শাল্লায় ইউপি চেয়ারম্যান পদে ২৬ দফা কর্মপরিকল্পনা নিয়ে মাঠে মাওলানা জাহিদ

শাল্লায় ইউপি চেয়ারম্যান পদে ২৬ দফা কর্মপরিকল্পনা নিয়ে মাঠে মাওলানা জাহিদ

নিজস্ব প্রতিনিধি,সুনামগঞ্জ

১৮/০৯/২০২৬ ২১:৩১:০৭

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলার ৪ নং শাল্লা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হিসেবে মানুষের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছেন মাওলানা নাজমুল ইসলাম জাহিদ। ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম, হাট ও বাজারে তাঁর পক্ষ থেকে ২৬ দফা কর্মপরিকল্পনা ও অঙ্গীকারসংবলিত ফেস্টুন স্থাপন করা হয়েছে। এসব কর্মপরিকল্পনায় বৈষম্যহীনতা, ন্যায্য অধিকার ও স্থানীয় উন্নয়নের বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে।

চব্বিশা গ্রামের সন্তান মাওলানা নাজমুল ইসলাম জাহিদ দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা, সাহিত্য, ধর্মীয় কর্মকাণ্ড, সমাজসেবা ও মানবিক উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। তিনি ২০০৬ সালে দাওরায়ে হাদিস সম্পন্ন করেন। পাশাপাশি কবিতা, ছড়া ও বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করে আসছেন। তাঁর রচিত ‘ছড়া পড়ি, জীবন গড়ি’সহ এ পর্যন্ত সাতটি গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে বলে তাঁর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। সামাজিক কর্মকাণ্ডকে সংগঠিত করতে তরুণদের নিয়ে তিনি ইসলামী সমাজ কল্যাণ যুব পরিষদ প্রতিষ্ঠা করেন। এছাড়া শাল্লা উপজেলা উলামা ঐক্য পরিষদ গঠনের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। বর্তমানে তিনি জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ, সুনামগঞ্জ জেলা শাখার অর্থ সম্পাদক এবং শাল্লা উপজেলা জমিয়তের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন।

স্থানীয় পর্যায়ে তাঁর মানবিক কর্মকাণ্ডের মধ্যেও রয়েছে বিভিন্ন উদ্যোগ। করোনাকালে আক্রান্ত রোগীদের সেবা ও দাফন কাফনে অংশ নেওয়া, ২০২৪ সালের বন্যায় ত্রাণ বিতরণ এবং অসহায় ও অসুস্থ মানুষের চিকিৎসা সহায়তায় এগিয়ে আসার কথা জানিয়েছেন তিনি।

হাওরাঞ্চলের মানুষের দুর্ভোগ কমাতে বৈশাখ মাসে জমাটবদ্ধ পানি নিষ্কাশনের প্রয়োজন হলে পাইপ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়ার কথাও উল্লেখ করেছেন নাজমুল ইসলাম জাহিদ। সর্বশেষ ১৬ সেপ্টেম্বর শাল্লা সদর হাসপাতালে রোগীদের মধ্যে শুকনো খাবার বিতরণ করেন তিনি। এছাড়া ঈদুল ফিতরে ১১০ জন এতিম ও অসহায় শিশুর মধ্যে পোশাক এবং ঈদুল আজহায় দুই শতাধিক এতিম, অসহায় শিশু ও বিধবার মধ্যে গোশত বিতরণের উদ্যোগ নেওয়ার তথ্যও তাঁর পক্ষ থেকে দেওয়া হয়েছে।

চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হিসেবে নাজমুল ইসলাম জাহিদ ইউনিয়নের মানুষের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময়ের উপর গুরুত্ব দিচ্ছেন। তাঁর ঘোষিত ২৬ দফা কর্মপরিকল্পনায় স্থানীয় মানুষের অধিকার, সামাজিক বৈষম্য দূরীকরণ এবং ইউনিয়নের উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

নাজমুল ইসলাম জাহিদ বলেন, শাল্লা ইউনিয়নের মানুষের দীর্ঘদিনের সমস্যা ও প্রত্যাশাগুলো কাছ থেকে দেখেছি। চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে মানুষের মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে স্বচ্ছতা, ন্যায্য অধিকার ও প্রয়োজনভিত্তিক উন্নয়ন কার্যক্রমকে অগ্রাধিকার দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে। ২৬ দফা কর্মপরিকল্পনার মাধ্যমে ইউনিয়নের প্রতিটি গ্রামের মানুষের কাছে আমার পরিকল্পনা তুলে ধরছি।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, চেয়ারম্যান পদে প্রার্থিতা ঘিরে বিভিন্ন প্রার্থী নিজেদের কর্মপরিকল্পনা ও অঙ্গীকার নিয়ে মানুষের কাছে যাচ্ছেন। ফলে ইউনিয়নের উন্নয়ন, নাগরিকসেবা, হাওরাঞ্চলের সমস্যা এবং জনসম্পৃক্ততার বিষয়গুলোও আলোচনায় আসছে।

মাওলানা নাজমুল ইসলাম জাহিদের দীর্ঘদিনের শিক্ষা, সাহিত্য ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি এবার চেয়ারম্যান পদে তাঁর প্রার্থিতা এবং ঘোষিত ২৬ দফা কর্মপরিকল্পনা স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিসরে নতুন আলোচনার সৃষ্টি করেছে।

প্রীতম দাস/ ডিডি / প্রসি-২০২৬

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad