সবাইকে নিয়ে চলার’ অভিনব বয়ান
জুড়ীতে সরকারি সভায় নিষিদ্ধ দলের নেতার হাজিরায় তুমুল হুলুস্থুল!
সরকারি আদেশ আর আইনের তোয়াক্কা না করে ‘সবাইকে নিয়ে চলার’ এক অদ্ভুত রাজনৈতিক বদান্যতা নিয়ে মৌলভীবাজারের জুড়ীতে চরম হট্টগোল বেঁধেছে! উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মতো স্পর্শকাতর সরকারি সভায় নিষিদ্ধঘোষিত স্বেচ্ছাসেবক লীগের এক নেতার সদর্প উপস্থিতিতে এখন সমালোচনার ঝড় বইছে চারদিকে।
ঘটনা সোমবারের (১৪ সেপ্টেম্বর)। জুড়ী উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় দিব্যি আসন অলঙ্কৃত করতে দেখা যায় জুড়ী উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক সিরাজুল ইসলামকে। যদিও তাঁর প্রধান পরিচয় হিসেবে সামনে আনা হচ্ছে 'জুড়ী উপজেলা প্রেস ক্লাব' নামের একটি সংগঠনের সভাপতির পদটি। এক কমিটিতে একাধিক প্রেস ক্লাবের প্রতিনিধি রাখার বিধান না থাকা এবং নিষিদ্ধ সংগঠনের পদধারীকে ‘ফ্যাসিস্ট পুনর্বাসনের’ আমেজ দিয়ে কেন নিমন্ত্রণ জানানো হলো—এই প্রশ্নে তাৎক্ষণিক ফুঁসে ওঠেন জুড়ী প্রেস ক্লাবের সভাপতি তানজির আহমেদ রাসেল। ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে ইউএনওর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি তৎক্ষণাৎ সভা বর্জন করেন। একই সাথে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে জুড়ী রিপোর্টার্স ইউনিটিও।
কিন্তু আসল চমক দেখা গেল মৌলভীবাজার-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. নাসির উদ্দিন আহমেদের মুখে! নিজের অবস্থান সাফ করতে গিয়ে তিনি যেন রাজকীয় ঢঙে বলেই বসলেন, “সরকার থেকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সবাইকে নিয়ে চলার জন্য। প্রজ্ঞাপনে যা-ই থাক, আমি নাসির উদ্দিন মিঠু এমপি এটা করেছি!”
যদিও স্থানীয় ইউএনও মো. ফজলে রাব্বানী চৌধুরী দায় চাপালেন এমপির কাঁধেই—এমপির নির্দেশেই নাকি ওই বিতর্কিত নেতাকে আমন্ত্রণ জানানো। কিন্তু এমপির এই ‘সবাইকে নিয়ে চলার’ গালগল্প এক মুহূর্তেই হাওয়া করে দিলেন জাতীয় সংসদের হুইপ জিকে গউছ। সাফ জানিয়ে দিলেন, সরকার থেকে এমন কোনো খেয়ালখুশিমতো নির্দেশ দেওয়া হয়নি। উল্টো ক্ষোভ উগড়ে দিয়ে তাঁর প্রশ্ন, যারা অতীতে মানুষের জানমাল ধ্বংস করেছে, তারা কোন লজ্জায় আবার সরকারি সভায় বসে?
সরকারি নির্দেশনার তোয়াক্কা না করা, রাজনৈতিক চাতুর্য নাকি এমপি মহোদয়ের একচ্ছত্র কেরামতি—আইনশৃঙ্খলা কমিটির এই রঙিন কাণ্ড ঘিরে জুড়ীতে এখন তুমুল তোলপাড়!
হিফজুর রহমান / নীরব চাকলাদার
মন্তব্য করুন: