শ্রীমঙ্গলে দুইদিনে তিন সাপ উদ্ধার, জনমনে আতঙ্ক
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলায় লোকালয় ও বসতবাড়িতে একের পর এক বিষধর ও হিংস্র সাপের উপদ্রবে চরম উদ্বেগ ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। মাত্র দুইদিনের ব্যবধানে পৃথক স্থান থেকে ১৬ ফুট দীর্ঘ অজগর, অত্যন্ত বিষধর ‘পদ্ম গোখরা’ এবং একটি ইন্ডিয়ান র্যাট স্নেক (দাঁড়াশ) সাপ অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২ টার দিকে শ্রীমঙ্গল উপজেলার ভুরভুরিয়পা চা বাগানে পাতা সংগ্রহের সময় শ্রমিকরা একটি সাপ দেখে আতঙ্কিত হয়ে ‘সাদা খরিস’ বলে চিৎকার করতে থাকেন।
খবর পেয়ে উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে গিয়ে নিশ্চিত করে যে এটি বিপজ্জনক সাদা খরিস নয়, বরং ‘ইন্ডিয়ান র্যাট স্নেক’ বা দাঁড়াশ সাপ। পরে সেটিও নিরাপদে উদ্ধার করা হয়।
এর আগে শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) রাত ১২টা ১০ মিনিটে শ্রীমঙ্গল উপজেলার ইছবপুর এলাকায় মিতালি ডেকোরেটার্সের মালিক মরহুম হারুন মিয়ার বসতবাড়িতে তার ভাতিজা সাজিদ মিয়ার ঘরের খাটের নিচে ২৬ কেজি ওজনের ও ১৬ ফুট দীর্ঘ একটি দানবীয় অজগর দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা। আতঙ্কিত গৃহকর্তারা স্থানীয় চিকিৎসক ডা. প্রলাদ বাবুর মাধ্যমে খবর দিলে বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের পরিচালক স্বপন দেব সজল ও পরিবেশকর্মী রাজদীপ দেব দীপ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দীর্ঘ প্রচেষ্টায় অজগরটি উদ্ধার করেন।
একই দিন শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬ টার দিকে কালিঘাট চা বাগানের কম্পিউটার অপারেটর উত্তম আচার্যের কোয়ার্টারে হানা দেয় অত্যন্ত বিষধর ও প্রাণঘাতী ‘পদ্ম গোখরা’। আতঙ্কিত পরিজনদের উপস্থিতিতে উদ্ধারকারীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সাপটি ধরে ফেলেন। উদ্ধারকৃত তিনটি সাপকেই শ্রীমঙ্গল বন বিভাগের রেঞ্জ কার্যালয়ে হস্তান্তর করা হয়েছে।
শ্রীমঙ্গল বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা কাজী নাজমুল ইসলাম জানান, সাপগুলোকে নিরাপদ বনাঞ্চলে অবমুক্ত করা হবে।
বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের মতে, মূল বনাঞ্চল উজাড় হওয়া ও খাদ্যের সংকট দেখা দেওয়ায় বন্যপ্রাণীরা লোকালয়ে হানা দিচ্ছে। বাসাবাড়িতে সাপ দেখলে আতঙ্কিত না হয়ে বা আঘাত না করে দ্রুত বন বিভাগ বা বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনে খবর দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
শাহিন আহমেদ/ নীরব চাকলাদার/ প্রসি-২০২৬
মন্তব্য করুন: