বিশ্বমঞ্চে স্বর্ণপদক জয়ী ক্ষুদে বিস্ময় বালক সিলেটের ইয়াফী
বিশ্বমঞ্চে যেন আজ লাল-সবুজের আরেক বিজয়ের গল্প লেখা হলো! বিশ্বজুড়ে হাজারো দামাল ক্ষুদেদের ভিড়ে মাত্র ৮ বছর বয়সের এক বিস্ময়-বালক প্রমাণ করে দিল—মেধা, স্বপ্ন আর অদম্য সাহসের সামনে বয়স শুধুই একটি সংখ্যা।
মালয়েশিয়ার বুকে বিশ্বমানের উদ্ভাবনী প্রতিযোগিতা ‘ওয়ার্ল্ড ইনভেনশন কম্পিটিশন অ্যান্ড এক্সিবিশন (WICE) ২০২৬’-এর মঞ্চে যখন ভেসে এলো “GOLD MEDAL goes to WASHIQ JAHED YAFI - SYT INNOVATORS, BANGLADESH!”—তখন একমুহূর্তের জন্য যেন থমকে গিয়েছিল পুরো প্রেক্ষাগৃহ। বিশ্বজয়ের সেই গর্বিত মুহূর্তে লাল-সবুজের পতাকাকে আন্তর্জাতিক রোবোটিক্সের সর্বোচ্চ চূড়ায় উড়িয়ে দিল আমাদের ক্ষুদে বিস্ময় ওয়াশিক জাহেদ ইয়াফী! ইয়াফী সিলেটের মৌলভীবাজার জেলাধীন জুড়ীর সন্তান।
‘আইটি অ্যান্ড রোবোটিক্স’ ক্যাটাগরিতে বিশ্বের ৩০টি দেশের হেভিওয়েট সব বিশ্ববিদ্যালয়, আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান আর বাঘা বাঘা প্রযুক্তি সংস্থার ৫১৭টি দলকে পেছনে ফেলা কোনো সহজ কথা নয়! কিন্তু সিলেটের স্টেমেস স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ক্ষুদে কাপ্তান ইয়াফী তার দল ‘SYT Innovators’-কে নিয়ে ঠিক সেটাই করে দেখিয়েছে। তাদের আবিষ্কৃত যুগান্তকারী ‘AI Military Rover’ আন্তর্জাতিক বিচারকদের চোখ ধাঁধিয়ে কাড়ি কাড়ি নম্বর আদায় করে নিয়েছে, ছিনিয়ে এনেছে কাঙ্ক্ষিত সেই স্বর্ণপদক!
ছেলের এমন ঐতিহাসিক জয়ে বাবা জাহেদ হোসেন তা জিনের চোখে তখন শুধুই আনন্দাশ্রু। বাষ্পরুদ্ধ কণ্ঠে, আবেগে আপ্লুত হয়ে তিনি বলছিলেন “যখন মাইকে বাংলাদেশের নাম ঘোষণা করা হলো, সত্যি বলতে আমি নিজের চোখকে ধরে রাখতে পারিনি! ওটা কেবল একটি সোনার মেডেল ছিল না; ওটা ছিল আমার ৮ বছরের বাচ্চার অদম্য সাধনা, মেধা আর কতগুলো নির্ঘুম রাতের ফসল। আজ ইয়াফী শুধু আমার সন্তান নয়, ও পুরো বাংলাদেশের গর্ব!”
জুড়ীর কাদা-মাটি আর সিলেটের আঙিনা পেরিয়ে ৮ বছরের ইয়াফী এখন টেক-বিশ্বের এক উদীমান তারা। বড় ভাই ওয়াফিক জাহেদ ঈশানের অনুপ্রেরণা আর ব্যাংকার মা উম্মে কুলছুম তাহমিনার ভালোবাসায় লালিত এই ক্ষুদে বিজ্ঞানী দেখিয়ে দিল—ভবিষ্যতের প্রযুক্তিনির্ভর পৃথিবীকে নেতৃত্ব দিতে বাংলাদেশ আজ পুরোপুরি প্রস্তুত!
হিফজুর রহমান/ নীরব চাকলাদার/ প্রসি-২০২৬
মন্তব্য করুন: