শাহজালাল মাজারের ডেকচিতে এবার আজব ‘প্রেমপত্র’!
টাকা-পয়সার ভিড়ে শাহজালাল (র.) মাজারে এবার উদ্ধার হলো এক রহস্যময় ‘প্রেমপত্র’! না, কোনো প্রেমিক-প্রেমিকার কিসসা নয়; সিলেট মাজারের বিখ্যাত ডেকচিতে এবার সন্ধান মিলেছে এক অজ্ঞাতনামা ভক্তের আক্ষেপ আর ‘খোকন মামু’র প্রতি অসীম ভালোবাসা মাখানো একখানা স্পেশাল চিরকুট।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টা ৫৫ মিনিটে যখন মাজার প্রাঙ্গণের দানবাক্স আর ডেকচিগুলোর তালা খোলা হচ্ছিল, তখনই খামের ভেতর থেকে উঁকি দেয় এই আজব চিরকুট। লেখক অবশ্য অতটা ঝুঁকি নেননি—নিজের নাম-ঠিকানা পুরোটাই রেখেছেন ‘সিক্রেট’!
চিরকুটের বাণী যেন এক চরম আবেগঘন রাজনৈতিক বিরহগাঁথা! সেখানে খুব দুঃখ প্রকাশ করে লেখা হয়েছে, ‘বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সরকার থাকলে খোকন মামুর এই অবস্থা হতো না।’ এখানেই শেষ নয়, নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের কজন নেতার নাম জপে নিয়ে খোকন মামুকে অভিহিত করা হয়েছে ‘অন্তরের মায়ার মানুষ’ হিসেবে। মনের আবেগ ধরে রাখতে না পেরে চিরকুটের এক কোণে আঁকা হয়েছে একটা জ্বলজ্বলে হার্ট/হৃদয়, আর লেখা হয়েছে—‘ইউ’ (You) এবং ‘মামুজি’!
চিরকুটখানা প্রকাশ্যে আসতেই মাজারে আসা দর্শনার্থী ও খাদেমদের মুখে মুখে এখন একটাই প্রশ্ন—‘কে এই খোকন মামু?’ তবে চিরকুটের লেখকের মতো এই পরম আদরের ‘খোকন মামু’র পরিচয়ও এখনো কুয়াশাচ্ছন্ন!
এদিকে চিরকুট কান্ডে একটু বিনোদন মিললেও দানবাক্সের আসল কাজ কিন্তু থেমে থাকেনি। মাজারের আর্থিক লেনদেনে শতভাগ স্বচ্ছতা আনতে জেলা প্রশাসন, সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক) ও মাজার কমিটির কর্তাব্যক্তিদের সশরীরে উপস্থিতিতে জোরকদমে চলছে টাকা গণনার মহোৎসব।
সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিউক) চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী জানান, সব নিয়ম-কানুন মেনেই সততার সাথে আগের মতো টাকা গোনা হচ্ছে। এই বিপুল পরিমাণ অর্থ জমা হবে জেলা প্রশাসকের অফিশিয়াল অ্যাকাউন্টে।
তিনি আরো জানান, দানবাক্সের টাকা কোন শুভ কাজে কীভাবে খরচ করা হবে, তা নিয়ে গঠন করা কমিটি অলরেডি সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছে। খুব শিগগিরই সংবাদ সম্মেলন করে বিস্তারিত জানিয়ে দেওয়া হবে। পাশাপাশি মাজারে আসা ভক্ত-আশেকানদের নিরাপত্তা আর আরাম-আয়েশে যাতে কোনো কমতি না হয়, সেদিকেও নজর রাখছে কর্তৃপক্ষ।
তবে এত সব হিসাব-নিকাশের মাঝেও মাজার প্রাঙ্গণে সবার মনে এখন একটাই কৌতূহল—‘মামুজি, আপনি আসলে কই?’
নীরব চাকলাদার/ ডিডি/ প্রসি-২০২৬
মন্তব্য করুন: