সিলেটে বিএনপি নেতার ‘গণধোলাই’ হুমকির পর এনসিপির কড়া নির্দেশনা
রাজধানীর একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে সিলেটের রাজনৈতিক অঙ্গন। বক্তব্য ও পাল্টা বক্তব্যের জেরে যেকোনো সময় পরিস্থিতি ঘোলাটে হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে উসকানি কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্ররোচনায় না পড়ে শান্ত থাকতে নেতাকর্মীদের কঠোর নির্দেশনা দিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) সিলেট মহানগর।
আজ বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) এনসিপি সিলেট মহানগরের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মো. আব্দুর রহমান আফজাল এবং সদস্যসচিব মো. কিবরিয়া সারওয়ার স্বাক্ষরিত এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এ সতর্কবার্তা জারি করা হয়।
ঘটনার সূত্রপাত গত সোমবার, ঢাকায় এক মিছিল শেষে এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী মন্তব্য করেন—‘তিন দাবি মানলে ককটেল ফুটবে না’। এই বক্তব্যের তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায় সিলেটে। বুধবার সিলেট মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী প্রকাশ্যে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে দেখা মাত্রই ‘লাঠিপেটা ও গণধোলাই’ দেওয়ার ঘোষণা দেন। বিএনপি নেতার এই চরম রাজনৈতিক মন্তব্যের পর সিলেটের সচেতন মহলে নতুন করে রাজনৈতিক উত্তেজনার পারদ চড়তে শুরু করে।
বিএনপি নেতার এমন বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানালেও সংঘাতের পথে না হেঁটে ধৈর্যের পথ বেছে নিয়েছে এনসিপি। জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে দলটির পক্ষ থেকে বলা হয়, প্রকাশ্যে গণধোলাইয়ের হুমকি দেওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক ও রাজনৈতিক শিষ্টাচারবহির্ভূত। তবে এ ধরনের উসকানিতে আবেগতাড়িত হয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা বাইরে কোনো অশালীন কিংবা পাল্টা প্রতিক্রিয়া দেখানো যাবে না।
এনসিপির সিলেটের নেতৃবৃন্দ স্মরণ করিয়ে দেন, ধৈর্য, সহনশীলতা ও গণতান্ত্রিক চর্চাই তাঁদের মূল শক্তি। সিলেটের ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক পরিবেশ ও শান্তি-শৃঙ্খলা অক্ষুণ্ন রাখতে পাল্টাপাল্টি কাদা ছোড়াছুড়ি থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে মহানগরের আওতাধীন সকল থানা, ওয়ার্ড কমিটি এবং সহযোগী সংগঠন—ছাত্রশক্তি, যুবশক্তি, শ্রমিক শক্তি ও ন্যাশনাল ল অ্যালায়েন্সের নেতাকর্মীদের কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের বাইরে ব্যক্তিগত উদ্যোগে কোনো উত্তেজনাকর কর্মকাণ্ডে না জড়াতে কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নীরব চাকলাদার/ ডিডি/ প্রসি-২০২৬
মন্তব্য করুন: