কমলগঞ্জে কুরমা চা বাগানে চা শ্রমিকদের মজুরি ও নির্বাচনের দাবিতে বিক্ষোভ

কমলগঞ্জে কুরমা চা বাগানে চা শ্রমিকদের মজুরি ও নির্বাচনের দাবিতে বিক্ষোভ

নিজস্ব প্রতিনিধি, কমলগঞ্জ

২২/০৭/২০২৬ ২০:৩১:১১

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

সংসদে উত্থাপিত চা শ্রমিকদের দৈনিক ৫০০ টাকা মজুরি কার্যকর, কুরমা চা বাগানের বকেয়া মজুরিসহ শ্রমিকদের সকল পাওনা পরিশোধ এবং শ্রম অধিদপ্তরের অবৈধ হস্তক্ষেপ ছাড়া চা শ্রমিক ইউনিয়নের অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন চা শ্রমিকরা।

বুধবার (২২ জুলাই) সকালে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে কুরমা চা বাগানে সাধারণ চা শ্রমিক ও ছাত্র যুবকবৃন্দের ব্যানারে এ বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, জাতীয় সংসদে চা শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি ৫০০ টাকা করার প্রস্তাব উত্থাপিত হলেও তা পরবর্তীতে প্রত্যাহার করা হয়, যা চা শ্রমিকদের মধ্যে গভীর হতাশা ও ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। তাই অবিলম্বে দৈনিক ৫০০ টাকা মজুরি কার্যকর করার দাবি জানান তারা।

বক্তারা আরও বলেন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে বর্তমান মজুরিতে শ্রমিকদের পরিবার চালানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে। সন্তানদের শিক্ষা, চিকিৎসা ও নিত্যপ্রয়োজনীয় ব্যয় নির্বাহ করতে গিয়ে অনেক শ্রমিক ঋণগ্রস্ত হচ্ছেন। এর পাশাপাশি কুরমা চা বাগানের শ্রমিকদের টানা চার সপ্তাহের মজুরি বন্ধ থাকায় শত শত শ্রমিক পরিবার মানবেতর জীবনযাপন করছে। তারা অবিলম্বে চার সপ্তাহের বকেয়া মজুরি ও শ্রমিকদের সকল আইনসিদ্ধ পাওনা পরিশোধের দাবি জানান।

সমাবেশ থেকে দাবি জানানো হয়, শ্রম অধিদপ্তরের কোনো ধরনের অবৈধ হস্তক্ষেপ ছাড়া চা শ্রমিক ইউনিয়নের অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজন করতে হবে, যাতে শ্রমিকরা স্বাধীনভাবে নিজেদের প্রতিনিধি নির্বাচন করতে পারেন।

সমাবেশে বক্তব্য রাখেন চা শ্রমিক নারী নেত্রী গীতা রানী কানু, ইউপি সদস্য নরুল হক এবং শমশেরনগর চা বাগানের শ্রমিক নেত্রী লছমি রানী রাজভর, সুজিত পাশা প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, চা শিল্প দেশের অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ খাত। অথচ এই শিল্পের মূল চালিকাশক্তি চা শ্রমিকরা এখনও ন্যায্য মজুরি ও মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত। তারা অবিলম্বে সংসদে উত্থাপিত দৈনিক ৫০০ টাকা মজুরি কার্যকর, চার সপ্তাহের বকেয়া মজুরি ও সকল পাওনা পরিশোধ এবং শ্রমিকদের গণতান্ত্রিক অধিকার নিশ্চিত করতে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

তাহির আহমদ/ মীর্জা ইকবাল

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad