শাবিপ্রবিতে প্রশাসনিক নিষেধাজ্ঞা তোয়াক্কা না করে ছাত্রদলের বলয়

সঙ্গী স্বয়ং ভিসি!

শাবিপ্রবিতে প্রশাসনিক নিষেধাজ্ঞা তোয়াক্কা না করে ছাত্রদলের বলয়

শাবিপ্রবি প্রতিনিধি

১৮/০৯/২০২৬ ২১:৫৩:৪১

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) আবাসিক হলে রাজনৈতিক সভা-সমাবেশে প্রক্টর কার্যালয়ের সুস্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা কাগজ-কলমেই সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে। প্রক্টরের কোনো লিখিত অনুমতি না থাকা সত্ত্বেও শাহপরাণ হলে প্রকাশ্যেই দলীয় রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করেছে শাখা ছাত্রদলের একটি অংশ। আর বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও নিজস্ব নীতিমালা অমান্য করে আয়োজিত সেই বিতর্কিত কর্মসূচিতে সরাসরি প্রধান অতিথি হয়ে যোগ দিয়েছেন স্বয়ং উপাচার্যসহ প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা!

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬) জুম্মার নামাজ শেষে শাহপরাণ হলের টিভি রুমে শাখা ছাত্রদলের এক পক্ষের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয় ‘শহীদ জিয়া সাপ্তাহিক পাঠচক্র’। অথচ বিশ্ববিদ্যালয় রেজিস্ট্রার স্বাক্ষরিত নীতিমালায় স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে—একাডেমিক ভবন, প্রশাসনিক ভবন ও আবাসিক হলের অভ্যন্তরে যেকোনো ধরনের সভা-সমাবেশ বা মিছিল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। নীতিমালার এই স্পষ্ট লঙ্ঘন জানার পরও উপাচার্য অধ্যাপক ড. খায়রুল ইসলাম, ছাত্র উপদেশ ও নির্দেশনা পরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম এবং হল প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. মিজানুর রহমান সেখানে সশরীরে উপস্থিত থেকে নিজেদের তৈরি আইনকেই বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়েছেন বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

নিষেধাজ্ঞা থাকার পরও কীভাবে হলে এমন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের আয়োজন হলো—এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মোখলেছুর রহমান প্রথম সিলেটকে জানান, প্রক্টর কার্যালয় থেকে এ কর্মসূচির কোনো লিখিত অনুমতি দেওয়া হয়নি এবং দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। তিনি দায় ঠেলে দিয়ে বলেন, হলের ভেতরের শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব প্রভোস্ট বডির।

অন্যদিকে প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান দায়সারা বক্তব্য দিয়ে জানান, আনুষ্ঠানিক অনুমতি না থাকলেও মৌখিকভাবে তাঁকে জানানো হয়েছিল। তাঁর দাবি, "কর্মসূচি এত দীর্ঘ হবে তা বুঝতে পারিনি, আর উপাচার্য স্যার নিজেই চলে আসায় আমার আর অনুমতি দেওয়ার কিছু থাকে না।" প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিদের এমন লড়বড়ে ও দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্যে চরম ধোঁয়াশার সৃষ্টি হয়েছে।

এদিকে ছাত্রদল নেতারা রাজনৈতিক অধিকারের দোহাই দিয়ে কর্মসূচিকে বৈধ প্রমাণের চেষ্টা করলেও, খোদ উপাচার্য নীতিমালার তোয়াক্কা না করে কীভাবে সেখানে অংশ নিলেন—তা নিয়ে উঠেছে তীব্র প্রশ্নের ঝড়। নিয়মভঙ্গের বিষয়ে জানতে উপাচার্য অধ্যাপক ড. খায়রুল ইসলামের মোবাইল ফোনে একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

প্রশাসনের এমন দ্বিমুখী নীতি ও ক্ষমতাসীন ছাত্রসংগঠনের প্রতি পক্ষপাতমূলক আচরণের কারণে সাধারণ শিক্ষার্থী ও সচেতন মহলে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে।

নীরব চাকলাদার / নাইম / প্রসি-২০২৬

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad