সুনামগঞ্জে ২২ শতক ভিপি জমি ঘিরে বিরোধ, নিরাপত্তা চান মমতাজ বেগম
দিরাই উপজেলার চাঁদপুর মৌজায় ২২ শতক ভিপি (অর্পিত) ভূমি নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে উচ্ছেদ ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ করেছেন মোছাঃ মমতাজ বেগম। দীর্ঘদিন ধরে ওই ভূমি বন্দোবস্ত নিয়ে ভোগদখল ও সরকারি রাজস্ব পরিশোধ করে আসছেন দাবি করে তিনি নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তার পাশাপাশি চলমান আইনি প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত ভূমিটি নিয়ে কোনো ধরনের জবরদখল বা নামজারি কার্যক্রম না করার দাবি জানিয়েছেন।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সুনামগঞ্জ শহরের ট্রাফিক পয়েন্ট এলাকার ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন মমতাজ বেগম। সংবাদ সম্মেলনে বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সংবাদকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
লিখিত বক্তব্যে মমতাজ বেগম বলেন, দিরাই উপজেলার চাঁদপুর মৌজার আরএস ৩৪২ খতিয়ানের ১৮৮১ ও ১৮৮২ নম্বর দাগে মোট ২২ শতক ভিপি ভূমি রয়েছে। তার পরিবারের দাবি অনুযায়ী, এসব ভূমি সরকারের কাছ থেকে বৈধভাবে বন্দোবস্ত নেওয়ার পর দীর্ঘদিন ধরে তারা সেখানে বসবাস ও ভোগদখল করে আসছেন। পাশাপাশি নিয়মিত ডিসিআর ও সরকারি খাজনা পরিশোধ করা হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।
মমতাজ বেগমের অভিযোগ, স্থানীয় বাদল মল্লিক ও তার সহযোগীরা কথিত জাল দলিল এবং মিথ্যা ওয়ারিশান সনদ তৈরি করে ওই সম্পত্তির ওপর দাবি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এ সংক্রান্ত বিরোধের জেরে অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ আপিল ট্রাইব্যুনাল৩-এ অর্পিত সম্পত্তি আপিল মোকদ্দমা নং-৮৭/২০১৭ পরিচালিত হয় এবং সেখানে একটি রায় ও ডিক্রি হয়েছে।
তবে এসব নথি ও সম্পত্তির স্বত্ব নিয়ে পরবর্তী সময়ে আইনি বিরোধ তৈরি হয়েছে বলে জানান তিনি। বর্তমানে এ বিষয়ে বিজ্ঞ সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতে মামলা নং-০৭/২০২৪ এবং বিজ্ঞ যুগ্ম জেলা জজ, ২য় আদালতে স্বত্ব মোকদ্দমা নং-১৪/২০২৪ বিচারাধীন রয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।
মমতাজ বেগম আরও বলেন, জালিয়াতির অভিযোগ ও স্বত্বসংক্রান্ত মামলা বিচারাধীন থাকায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের রেভিনিউ মুন্সিখানা থেকে গত ১০ মার্চ স্মারক নং-০৫.৪৬.৯০০০.০২০.২৩.১৭২.২০২৬-২৬২(৩) মূলে দিরাই উপজেলা ভূমি অফিসকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে মামলা দুটি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ভূমির নামজারি কার্যক্রম স্থগিত রাখতে।
তার অভিযোগ, প্রশাসনিকভাবে নামজারি স্থগিত রাখার নির্দেশনা এবং আদালতে মামলা চলমান থাকার পরও বাদল মল্লিক ও তার সহযোগীরা দীর্ঘদিনের বসবাসরত পরিবারকে উচ্ছেদ করে ভূমি দখলের চেষ্টা করছেন। এ জন্য বিভিন্ন সময় তাকে ও পরিবারের সদস্যদের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।
মমতাজ বেগম বলেন, আমরা সরকারের কাছ থেকে বৈধভাবে বন্দোবস্ত নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ওই ভূমিতে বসবাস করছি এবং নিয়মিত সরকারি রাজস্ব পরিশোধ করে আসছি। বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন থাকা অবস্থায় আমাদের উচ্ছেদের চেষ্টা ও হুমকি দেওয়া হচ্ছে। আমরা এর সুষ্ঠু তদন্ত এবং পরিবারের নিরাপত্তা চাই
এ সময় তিনি সরকার, জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া এবং তার পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।
অভিযোগের বিষয়ে বাদল মল্লিকের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। ফলে তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে তার পক্ষের ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে দিরাই থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি যেহেতু বিজ্ঞ আদালতে মামলা চলমান রয়েছে, তাই মূল বিরোধের বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেওয়ার এখতিয়ার আদালতের। তবে মমতাজ বেগমকে কেউ হুমকি-ধমকি দিলে তিনি থানায় অভিযোগ করলে বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সংবাদ সম্মেলনে জয় চন্দ্র মল্লিক, রঞ্জন মল্লিকসহ স্থানীয় কয়েকজন উপস্থিত ছিলেন।
প্রীতম দাস/ ডিডি / প্রসি- ২০২৬
মন্তব্য করুন: