চতুর্থ দফায় শাহজালাল মাজারের দানবাক্সে মিলল ৮৯ লাখ টাকা

চতুর্থ দফায় শাহজালাল মাজারের দানবাক্সে মিলল ৮৯ লাখ টাকা

প্রথম সিলেট প্রতিবেদন

১৯/০৯/২০২৬ ২০:১৩:৪৬

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

সিলেটের হযরত শাহজালালের (রহ.) মাজারের তিনটি ডেগ ও পাঁচটি দানবাক্স খুলে ৮৮ লাখ ৯২ হাজার ৯৬৮ টাকা পাওয়া গেছে। এ ছাড়া ১ ভরি ৯ আনা ২ রতি স্বর্ণ এবং ১৫ দেশের বৈদেশিক মুদ্রা পাওয়া গেছে।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) ৩৪ দিন পর সকাল ৯টা থেকে শুরু হওয়া দানবাক্সের অর্থ গণনা শেষ হয় সন্ধ্যায়।

সন্ধ্যায় গণনা শেষে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক ও মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “এবার পাওয়া অর্থও জেলা প্রশাসকের ব্যবস্থাপনায় খোলা ব্যাংক হিসাবে জমা রাখা হবে।”

এর আগে সকাল থেকে জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে মাজার প্রাঙ্গণে সিলগালা করা ডেগ ও দানবাক্স খোলা হয়। পরে এসব থেকে পাওয়া নগদ টাকা ও বৈদেশিক মুদ্রা গণনার কাজ শুরু হয়।

মাজার কর্তৃপক্ষের হিসাব অনুযায়ী, তিনটি ডেগ ও পাঁচটি দানবাক্স থেকে পাওয়া বাংলাদেশি মুদ্রার পরিমাণ ৮৮ লাখ ৯২ হাজার ৯৬৮ টাকা। এর সঙ্গে পাওয়া গেছে ১ ভরি ৯ আনা ২ রতি স্বর্ণ। বৈদেশিক মুদ্রার মধ্যে রয়েছে যুক্তরাজ্যের ৫ পাউন্ড, ভারতের ৩ হাজার ৯৯৪ রুপি, থাইল্যান্ডের ৫ বাত, সৌদি আরবের ৯৯ রিয়াল ২৫ পয়সা, মালয়েশিয়ার ২৯ রিঙ্গিত, যুক্তরাষ্ট্রের ৮ ডলার ২ সেন্ট, ওমানের ৯০৩ বায়সা, সংযুক্ত আরব আমিরাতের ৫৭ দিরহাম ২৫ সেন, ইরাকের ১ দিনার, কাতারের ২১ রিয়াল ৫০ পয়সা, ইউরোপের ৩০ ইউরো ১০ সেন্ট, বাহরাইনের ০.০২৫ পয়সা, পাপুয়া নিউ গিনির ৫০ কিনা, চীনের ১৫ ইউয়ান এবং ইন্দোনেশিয়ার ৫ হাজার রুপিয়া।

এবার ৩৪ দিন পর মাজারের ডেগ ও দানবাক্স খোলা হলো। সর্বশেষ গত ১৫ আগস্ট তৃতীয় দফায় এগুলো খুলে টাকা গণনা করা হয়েছিল। সেবার প্রায় ৭০ লাখ টাকা পাওয়া যায়। বাংলাদেশি টাকার পাশাপাশি পাউন্ড, ডলার, রিয়াল, রুপি ও দিরহামসহ বিভিন্ন দেশের মুদ্রাও পাওয়া যায়।

এর আগে গত ২২ জুন প্রথম দফায় গণনা করে প্রায় ১৭ লাখ টাকা পাওয়া যায়। দ্বিতীয় দফায় ১১ জুলাই গণনা করা হয় প্রায় অর্ধকোটি টাকা। ওই দুই দফায় পাওয়া অর্থও জেলা প্রশাসকের ব্যবস্থাপনায় খোলা ব্যাংক হিসাবে জমা রাখা হয়েছে।

মাজার কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, আয়-ব্যয়ের ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে তৎকালীন জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম গত ১৮ জুন মাজারের দানবাক্সগুলো সিলগালা করে নতুন দানবাক্স স্থাপন করেন। একই সঙ্গে ঐতিহাসিক তিনটি ডেগও সিলগালা করা হয়।

মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও সার্বিক পরিচালনায় স্বচ্ছতা আনতে গত ২৬ জুন স্থানীয় সংসদ সদস্য ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদিরের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত এক সভায় ১৩ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটির তত্ত্বাবধানেই মাজারের ডেগ ও দানবাক্সের টাকা গণনা করা হচ্ছে।

নীরব চাকলাদার/ ডিডি/ প্রসি-২০২৬

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad