর সহধর্মিণী ঠিক কোন প্রটোকলে সরকারি ও আধাসরকারি প্রতিষ্ঠান পরিদর্শনের এমন ধামাকাদার 'ভিআইপি সফরসূচি' ঘোষণা করেন—তা নিয়ে এখন হবিগঞ্জে রীতিমতো তোলপাড় চলছে! সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এএসএম কিবরিয়ার পুত্রবধূ ও হবিগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য ড. রেজা কিবরিয়ার সহধর্মিণী সিমি কিবরিয়া সম্প্রতি নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুকে একটি জমকালো সফরসূচির ফটোকার্ড পোস্ট করতেই তা নিয়ে নেটপাড়ায় বইছে রসালো ট্রল, কৌতুহল আর ক্ষোভের মিশ্র ঝড়।

উদ্যোক্তা ও সমাজসেবক হিসেবে সারাদেশে সিমি কিবরিয়ার নিজস্ব একটি পরিচিতি থাকলেও, স্বামীর সংসদীয় এলাকায় প্রতি মাসে তাঁর এই নিয়মিত "পরিদর্শন ও নির্দেশনা সেশন" এখন আলোচনার তুঙ্গে। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত সফরসূচিতে দেখা যায়, ১৬ ও ১৭ সেপ্টেম্বর তিনি বাহুবল ও নবীগঞ্জের বিভিন্ন স্কুল পরিদর্শন, রেইনকোট বিতরণ, ফুটবল টুর্নামেন্টে প্রধান অতিথি এবং বিভিন্ন ব্যবস্থাপনা কমিটির সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। আপাতদৃষ্টিতে এসব কোনো সাধারণ উদ্যোক্তার মতবিনিময় সভা নয়, বরং একেবারে সরকারি কর্তাব্যক্তিদের মতো প্রটোকলঘেঁষা সফর!

সংসদ সদস্য স্বামীর অনুপস্থিতিতে এই 'বিকল্প প্রটোকল' চর্চা দেখে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নেটিজেনরা আর মুখে কুলুপ এঁটে বসে থাকতে পারেননি। কেউ তাঁকে 'সহকারী এমপি' আখ্যা দিয়ে বিদ্রূপ করছেন, আবার কেউ মেজাজ হারিয়ে মনে করিয়ে দিচ্ছেন এলাকার বেহাল রাস্তার কথা।


সিমি কিবরিয়ার পোস্টের কমেন্ট বক্সে দৃষ্টি রাখলেই নেটিজেনদের মজাদার মন্তব্যের বহর দেখা যায়:


বিতলা খাম্বা নামের এক আইডি থেকে খোঁচা মেরে মন্তব্য করা হয়— "আমাদের সহকারী এমপি! ???"


Mustak Ahmed নামক এক ব্যবহারকারী সরাসরি প্রটোকল নিয়ে প্রশ্ন তুলে লিখেছেন— "আপনি কে সময় সূচি দেওয়ার?"


আবার Sagor Talukdar তাচ্ছিল্যভরে লিখেছেন— "বাহ্ বাহ্ এখন এমপির বউ এর ও সিডিউল থাকো!"


কনটেন্ট বা প্রচারণার দিকে ইঙ্গিত করে Bablu Dip লিখেছেন— "Nice work! Simi Kibria সিমি কিবরিয়া আর কতো ভিউ ব্যবসা করবেন। এবার তো একটু থামেন!"


অন্যদিকে, দীর্ঘ মন্তব্য করে ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন Md Mahbub। তিনি রূপক ছলে লিখেছেন— "মাননীয় এমপি মহোদয়ের সহধর্মিণী আপনি একটু কাজীর বাজার টু মার্কুলি সফর করেন, প্লিজ... বুঝতে পারবেন রাস্তা কি না, নাকি কবরের জন্য যাওয়ার জন্য প্রস্তুত। অটোমেটিক আপনাদের বিবেক নাড়া দিবে... সিমি কিবরিয়া সাহেবা আমরা ইউরোপের মত রাস্তায় চলাফেরা করি আপনার কোন কষ্ট হবে না একদিন শুধু একদিন সফর করলে..."


এসি রুমের রাজনীতি নিয়ে প্রশ্ন তুলে র. নি লিখেছেন— "এলাকার উন্নয়নের কোনো কাজ তো চোখে পড়ে না! আমরা কি সারা জীবন এই ভোগান্তির মধ্যেই দিন কাটাব? আপনারা এসি রুমে বসে আরামের বাতাস খান... একদিন এসি রুম ছেড়ে প্রতিটি ইউনিয়নের রাস্তা ঘাটে ঘুরে দেখেন..."

একজন নির্বাচিত এমপির স্বজন কিংবা সহধর্মিণী হিসেবে সামাজিক বা মানবিক কাজ করার অধিকার সবারই রয়েছে। তবে নিজস্ব ভেরিফায়েড পেজে সরকারি কর্মকর্তা বা জনপ্রতিনিধিদের মতো ভিআইপি ফটোকার্ড ও সফরসূচি প্রকাশ করে এলাকা পরিদর্শন করাটা রাজকীয় বাড়াবাড়ি নাকি ক্ষমতার অনাকাঙ্ক্ষিত চর্চা—তা নিয়ে স্থানীয় সচেতন মহলে এখন হাসাহাসি ও বিতর্কের অন্ত নেই।

নীরব চাকলাদার

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad